ভারতের কাছে যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত পোশাক রপ্তানির একচেটিয়া সুযোগ হারালো বাংলাদেশ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ July, ২০২৫

ভারতের কাছে যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত পোশাক রপ্তানির একচেটিয়া সুযোগ হারালো বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ July, ২০২৫ |
ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (India-UK FTA) আওতায় ভারত এখন থেকে যুক্তরাজ্যে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, কার্পেট এবং হস্তশিল্প শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুযোগ পেয়েছে। এই চুক্তি ভারতের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যে দেশটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে, এই সুযোগ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি শিল্পের জন্য নতুন প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, যেহেতু বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এই চুক্তির আগে, ভারতের তৈরি পোশাক যুক্তরাজ্যে রপ্তানির ক্ষেত্রে গড়ে ৯.৬% থেকে ১২% শুল্ক প্রদান করতে হতো। বিশেষ করে, তৈরি পোশাক এবং টেক্সটাইল পণ্যের উপর যুক্তরাজ্যের সাধারণ শুল্ক হার প্রযোজ্য ছিল, যা পণ্যের ধরন অনুযায়ী ৮%

থেকে ১২% পর্যন্ত ছিল। উদাহরণস্বরূপ, নিটওয়্যারের উপর গড়ে ১০% এবং বোনা পোশাকের উপর ১২% শুল্ক আরোপিত হতো। এই শুল্ক বাণিজ্য ব্যয় বাড়িয়ে ভারতের পোশাকের প্রতিযোগিতামূলক দামকে প্রভাবিত করত। অন্যদিকে, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের GSP সুবিধার আওতায় এবং পরবর্তীতে DCTS এর মাধ্যমে শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুবিধা পেয়ে আসছে। ফলে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো শুল্ক দিতে হতো না, যা বাংলাদেশকে বাজারে একটি শক্তিশালী অবস্থান দিয়েছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা বিশ্ববাজারে তার দ্বিতীয় অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে। ভারতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিল যুক্তরাজ্য ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারত এখন শুল্কমুক্ত বাজার

প্রবেশাধিকার পাওয়ায় তার পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে ভারত বিশ্ববাজারে ১৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে পঞ্চম স্থানে ছিল। এই নতুন সুবিধার মাধ্যমে ভারতের রপ্তানি ১০-১৫% বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ভারতের বিনিয়োগ ব্যাংক আনন্দ রথি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ের পরিচালক ভারত বিড়লা মনে করেন। এটি ভারতের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের জন্য মধ্যমেয়াদি সময়ে একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪% অবদান রাখে, এই নতুন পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে পারে। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রধান গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যেখানে এটি শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়।

তবে, যুক্তরাজ্যে ভারতের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বাংলাদেশের বাজার হিস্যাকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে নিটওয়্যার এবং বোনা পোশাকের ক্ষেত্রে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩৯.৩৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে ৮.৮৪% প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কিন্তু ভারতের নতুন সুবিধা এই প্রবৃদ্ধির ধারাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। রপ্তানি বিশেষজ্ঞদের মতামত ভারতের লালভাই গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান কুলীন লালভাই বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের পোশাক শিল্পের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে। বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো এখন বাংলাদেশের বাইরে বিকল্প উৎস খুঁজছে।” এদিকে, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বৈচিত্র্যময় বাজার খোঁজার মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতা মোকাবিলার চেষ্টা করছে। ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারতের পোশাক শিল্পের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেও, বাংলাদেশের জন্য এটি একটি

নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশকে এখন উৎপাদন বৈচিত্র্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে তার বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখতে হবে। অন্যদিকে, ভারত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বের শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর তালিকায় আরও উপরে উঠতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের