ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা
শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা?
গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা
২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা
ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’
যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি
কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম
ভিসি সৌমিত্র, লিকু ও মোস্তাফিফের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদত্যাগ করা ভিসি অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর, সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এপিএস-২ (সহকারী একান্ত সচিব) গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া, সৌমিত্র শেখরের বিরুদ্ধে এক ঠিকাদারের সোনালী ব্যাংকের আমানত রূপালী ব্যাংকে স্থানান্তরে প্রতি কোটিতে ৫০ হাজার টাকা আদায়, গাড়ির জ্বালানির জন্য বরাদ্দ সরকারি তহবিল আত্মসাৎ এবং অবৈধ অর্থে
শেরপুরে জমি কিনে ডুপ্লেক্স বাড়ি তৈরি করার অভিযোগ পেয়েছে দুদক। তার বিরুদ্ধে ঢাকার ধানমন্ডি ও উত্তরায় একাধিক ফ্ল্যাটের মালিকানা এবং শেরপুরে সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে দুদক। এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু-ও দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন। তার স্ত্রীর নামে রামদিয়া কাশিয়ানীতে মেসার্স রাফি এগ্রো এন্ড ফিসারিজ এর নামে বিভিন্ন মৌজায় কয়েক শত বিঘা জমি ও মোহাম্মদপুর মধুসিটিতে ৬ নম্বর রোডে ৫৮৩ নম্বর বাড়ির এ-৬নং ফ্ল্যাট ক্রয়; ঢাকার উত্তরায় ১৭ নম্বর সেক্টরে ৩ নম্বর রোডে ৪৬ নম্বর সরকারি প্লট অবৈধভাবে বরাদ্দ নেয়া হয়। পাশাপাশি গোপালগঞ্জে পৌরসভায় ১০ শতক জমি কিনেছেন, পৈত্রিক
জমিতে নির্মাণ করেছেন ৫ তলা বাড়ি। তার শ্যালকের নামে ৬ তলা বাড়ি, ১০ তলা কর্মাশিয়াল ও আবাসিক ভবন, ঢাকার মোহাম্মদপুরে মধুসিটিতে ১ বিঘার জমির ওপর ৬ তলা ভবন নির্মাণ, কুয়াকাটার লাইট হাউজের পাশে ওশান ব্লু রিসোর্ট রয়েছে। এছাড়াও নামে-বেনামে নিজ ও বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বিপুল সম্পদ রয়েছে লিকুর। তার অবৈধভাবে অর্জিত জ্ঞাত-আয় বর্হিভূত সম্পদ রয়েছে। অপরদিকে, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ২০১৪ সালে হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ছিল ১৫ হাজার টাকা। ২০২৪ সাল নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ লাখ টাকা। এছাড়া, তার মালিকানাধীন ৩৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি টয়োটা প্রাডো
জিপ ও ৮৪ লাখ টাকা মূল্যের টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার স্টেশন ওয়াগনের খোঁজ পাওয়া গেছে। তার আরও ৪ একর পৈতৃক জমি, রাজউকের বরাদ্দ করা ৩ কাঠা প্লট, ১৪ গন্ডা অকৃষি জমি, ৪ কাঠা প্লট এবং চকবাজার সুপার মার্কেটে একটি দোকান। তার স্ত্রী ঢাকার কাফরুলে একটি পাঁচতলা বাড়ি এবং ১৮৭২ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মালিক। সাবেক এমপি মোস্তাফিজ ও তার আত্মীয়রা নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুদক প্রমাণ পেয়েছে।
শেরপুরে জমি কিনে ডুপ্লেক্স বাড়ি তৈরি করার অভিযোগ পেয়েছে দুদক। তার বিরুদ্ধে ঢাকার ধানমন্ডি ও উত্তরায় একাধিক ফ্ল্যাটের মালিকানা এবং শেরপুরে সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে দুদক। এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু-ও দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন। তার স্ত্রীর নামে রামদিয়া কাশিয়ানীতে মেসার্স রাফি এগ্রো এন্ড ফিসারিজ এর নামে বিভিন্ন মৌজায় কয়েক শত বিঘা জমি ও মোহাম্মদপুর মধুসিটিতে ৬ নম্বর রোডে ৫৮৩ নম্বর বাড়ির এ-৬নং ফ্ল্যাট ক্রয়; ঢাকার উত্তরায় ১৭ নম্বর সেক্টরে ৩ নম্বর রোডে ৪৬ নম্বর সরকারি প্লট অবৈধভাবে বরাদ্দ নেয়া হয়। পাশাপাশি গোপালগঞ্জে পৌরসভায় ১০ শতক জমি কিনেছেন, পৈত্রিক
জমিতে নির্মাণ করেছেন ৫ তলা বাড়ি। তার শ্যালকের নামে ৬ তলা বাড়ি, ১০ তলা কর্মাশিয়াল ও আবাসিক ভবন, ঢাকার মোহাম্মদপুরে মধুসিটিতে ১ বিঘার জমির ওপর ৬ তলা ভবন নির্মাণ, কুয়াকাটার লাইট হাউজের পাশে ওশান ব্লু রিসোর্ট রয়েছে। এছাড়াও নামে-বেনামে নিজ ও বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বিপুল সম্পদ রয়েছে লিকুর। তার অবৈধভাবে অর্জিত জ্ঞাত-আয় বর্হিভূত সম্পদ রয়েছে। অপরদিকে, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ২০১৪ সালে হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ছিল ১৫ হাজার টাকা। ২০২৪ সাল নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ লাখ টাকা। এছাড়া, তার মালিকানাধীন ৩৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি টয়োটা প্রাডো
জিপ ও ৮৪ লাখ টাকা মূল্যের টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার স্টেশন ওয়াগনের খোঁজ পাওয়া গেছে। তার আরও ৪ একর পৈতৃক জমি, রাজউকের বরাদ্দ করা ৩ কাঠা প্লট, ১৪ গন্ডা অকৃষি জমি, ৪ কাঠা প্লট এবং চকবাজার সুপার মার্কেটে একটি দোকান। তার স্ত্রী ঢাকার কাফরুলে একটি পাঁচতলা বাড়ি এবং ১৮৭২ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মালিক। সাবেক এমপি মোস্তাফিজ ও তার আত্মীয়রা নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুদক প্রমাণ পেয়েছে।





