অর্থবছর শেষে সরকারের ঋণ দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ কোটি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৩ July, ২০২৫

অর্থবছর শেষে সরকারের ঋণ দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ কোটি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৩ July, ২০২৫ |
সরকারি খাতের ঋণের পরিমাণ প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে এই ঋণের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ কোটি টাকায়। এর বেশির ভাগই দেশীয় উৎস থেকে নেওয়া হলেও বৈদেশিক ঋণের অংশও ক্রমেই বাড়ছে। রাজস্ব আহরণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না থাকায় ঋণনির্ভরতা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। দেশের রাজস্ব আদায়ের হার কম, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার সময় সামনে। সব মিলিয়ে অর্থনীতি এগিয়ে গেলেও ঋণ ব্যবস্থাপনায় সংকট বাড়ছে। অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শেষে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশি ঋণের পরিমাণ ১৩ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ কোটি এবং বিদেশি

ঋণ ১০ লাখ ১৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। সরকারি হিসেবে, আগামী দুই অর্থবছরে এই ঋণের পরিমাণ আরও প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা বাড়বে। ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে তা হবে ২৬ লাখ ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছর শেষে ২৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ বলছে, ঋণের পরিমাণ বাড়লেও তা এখনো সহনীয় সীমায় রয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এখনই রাজস্ব-জিডিপির হার ৮ শতাংশের ঘরে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর অনেক সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগ হারাবে বাংলাদেশ। তখন উচ্চ সুদে, স্বল্প সময়ের ঋণ নিতে হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের জন্য শুরুতে অনুমান করা হয়েছিল ২২ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা; কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তা সংশোধন করে ২১ লাখ ১১ হাজার ৯০০ কোটি টাকায় নামিয়ে এনেছে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া চাপ কমাতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঋণ-জিডিপির অনুপাত ছিল ৩৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল বাজেটে তা বেড়ে হয় ৩৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ। তবে অন্তর্বর্তী সরকার তা সংশোধন করে ৩৭ দশমিক ৪১ শতাংশে নামিয়ে আনে। নীতি-বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরগুলোতে এই অনুপাত আরো বাড়বে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হবে ৩৭.৫০%, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে হবে: ৩৭.৬৩%, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে হবে ৩৭.৭২%। সরকারের হিসাব

অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিডিপি দাঁড়াবে ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। মধ্যমেয়াদী নীতি-বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদেশি ঋণের আসল পরিশোধেই বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পরিশোধ হয়েছে ২০২ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে হবে ২৬১ কোটি ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৯০ কোটি ডলার, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩১২ কোটি ডলার, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে হবে ৩৩৪ কোটি ডলার। সুদসহ এই ব্যয় আরও অনেক বেশি হবে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ। সরকারের মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশলে উল্লেখ করা হয়েছে, ঋণের পরিমাণ ও বৈদেশিক দায়ের কারণে বাংলাদেশ এখন 'মাঝারি ঝুঁকির' পর্যায়ে অবস্থান করছে। যদিও এখন পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে 'নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ' বলা হলেও, রাজস্ব সংগ্রহে দুর্বলতা এবং বৈদেশিক পরিশোধের চাপে

তা দ্রুত বাড়তে পারে। বিশেষ উদ্বেগের জায়গা বৈদেশিক ঋণ বনাম রপ্তানির অনুপাত। এখন এ অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৪০ শতাংশে, যা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশ এখনো ঋণঝুঁকির দিক থেকে নিরাপদ বলেই ধরা হয়, তবে ঋণের গতি ও পরিশোধ সক্ষমতা বিবেচনায় এই ধারাটি আর অব্যাহত থাকবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে রাজস্ব আহরণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হলে এবং রপ্তানির প্রবৃদ্ধি স্থবির হলে ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ আরো বাড়বে। আগামী সরকারের জন্য তাই প্রথম চ্যালেঞ্জই হতে পারে ঋণ ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য রক্ষা করা। এখনই প্রয়োজন রাজস্ব বাড়ানো, অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যয় এবং দক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল। না হলে, উন্নয়ন অভিযাত্রা থমকে

যেতে পারে ঋণের ভারেই।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের