চিরকুমার রতন টাটার ৪ হাজার কোটি রুপির উত্তরসূরি হবেন কে? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১১ October, ২০২৪

চিরকুমার রতন টাটার ৪ হাজার কোটি রুপির উত্তরসূরি হবেন কে?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১১ October, ২০২৪ |
ভারতীয় শিল্পপতি টাটা গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান রতন টাটা বিয়ে করেননি। সুতরাং তার কোনো সন্তানও নেই। মৃত্যুর আগে তিনি তার বিপুল সম্পদ দান করেও যাননি। ফলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে রতন টাটার রেখে যাওয়া কয়েক হাজার কোটি রুপির সম্পদের উত্তরসূরি হচ্ছেন কে? বুধবার (০৯ অক্টোবর) রাতে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। মৃত্যুর আগে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপি। ১৯৩৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর মুম্বাইয়ে পারসিক পরিবারে জন্ম হয় রতন টাটার। রতন টাটার যখন ১০ বছর বয়স, সেই সময় তার মা-বাবা আলাদা হয়ে যান। তার দাদি নওয়াজবাই টাটার কাছে বেড়ে

ওঠেন তিনি। রতন টাটার এক ভাই জিমি টাটা, আরেকজন সৎভাই নোয়েল টাটা। ১৯৯১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টাটা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান ছিলেন এই রতন টাটা। দীর্ঘদিন ধরে রাজত্য ধরে রাখা এই শিল্পপতি ব্যাপক সাফল্য অর্জন করলেও সাধারণ মানুষের মনে সর্বদা একটি প্রশ্ন ছিল, কেন রতন টাটা অবিবাহিত? তবে মজার ব্যাপার হলো, একবার নয় দুবার নয়, রীতিমতো চারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে, প্রায় তার বিয়ে হয়েই যাচ্ছিল। কিন্তু নানা কারণে বিয়ে করতে পারেননি। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে কাজ করার সময় তিনি প্রেমে পড়েছিলেন। কিন্তু ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধের কারণে মেয়েটির বাবা-মা তাকে ভারতে পাঠানোর বিরোধিতা করেন। সে সময় তিনি

দেশে ফিরে আসেন। এরপর আর বিয়ে করা হয়নি তার। জানা গেছে, বর্তমানে টাটা গোষ্ঠীর বিভিন্ন উচ্চ পদে কিছু তরুণ ও প্রতিভাবান নেতৃত্বে রয়েছেন। তারাই রতন টাটার প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন বোর্ডের দায়িত্বে রয়েছেন। রতন টাটা সব এমনভাবে সাজিয়েছেন যাতে তার মৃত্যুর পরও শিল্প গোষ্ঠীটি মুখ থুবড়ে না পড়ে। এ হিসাবে টাটার সম্পত্তি একক কারও হস্তগত হচ্ছে না। বোর্ডের পরিচালকদের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ থাকবে। সেসব উচ্চ পদে থাকা তরুণ ও প্রতিভাবানদের মধ্যে রয়েছেন নিশান্ত টাটা। যিনি টাটা মোটরসের পরিচালনায় যুক্ত। তার আধুনিক চিন্তাধারা এবং নতুন প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ টাটা গোষ্ঠীকে নতুন উচ্চতায় নিতে সক্ষম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বভাবতই টাটা মোটরসের অধীনে থাকা

রতন টাটার সম্পদ তিনিই নিয়ন্ত্রণ করবেন। রতন টাটার সৎ ভাই নাভাল টাটার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সন্তান নোয়েল টাটা। বর্তমানে তিনি টাটা গোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। উত্তরসূরী হিসেবে তার নামও থাকছে। ট্রেন্ট ও টাটা ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এবং টাইটান ও টাটা স্টিলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত নোয়েল টাটা। নোয়েল টাটার ছোট ছেলে নেভিল টাটা। বয়স মাত্র ৩২, কিন্তু তিনি ইতোমধ্যেই টাটা গোষ্ঠীর অন্তর্গত ট্রেন্ট লিমিটেডের অধীনে স্টার বাজারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন। তারুণ্যের উদ্যম ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে টাটা গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ একক নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রেখেছে বলে জানা গেছে। নোয়েল টাটার মেয়ে লিয়া টাটা এই গ্রুপের হসপিটালিটি সেক্টরকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার নেতৃত্বে

তাজ হোটেলের অভাবনীয় সাফল্য বয়ে আনাসহ হসপিটালিটি সেক্টরের প্রবল বিকাশ ঘটেছে। তিনিও তার অধীনে থাকা রতন টাটার সম্পদের অলিখিত উত্তরসূরি। টাটা গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে নোয়েল টাটার আরেক মেয়ে মায়া টাটার নামও। ৩৪ বছর বয়সী মায়া, টাটা গোষ্ঠীর ডিজিটাল সেক্টরে বিপ্লব এনেছেন, বিশেষ করে তার নেতৃত্বে লঞ্চ হওয়া টাটা নিউঅ্যাপ গ্রুপের ডিজিটাল সাফল্য এক বিরাট উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তার দক্ষতায় রতন টাটার রেখে যাওয়া সম্পদ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরদিকে কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী মুনাফার আনুপাতিক হারে মায়া টাটার সম্পদও বাড়বে। ২০০০ সালে ‘পদ্মভূষণ’ ও ২০০৮ সালে ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মাননা পান রতন টাটা। তার মেধা ও কৌশল সর্বজনের কাছে প্রশংসনীয়। অনেকে

বলছেন, রতন টাটা নিজেও জানতেন তার মৃত্যুর পর সুনির্দিষ্ট উত্তরসূরির প্রশ্ন বা বিতর্ক উঠতে পারে। অত্যান্ত বুদ্ধিমান রতন টাটা অন্য কোনো উপায়ে উত্তরসূরি নির্বাচনের হলফনামা রেখে যেতে পারেন। যদি এমনটি হয় তবে সব হিসাব-নিকাশ বদলে যাবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের