ভারতে হিন্দুদের উৎসবের সময় ৪৬ জনের সলিল সমাধি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৭ September, ২০২৪

ভারতে হিন্দুদের উৎসবের সময় ৪৬ জনের সলিল সমাধি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৭ September, ২০২৪ |
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রাচীন উৎসব ‘জীবিতপুত্রিকা’ পালনের সময় নদী এবং পুকুরে পবিত্র স্নান করতে গিয়ে অন্তত ৪৬ জনের সলিল সমাধি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিহারের সরকারি একজন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, নিহতদের মধ্যে ৩৭ জন শিশু ও সাত নারী রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পানিতে ডুবে তাদের প্রাণহানি ঘটেছে। বিহারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের একজন কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, সাম্প্রতিক বন্যায় নদী ও পুকুর উপচে যাওয়ায় স্নান করতে গিয়ে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় ৪৬ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘এই উৎসব উদযাপনের জন্য

স্নান করার সময় লোকজনকে নদী ও পুকুরে পানির বিপজ্জনক স্তরের বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হলেও তারা তা উপেক্ষা করেছেন।’’ বিহার রাজ্যের ১৫টি জেলাজুড়ে মঙ্গলবার থেকে এসব মানুষের ডুবে যাওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। প্রত্যেক বছর সন্তানদের মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী মায়েরা ‘জিতিয়া’ বা ‘জীবিতপুত্রিকা’ উৎসব পালন করেন। তিনদিনের এই উৎসব সাধারণত আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের সপ্তম থেকে নবম দিনের মধ্যে পালিত হয়। এ সময় সন্তানদের মঙ্গল কামনায় মায়েরা উপবাস করেন। পরে সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন নদী, পুকুর ও জলাশয়ে স্নান করতে যান মায়েরা। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, কর্তৃপক্ষ আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের কাজ করছে। রাজ্য সরকার নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, প্রবল বৃষ্টির কারণে বর্তমানে বিহারের প্রায় সব নদ-নদীতে পানির তীব্র স্রোত রয়েছে। সেই স্রোতে ভেসে গেছে শিশু ও অন্যান্যরা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার জিতিয়া উৎসব পালনের সময় রাজ্যজুড়ে প্রাণহানির এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। নিহতদের প্রত্যেককে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চার লাখ রুপি করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ভারতে হিন্দুদের প্রধান প্রধান ধর্মীয় বিভিন্ন উসবের সময় মন্দিরগুলোতে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। দেশটিতে বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় উৎসব পালন কিংবা পূজা অর্চনার সময় পদদলনের ঘটনাও ঘটে। গত জুলাই মাসে দেশটির উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে হিন্দুদের এক ধর্মীয় সমাবেশে পদদলনে অন্তত ১১৬ জন নিহত হন। যা গত এক দশকেরও বেশি সময়ের

মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ছিল। এছাড়া ভারত প্রত্যেক বছর বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা দেখা যায়। গত জুলাইয়ে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় প্রবল বর্ষণের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে ২০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের