সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ সরিয়ে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৪ July, ২০২৫

সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ সরিয়ে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ July, ২০২৫ |
আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রির লাগাম টেনে ধরেছে। সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো হয়েছে। ফলে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির কশাঘাতে লোকজনের মাঝে সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর প্রবণতা বেশি দেখা দিয়েছে। নিম্ন-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, পেনশনার গ্রুপ ও ঝুঁকিপূর্ণ বয়স্ক নাগরিকদের কাছে সঞ্চয়পত্রের আকর্ষণ কমতে শুরু করেছে। জীবনযাত্রার ব্যয়নির্বাহের অন্যতম খাত সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোয় সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। সরকার বিগত তিন অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ হাজার কোটি থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা নামিয়ে এনেছে। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞমহল মনে করছে-মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার চলতি অর্থবছরে ব্যয়ের আকার না বাড়িয়ে সংকোচনমূলক বাজেট দিয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করছে। ফলে এ দুইয়ের সঙ্গে

সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো সাংঘর্ষিক। এর ফলে উচ্চ সুদ দেওয়া ব্যাংকগুলোয় মানুষ টাকা রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। সঞ্চয়পত্রে তারা বিনিয়োগ করবে না। কিন্তু বাজেট বাস্তবায়নে যে টাকার প্রয়োজন হবে, সরকার তা সঞ্চয়পত্র থেকে খুব বেশি নিতে পারবে না। ফলে ব্যাংক খাতের ওপর সরকারের বেশি নির্ভরতা বাড়বে। ব্যাংক থেকে বেশি বেশি ঋণ করলে বেসরকারি খাতে ঋণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা পক্ষান্তরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমায় মধ্যবিত্ত মানুষের সমস্যা হবে। কারণ, অনেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দিয়ে সংসার পরিচালনা করেন। আমি মনে করি, সুস্থ বিনিয়োগের স্বার্থে ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে সঞ্চয়পত্র থেকে

সরকারের ঋণ নেওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ এম কে মুজেরী জানান, উপযোগী হোক বা না হোক, ঋণ নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারকে আইএমএফ-এর শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে। সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোয় বয়স্ক, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা বঞ্চিত হচ্ছে। আগে ঘনঘন সুদহার পরিবর্তন করা হতো। কারণ তখন আইএমএফ-এর শর্ত ছিল না। তবে বাস্তবতা হলো-মূল্যস্ফীতির কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা আর্থিক সংকটে পড়ে সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন। ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদ দেওয়ায় আগামী দিনে সঞ্চয়পত্রে সঞ্চয়ের প্রবণতা কমবে। তিনি আরও বলেন, আগে মানুষ প্রাইজবন্ডে বিনিয়োগ করত। এখন সে আকর্ষণ আর নেই। নানাবিধ পদক্ষেপের কারণে মধ্যবিত্তের কাছে সঞ্চয়ের মাধ্যম হিসাবে সঞ্চয়পত্রের আকর্ষণ কমবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সঞ্চয়পত্রে

বেশি সুদ দেওয়ায় আর্থিক সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বন্ড মার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ খাতে সুদহার বেশি থাকায় বেসরকারি কোম্পানিগুলো বাজারে বন্ড ছাড়তে আগ্রহী হচ্ছে না। আর বন্ড মার্কেট উন্নতি না হলে আর্থিক খাতের উন্নয়ন হবে না। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে সরকার ভিন্নভাবেও সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা দিতে পারে। অবসরভোগীদের সুবিধা দিতে হলে সরকার পেনশনের অঙ্ক বাড়াতে পারে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার বিপরীতে আইএমএফ-এর কয়েকটি শর্তের মধ্যে অন্যতম হলো-সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ কম নেওয়া। অর্থাৎ সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে লাগাম টানতে হবে। শর্ত হলো-ঘাটতি বাজেট পূরণে অভ্যন্তরীণ ঋণের এক-চতুর্থাংশ নিতে হবে সঞ্চয়পত্র থেকে। পাশাপাশি গ্রাহকদের প্রদেয় সুদহার বাজারভিত্তিক চালু করা। আর সুদহার

বাজারভিত্তিক হলো-সরকারি ট্রেজারি বিলের সুদহারের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। অর্থাৎ ছয় মাসের গড় ট্রেজারি বিলের সুদহারের ভিত্তিতে সঞ্চয়পত্রের সুদহার নির্ধারণ করা। ট্রেজারি বিলের সুদহার বাড়লে সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাড়বে। আর ট্রেজারি বিলের সুদহার কমলে সঞ্চয়পত্রের সুদহারও কমবে। অর্থ বিভাগ পর্যালোচনা করে দেখেছে-গত ছয় মাসে ট্রেজারি বিলের সুদহার কমেছে। ফলে আইএমএফ-এর শর্ত মানতে গিয়ে ট্রেজারি বিলের সুদের সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের সুদহারও কমানো হয়েছে। এ হিসাবে সাড়ে ৭ লাখ টাকার নিচে সঞ্চয়পত্রের সুদহার ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে সাত লাখ টাকার উপরে ১২ দশমিক ৩৭ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশে আনা হয়েছে। মধ্য মেয়াদে সঞ্চয়পত্রের সার্বিক সুদহার ৬

শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আইএমএফ ঋণের প্রথম কিস্তি দিয়েছে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ওই বছর সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এরপর পরবর্তী অর্থবছরে (২০২৩-২৪) এক লাফে ১৮ হাজার কোটি টাকায় আনা হয়। সদ্য বিদায়ি অর্থবছরে (২০২৪-২৫) আরও কমে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা আরেক দফা কমিয়ে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, সঞ্চয়পত্রকে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হিসাবে নিলেও আইএমএফ বলছে, এটি সরকারের একটি দীর্ঘমেয়াদি দায়। কারণ সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে প্রতিবছর বড় অঙ্কের

সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সঞ্চয়পত্র সামাজিক সুরক্ষা হিসাবে কাজ করছে। কিন্তু এর বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ও সুদহার কমিয়ে আনায় বড় একটি শ্রেণি ক্ষতিগ্রস্তের মুখে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের