কোন রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় গ্রুপ ‘বি’? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৪ May, ২০২৬

কোন রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় গ্রুপ ‘বি’?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৪ May, ২০২৬ |
‘এ’ গ্রুপের মতো মৃত্যুকূপ হয়তো নয়, তবু ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপ কম রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষা করছে না। কানাডা, বসনিয়া হার্জেগোভিনা, কাতার এবং সুইজারল্যান্ড— চারটি দলই শক্তিসামর্থ্যে অনেকটাই কাছাকাছি মানের। প্রায় কাছাকাছি মানের ইতিহাসের হাতছানিও আছে অন্তত তিনটি দলের সামনে। কানাডা এই বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক। তারা ১৯৮৬ সালের পরে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলছে। বসনিয়া-হার্জেগোভিনা পরপর দুটো পেনাল্টি শুটআউটে ইতালিকে হারিয়ে এসেছে। কাতার এবার আয়োজক দেশ হিসেবে নয়, মাঠে লড়াই করে বিশ্বকাপে এসেছে। আর সুইজারল্যান্ড ছয়বার ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকাপে এসেছে। সুইজারল্যান্ড বাদে এই গ্রুপের কোনো দলই নকআউটে খেলেনি কখনো। ফলে এই গ্রুপ থেকে যে এবারের বিশ্বকাপে একটা ইতিহাস হচ্ছেই, সেটা একরকম নিশ্চিত। দল প্রিভিউ-কানাডা ২ বার

বিশ্বকাপ খেললেও কানাডা কখনোই গ্রুপ পর্বের গণ্ডি ছাপিয়ে যেতে পারেনি। সে গণ্ডিটা ছাপিয়ে দলকে নকআউটে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কোচ জেসে মার্শকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে গেল ২০২৪ সালে। কানাডার পরিচয় হলো হাই প্রেসিং ফুটবল। তারা প্রতিপক্ষের অর্ধে বল দখলে নিয়ে দ্রুতই আক্রমণে যেতে পছন্দ করে। দলে আলফনসো ডেভিস এবং তাজোন বুকানানের মতো গতিশীল খেলোয়াড় আছেন। ওদিকে জোনাথন ডেভিড তো রীতিমতো বিশ্বমানের স্ট্রাইকারই। মার্চে ইনজুরিজর্জর দল নিয়েও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ০-২ থেকে ফিরে ২-২ ড্র করেছে কানাডা। সে ম্যাচে জোনাথন ডেভিড দুটো পেনাল্টি গোল করেন। এরপর তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে ০-০ গোলে ড্র করেছে দলটি। প্রতিপক্ষ বিচার করে কোচ জেসে মার্শ ৪-৪-২ বা ৪-২-৩-১ ছকে দল সাজান। ফর্মেশন

যাই হোক, হাই প্রেসিংয়ের সঙ্গে কানাডার সবচেয়ে বড় ট্রেডমার্ক হলো তাদের ডিরেক্ট আক্রমণ। আক্রমণের ধরন কানাডার আক্রমণ সাধারণত শেষ হয় খুবই দ্রুত। শুরুর মিনিট থেকেই প্রতিপক্ষকে সাঁড়াশি আক্রমণে চেপে ধরতে পছন্দ করে দলটি। কানাডার সেরা ফুটবল প্রথম ২০ মিনিটে দেখা যায়। তখন প্রেসিং সবচেয়ে তীব্র থাকে। জুভেন্টাস ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড শেষ ৫ বছর ধরে আছেন দারুণ ফর্মে। আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটো পেনাল্টিতে তার ঠান্ডা মাথার প্রমাণ দিয়েছেন। ৩৯টি আন্তর্জাতিক গোল নিয়ে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপও মাতাতে প্রস্তুত তিনি। আলফনসো ডেভিস বাম প্রান্ত থেকে কানাডার আক্রমণের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। তার গতি, ক্রস প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তবে তার ফিটনেস এই দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তাজোন বুকানান

ভিয়ারিয়ালে খেলেন। তার ডিরেক্ট আক্রমণ ও শারীরিক শক্তি ডিফেন্ডারদের কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে। তবে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি লাল কার্ড দেখেছেন। শেষ আট ম্যাচে চারটি লাল কার্ড জানান দিচ্ছে, কার্ড হজম নিয়ে বড় একটা সমস্যাই হতে পারে তাকে নিয়ে। রক্ষণভাগ বম্বিতো এবং কর্নেলিয়াস সেন্ট্রাল ডিফেন্সে খেলেন। নিসে খেলা বম্বিতো লিগ ওয়ানের শীর্ষ ডিফেন্ডারদের একজন। তবে মাত্রই পায়ের চোট থেকে সেরে উঠছেন ফলে কার্যকরিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার গোলবারের নিচে থাকবেন। তিনি ২০২৫ মেজর লিগ সকারের সেরা গোলকিপার পুরস্কার পেয়েছেন। বাম দিকে ডেভিস উপরে উঠলে রক্ষণ মূলত থ্রি-ব্যাকে পরিণত হয়। এটা কর্নেলিয়াস বা ডান সেন্টারব্যাক হিসেবে যিনি থাকবেন, তাদের উপর অনেক চাপ

সৃষ্টি করে। চ্যালেঞ্জ লাল কার্ডের ধারা থামাতে হবে। শেষ আট ম্যাচে চারটি লাল কার্ড কাকতালীয় ব্যাপার নয়। বিশ্বকাপে এক জন কম নিয়ে বসনিয়া বা সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা মানেই বাড়ি ফেরার সম্ভাবনা আরও প্রবল হয়ে যাওয়া। কখন প্রেস করতে হবে আর কখন মিড-ব্লকে ফিরতে হবে সেটা বুঝতে হবে। সুইজারল্যান্ডের মতো টেকনিকালি স্কিলড দল হাইপ্রেসের ঠিক পেছনে ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করতে চাইবে। জুনের মধ্যে সব মূল খেলোয়াড়কে চোট কাটিয়ে শতভাগ ফিট হয়ে মাঠে নামাতে হবে। কানাডার সম্ভাব্য একাদশ সেন্ট ক্লেয়ার; জনস্টন, বম্বিতো, কর্নেলিয়াস, ডেভিস; বুকানান, কোনে, ইউস্তাকিও, আহমেদ; লারিন, ডেভিড। কানাডার সেট পিস তথ্য ডিরেক্ট ফ্রি কিক: স্টিফেন ইউস্তাকিও, মাথিউ শোয়িনিয়ের পেনাল্টি: জোনাথন ডেভিড দল প্রিভিউ- বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা বসনিয়ার বিশ্বকাপে আসার গল্পটা

অবিশ্বাস্য। ২৬ মার্চ কার্ডিফে ওয়েলসকে পেনাল্টিতে হারিয়েছে। পাঁচ দিন পরে জেনিকার স্তাদিওন বিলিনো পোলেতে ইতালিকে হারিয়ে দলটা এসেছে বিশ্বকাপে। কোচ সের্গেই বারবারেজ কোনো সিনিয়র কোচিং অভিজ্ঞতা ছাড়াই এপ্রিল ২০২৪-এ দায়িত্ব নিয়েছেন দলটির। তার অধীনে দলটি কানাডার মতো প্রতিপক্ষ বিবেচনায় ৪-৪-২ বা ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে খেলে। খেলার ধরন অত্যন্ত ফিজিক্যাল এবং ডিরেক্ট। তাদের ডিফেন্স লাইন থাকে অনেক নিচে, তবে বল দখলে নিয়ে দ্রুত প্রতি আক্রমণে ওঠে বসনিয়ানরা। আক্রমণের ধরন এডিন জেকো ৪০ বছর বয়সেও দলের আক্রমণের কেন্দ্রে থাকেন। ১৪৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই ফরোয়ার্ডের ৭৩ আন্তর্জাতিক গোল আছে। এটাই তার শেষ বড় টুর্নামেন্ট হতে চলেছে। শালকে জিরো ফোরে বুন্দেসলিগার ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা বনে গেছেন।

তার হোল্ড-আপ প্লে এবং বক্সে উপস্থিতি এখনও বিপজ্জনক। স্টুটগার্টের এরমেদিন দেমিরোভিচ মোবাইল ফরোয়ার্ড পার্টনার। তার প্রেসিং ও স্পেস তৈরির ক্ষমতা জেকোকে গোলের সুযোগ দেয়। পিএসভি আইন্দহোভেনের এসমির বাজরাক্তারেভিচ ডান দিকে তীব্র গতিতে আক্রমণ করেন। পুরো প্লেঅফে তার পারফরম্যান্স দুর্দান্ত ছিল। বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের হারিস তাবাকোভিচ গোলের বিকল্প হিসেবে আছেন। জেনিকায় ইতালির বিরুদ্ধে গোল করে প্রমাণ দিয়েছেন তিনি বড় মুহূর্তে আলো কেড়ে নিতে বেশ পটু। বসনিয়া সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে প্রতিটি অর্ধের প্রথম ১৫ মিনিটে। রক্ষণভাগ সেন্ট পাউলির নিকোলা ভাসিলি এই মৌসুমে বুন্দেসলিগায় দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। তিনি সেন্ট্রাল ডিফেন্স অভিজ্ঞ ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী। তাহিরোভিচ এবং ইভান সুনজিচ মাঝমাঠে রক্ষণের জন্য ঢাল তৈরি করেন। বসনিয়া সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে যখন প্রতিপক্ষ দ্রুত ট্রানজিশনে উঠে আসে। কানাডা ও সুইজারল্যান্ড উভয়েরই সেই ক্ষমতা আছে। চ্যালেঞ্জ ৪০ বছর বয়সী জেকোকে বুঝে শুনে খেলাতে হবে। তিনটি গ্রুপ ম্যাচে ৯০ মিনিট খেলালে ফিটনেস বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কানাডাকে হারানোর চেষ্টা করতে হবে। বিএমও ফিল্ডে একটা পয়েন্ট গ্রুপের হিসেবে যথেষ্ট নাও হতে পারে। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কাউন্টার-প্রেসের কৌশলে খেলতে হবে। কারণ সুইসরা সবচেয়ে টেকনিক্যালি স্কিলড দল। সম্ভাব্য একাদশ ভাসিলি; দেদিচ, কাতিচ, মুহারেমোভিচ, কোলাসিনাচ; বাজরাক্তারেভিচ, তাহিরোভিচ, সুনজিচ, মেমিচ; জেকো, দেমিরোভিচ। বসনিয়ার সেট পিস তথ্য ডিরেক্ট ফ্রি কিক: এডিন জেকো, এসমির বাজরাক্তারেভিচ পেনাল্টি: এডিন জেকো, কেরিম-স্যাম আলাজবেগোভিচ, আমির হাদজিআহমেতোভিচ দল প্রিভিউ- কাতার কাতারের প্রস্তুতিটা খুব ভালো হয়নি। মার্চে সার্বিয়া ও আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে খেলার কথা থাকলেও ইরান যুদ্ধের কবলে পড়ে তা বাতিল হয়। কোচ হুলেন লোপেতেগি পরিবর্তে ট্রেনিং ক্যাম্প পরিচালনা করেছেন। কাতার ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেনি। তার আগে আরব কাপে ফিলিস্তিন ও তিউনিসিয়ার কাছে হেরে এবং সিরিয়ার সাথে ড্র করে গ্রুপ পর্বে বাদ পড়েছে। তবে ব্যক্তিগত মানে আকরাম আফিফ সত্যিকারের বিশ্বমানের খেলোয়াড়। আল সাদে খেলেন। ভিয়ারিয়ালে লোনে গিয়ে লা লিগায় কাতারের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস করেছেন। এপ্রিল মাঝামাঝি পর্যন্ত ২১ লিগ ম্যাচে ১৪ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট করেছেন। কোচ লোপেতেগি স্পেন, রিয়াল মাদ্রিদ ও সেভিয়াতে কাজ করেছেন। ২০২০ সালে ইউরোপা লিগ জিতেছেন। তিনি মে ২০২৫-এ কাতারের কোচ হয়েছেন। তার পছন্দের ফর্মেশন ৪-২-৩-১ বা ৪-৩-৩। কম্প্যাক্ট রক্ষণ এবং দ্রুত ট্রানজিশনের উপর জোর দেয় তার দল। আক্রমণের ধরন আকরাম আফিফ কাতারের পুরো সিস্টেমের কেন্দ্র। বাম বা ডান যে পাশেই থাকুন না কেন, সে পাশ থেকে সেন্ট্রাল হাফ-স্পেসে ঢুকে পড়েন। সুযোগ তৈরি করেন এবং নিজেও গোল করেন। তিনি একাই একটা ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারেন। আলমোয়েজ আলি সেন্টার ফরোয়ার্ড। তার ৫৫টি আন্তর্জাতিক গোল আছে। এশিয়ান কাপ, কোপা আমেরিকা এবং কনকাকাফ গোল্ড কাপ তিনটিতেই গোল করেছেন তিনি। আফিফের সাথে তার সম্পর্ক কাতারের আক্রমণের মূল চাবিকাঠি। আসিম মাদিবো মাঝমাঠে ওয়ার্কহর্স। আফিফ ওপরের দিকে স্বাধীনভাবে খেলতে পারেন, কারণ নিচের দিকে তিনি রক্ষণের দায়িত্বে থাকেন। রক্ষণাত্মক ব্লক থেকে দ্রুত ট্রানজিশনে উঠে আসাটাই কাতারের টেক্সটবুক আক্রমণের ধরন। রক্ষণভাগ মেশাল বারশাম গোলের নিচে আছেন। এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম অভিজ্ঞ গোলকিপার তিনি। বোয়ালেম খোউখি এবং লুকাস মিশেল মেন্দেস সেন্টারব্যাক পজিশনে বেশ ভালো স্থিতি দিয়েছেন দলটাকে। ফুলব্যাক পজিশনগুলো দলের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা। চ্যালেঞ্জ মে ২৮-এ ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচকে সত্যিকারের পরীক্ষা হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। গ্রুপের শেষ ম্যাচ বসনিয়ার বিরুদ্ধে জেতার মানসিকতা রাখতে হবে। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আফিফকে রক্ষা করতে হবে। তিনি ইনজুরি বা সাসপেনশনে পড়লে কাতারের টুর্নামেন্ট কার্যত শেষ। সম্ভাব্য একাদশ বারশাম; আল ওউই, খোউখি, মেন্দেস, মিগুয়েল; এডমিলসন, বোউদিয়াফ, মাদিবো; আফিফ, আলমোয়েজ আলি, আল মান্নাই। সেট পিস তথ্য ডিরেক্ট ফ্রি কিক: আকরাম আফিফ, আলমোয়েজ আলি পেনাল্টি: আকরাম আফিফ, আলমোয়েজ আলি দল প্রিভিউ- সুইজারল্যান্ড ২০০২ সালের পর থেকে কোনো বিশ্বকাপ মিস না করা সুইজারল্যান্ড রোমাঞ্চ জাগানিয়া দল ঠিক নয়, তবে তারা দল হিসেবে অসাধারণ ধারাবাহিক। আর বিশ্বকাপে এটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোচ মুরাত ইয়াকিনের দল কোয়ালিফাইং গ্রুপে শীর্ষে শেষ করেছে। ছয়টি ম্যাচে কোনো হার নেই। মাত্র দুটো গোল খেয়েছে। শেষ ৬ বছরে ইউরোয় ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনকে নক-আউট পর্বে হারিয়েছে। ফলে কেউ আর তাদের সহজ প্রতিপক্ষ ভাবে না। মার্চের উইন্ডোতে জার্মানির বিরুদ্ধে বাসেলে ৩-২ এগিয়ে ছিল। শেষে ৪-৩ হেরেছে। তিন দিন পরে নরওয়ের সাথে ০-০ ড্র করেছে। আক্রমণের ধরন সুইজারল্যান্ডের আক্রমণ গঠিত হয় ফ্ল্যাঙ্কের গতি, কেন্দ্রে শারীরিক শক্তি এবং মাঝমাঠের টেকনিকালিটির মিশেলে। নটিংহাম ফরেস্টের ড্যান এনডোয়ে ডান দিকের প্রধান আক্রমণ হুমকি। তার গতি, সরাসরি আক্রমণ এবং ফিনিশিং ক্ষমতা ট্রানজিশনে ও ক্রসে ধারাবাহিকভাবে সুযোগ তৈরি করে। রেনের ব্রিল এম্বোলো সেন্টার ফরোয়ার্ড। শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী। জার্মানির বিরুদ্ধে দারুণ এক গোলও আছে তার, যা বিশ্বকাপেও তাকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে। রেমো ফ্রয়লার ও ফাবিয়ান রিডার মাঝমাঠ ও আক্রমণের মধ্যে সংযোগ তৈরি করেন। সুইজারল্যান্ড সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত তৈরি করে রক্ষণ থেকে ট্রানজিশনে। জাকা এনডোয়েকে দ্রুত খুঁজে পান এবং প্রতিপক্ষ রক্ষণে ডান দিক কোনোভাবে ফাঁকা পেয়ে গেলে গোলেও রূপ নেয় অহরহই। রক্ষণভাগ আকাঞ্জি ও শার সেন্ট্রাল ডিফেন্সে গ্রুপের সেরা জুটিগুলোর একটা। ইন্টার মিলানে আকাঞ্জির চ্যাম্পিয়নস লিগের অভিজ্ঞতা তাকে আরও শীর্ষমানের করে তুলেছে। শার ডান সেন্ট্রাল ডিফেন্সে এরিয়াল ডুয়েলে দলকে স্থিতি এনে দেন। তবে এই মৌসুমে অনেক ইনজুরিতে ছিলেন। প্রায় চার মাস মিস করেছেন। তিনি না পারলে নিকো এলভেদি শুরু করতে পারেন। রিকার্দো রদ্রিগেজ বাম ফুলব্যাকে এক দশকের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছেন বিশ্বকাপে। গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল ডর্টমুন্ডে ভালো ফর্মে আছেন। চ্যালেঞ্জ কানাডা ম্যাচে তাদের রক্ষণের দুর্বলতা কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি আলফনসো ডেভিস ও বুকানানকে পাল্টা আক্রমণে স্বাধীনতা না দেওয়ার ব্যালেন্সটাও খুঁজে বের করতে হবে। এম্বোলোকে জুনের মধ্যেই ফর্মে ফিরতে হবে। রেনেতে এই মৌসুমে তার পারফরম্যান্স ওঠানামা করছে। ফাবিয়ান শারের ফিটনেস নিশ্চিত করতে হবে। তার নেতৃত্ব এবং অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাব্য একাদশ কোবেল; উইডমার, শার, আকাঞ্জি, রদ্রিগেজ; ফ্রয়লার, জাকা; ভার্গাস, রিডার, এনডোয়ে; এম্বোলো। সেট পিস তথ্য ডিরেক্ট ফ্রি কিক: গ্রানিট জাকা, রিকার্দো রদ্রিগেজ পেনাল্টি: গ্রানিট জাকা, ব্রিল এম্বোলো, জেকি আমদৌনি প্রেডিকশন কে পরবর্তী রাউন্ডে যাবে? সুইজারল্যান্ড এই গ্রুপ জিতবে। প্রথম কারণ হচ্ছে, পরপর বড় টুর্নামেন্টে নক-আউট পর্বে অংশগ্রহণ করেছে। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে আকাঞ্জি, জাকা, কোবেল ও এনডোয়ে সত্যিকারের ইউরোপীয় এলিট মানের। এদিকে কোচ ইয়াকিনও ফলাফল বের করতে জানেন ভালোভাবেই। দ্বিতীয় স্থান নিয়ে লড়াই হবে কানাডা ও বসনিয়ার মধ্যে। কানাডা কাগজে-কলমে বেশি প্রতিভাধর। বসনিয়া পরপর দুটো পেনাল্টি শুটআউট জিতে এসেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ বি প্রথম দিন থেকেই অনেক আকর্ষণীয়। সুইজারল্যান্ড শীর্ষে থাকবে বলে মনে হয়। কিন্তু দ্বিতীয় স্থানের লড়াই শেষ পর্যন্ত অনিশ্চিত। ফলে শেষ দিন পর্যন্ত রোমাঞ্চ ছড়াতে পারে এই গ্রুপ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের