ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল
চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা
ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট
ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না
হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি
ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প
মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৫৩৭ কোটির সাম্রাজ্য গড়লেন তরুণী
কনিকা টেকরিওয়াল—‘জেটসেটগো’ (JetSetGo)-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। ২০২১ সালে ভারতের সবচেয়ে ধনী স্বনির্ভর নারীদের তালিকায় তার নাম উঠে আসে। জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়া’র পঞ্চম সিজনেও দেখা গেছে তাকে। তবে অনেকেরই হয়তো অজানা যে, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে মর্যাদাপূর্ণ ‘ফোর্বস ৩০ আন্ডার ৩০’ তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছিলেন কনিকা।
মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে কীভাবে তিনি ৫৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, সেই গল্প শুধু অনুপ্রেরণাদায়কই নয়; বরং এটি শেখায় যে—সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার অদম্য মানসিকতা ভাগ্যকে যেকোনো দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে।
অল্প বয়সেই বিয়ের চাপ, ২২ বছরে ক্যানসার ধরা পড়ে
কনিকার জন্ম এক মাড়োয়ারি পরিবারে। ছোটবেলা
থেকেই অর্থ ও ব্যবসার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। তবে তার পরিবারের চাওয়া ছিল, মেয়ে পড়ালেখা শেষ করে কোনো ধনী পরিবারে বিয়ে করুক। অনেক মাড়োয়ারি পরিবারে মেয়েদের নিয়ে এমন গতানুগতিক প্রত্যাশাই থাকে। ভোপালে স্কুলজীবনের পাঠ চুকিয়ে স্নাতকের জন্য কনিকা পাড়ি জমান ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে। ২১ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি পরিবারের প্রত্যাশা মেনেই চলেছিলেন। এরপরই তিনি নিজস্ব ব্যবসা শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই তার স্টেজ-২ হজকিনস লিম্ফোমা (এক ধরনের ক্যানসার) ধরা পড়ে। ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়ায় কনিকা বলেন, ‘আমার বয়স তখন ২১। ৪০ জন চিকিৎসক আমাকে বলেছিলেন, আমি আর মাত্র চার মাস বা চার দিন বাঁচব। এরপর মুম্বাইয়ে
এক চিকিৎসকের সঙ্গে আমার দেখা হয়। আমি তাকে বলেছিলাম, ‘আমরা ৪০ বছর পর একসঙ্গে বসে পান করব, আপাতত চলুন কাজের কথা বলি।’ ২০২২ সালে ‘ভোগ ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরার পর আমি বুঝতে পারি যে, জীবনটা অনেক ছোট। আমাকে নিজের জন্য বাঁচতে হবে এবং আমার কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ, সেটাই করতে হবে।’ একটি প্রাইভেট জেট বা ব্যক্তিগত বিমানের কোম্পানি শুরু করাটা তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না, তবে তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং ‘আকাশে উড়তে’ চেয়েছিলেন। ৭ হাজার টাকার বিনিয়োগ থেকে ৫৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার সাম্রাজ্য ২০১৪ সালে কনিকা প্রতিষ্ঠা করেন ‘জেটসেটগো’। ‘টাইমস এন্টারটেইনমেন্ট’-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘অনেকেই
আমাকে জিজ্ঞেস করেন, বাইরে থেকে তহবিল সংগ্রহ না করে আমি কীভাবে এটি করলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ পর্যন্ত আমি মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছি, আর এখন আমরা ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাইভেট জেট বহর পরিচালনা করছি।’ উড়োজাহাজ বা এভিয়েশন খাতটি মূলত পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত। তাই কনিকাকে যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল পিতৃতন্ত্রকে জয় করা। ২০১৭ সালে ‘দ্য বেটার ইন্ডিয়া’কে তিনি বলেন, ‘আমি যে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, সেখানে মানুষ শুরুতে আমাকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। এমনকি আমাকে এমন কথাও শুনতে হয়েছে যে ‘আপনার বরং কাপকেক বানানোর কাজ করা উচিত’ বা এ ধরনের আরও অনেক কথা। কখনো কখনো আমি যখন নিজের সিদ্ধান্তে
অটল থাকি, তখন আমাকে অহংকারী ভাবা হয়। অথচ একজন পুরুষ আমার চেয়েও বেশি দৃঢ়তা দেখালে তাকে বলা হয় প্যাশনেট বা উদ্যমী। তবে এসব একেবারেই গুরুত্বহীন বিষয়।’ সাফল্যের পথটা বেশ বন্ধুর ছিল, কিন্তু একবার ডানা মেলার পর কনিকাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আজ তার কোম্পানির রয়েছে প্রাইভেট জেট ও হেলিকপ্টারের সবচেয়ে বড় বহর। পুনিত ডালমিয়া এবং ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের মতো ব্যক্তিরা এ ব্র্যান্ডে বিনিয়োগ করেছেন। মুম্বাই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, নিউইয়র্ক ও দুবাইয়ে এ কোম্পানির কার্যক্রম রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে হায়দরাবাদভিত্তিক ব্যবসায়ী এবং অরবিন্দ ফার্মার নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পি শরৎ চন্দ্র রেড্ডিকে বিয়ে করেছেন কনিকা টেকরিওয়াল। বিয়ের চার বছর পর ২০২৬ সালের ২৮ মে তাদের কোল
আলো করে আসে এক পুত্রসন্তান।
থেকেই অর্থ ও ব্যবসার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। তবে তার পরিবারের চাওয়া ছিল, মেয়ে পড়ালেখা শেষ করে কোনো ধনী পরিবারে বিয়ে করুক। অনেক মাড়োয়ারি পরিবারে মেয়েদের নিয়ে এমন গতানুগতিক প্রত্যাশাই থাকে। ভোপালে স্কুলজীবনের পাঠ চুকিয়ে স্নাতকের জন্য কনিকা পাড়ি জমান ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে। ২১ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি পরিবারের প্রত্যাশা মেনেই চলেছিলেন। এরপরই তিনি নিজস্ব ব্যবসা শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই তার স্টেজ-২ হজকিনস লিম্ফোমা (এক ধরনের ক্যানসার) ধরা পড়ে। ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়ায় কনিকা বলেন, ‘আমার বয়স তখন ২১। ৪০ জন চিকিৎসক আমাকে বলেছিলেন, আমি আর মাত্র চার মাস বা চার দিন বাঁচব। এরপর মুম্বাইয়ে
এক চিকিৎসকের সঙ্গে আমার দেখা হয়। আমি তাকে বলেছিলাম, ‘আমরা ৪০ বছর পর একসঙ্গে বসে পান করব, আপাতত চলুন কাজের কথা বলি।’ ২০২২ সালে ‘ভোগ ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরার পর আমি বুঝতে পারি যে, জীবনটা অনেক ছোট। আমাকে নিজের জন্য বাঁচতে হবে এবং আমার কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ, সেটাই করতে হবে।’ একটি প্রাইভেট জেট বা ব্যক্তিগত বিমানের কোম্পানি শুরু করাটা তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না, তবে তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং ‘আকাশে উড়তে’ চেয়েছিলেন। ৭ হাজার টাকার বিনিয়োগ থেকে ৫৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার সাম্রাজ্য ২০১৪ সালে কনিকা প্রতিষ্ঠা করেন ‘জেটসেটগো’। ‘টাইমস এন্টারটেইনমেন্ট’-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘অনেকেই
আমাকে জিজ্ঞেস করেন, বাইরে থেকে তহবিল সংগ্রহ না করে আমি কীভাবে এটি করলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ পর্যন্ত আমি মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছি, আর এখন আমরা ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাইভেট জেট বহর পরিচালনা করছি।’ উড়োজাহাজ বা এভিয়েশন খাতটি মূলত পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত। তাই কনিকাকে যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল পিতৃতন্ত্রকে জয় করা। ২০১৭ সালে ‘দ্য বেটার ইন্ডিয়া’কে তিনি বলেন, ‘আমি যে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, সেখানে মানুষ শুরুতে আমাকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। এমনকি আমাকে এমন কথাও শুনতে হয়েছে যে ‘আপনার বরং কাপকেক বানানোর কাজ করা উচিত’ বা এ ধরনের আরও অনেক কথা। কখনো কখনো আমি যখন নিজের সিদ্ধান্তে
অটল থাকি, তখন আমাকে অহংকারী ভাবা হয়। অথচ একজন পুরুষ আমার চেয়েও বেশি দৃঢ়তা দেখালে তাকে বলা হয় প্যাশনেট বা উদ্যমী। তবে এসব একেবারেই গুরুত্বহীন বিষয়।’ সাফল্যের পথটা বেশ বন্ধুর ছিল, কিন্তু একবার ডানা মেলার পর কনিকাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আজ তার কোম্পানির রয়েছে প্রাইভেট জেট ও হেলিকপ্টারের সবচেয়ে বড় বহর। পুনিত ডালমিয়া এবং ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের মতো ব্যক্তিরা এ ব্র্যান্ডে বিনিয়োগ করেছেন। মুম্বাই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, নিউইয়র্ক ও দুবাইয়ে এ কোম্পানির কার্যক্রম রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে হায়দরাবাদভিত্তিক ব্যবসায়ী এবং অরবিন্দ ফার্মার নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পি শরৎ চন্দ্র রেড্ডিকে বিয়ে করেছেন কনিকা টেকরিওয়াল। বিয়ের চার বছর পর ২০২৬ সালের ২৮ মে তাদের কোল
আলো করে আসে এক পুত্রসন্তান।





