ফের পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, অস্বস্তিতে ভোক্তা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৭ এপ্রিল, ২০২৫
     ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ

ফের পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, অস্বস্তিতে ভোক্তা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ এপ্রিল, ২০২৫ | ৮:৫৮ 108 ভিউ
রোজায় বাজারে পণ্যের দামে স্বস্তিতে ছিল ভোক্তা। ঈদ ঘিরেও ছিল কম দাম। তবে ঈদের পর বাজারে তদারকি সংস্থার কার্যক্রমে ঢিল দেওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বাড়াতে শুরু করেছে পণ্যমূল্য। পরিস্থিতি এমন, সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও পেঁয়াজ ও আলু কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। কয়েকটি সবজি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার ওপরে। মাছের দামও কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সরকারের নীতি সহায়তার মেয়াদ শেষ হওয়ায় সয়াবিন তেল লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে বাজারে ফের অস্বস্তিতে পড়েছে ভোক্তারা। বুধবার রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র

দেখা গেছে। সিন্ডিকেটের কারসাজিতে ভরা আমন মৌসুমেই বাড়ানো হয় চালের দাম। এখনো তা কমার কোনো লক্ষণ নেই। খুচরা বাজারে এক কেজি সরু চাল কিনতে ৮৫ টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে। আর গরিবের মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ন্যূনতম ৫৫ টাকায়। বিক্রেতারা মসলা পণ্যেও বাড়তি দাম হাঁকাচ্ছেন। এছাড়া মাংসের দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে। এতে ভোক্তারা বাজারে এসে এক প্রকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন। এ বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ে। চাহিদা মেটাতে সংকটে পড়ে। রোজা ও ঈদ ঘিরে বাজারে সংস্থাগুলো তদারকি জোরদার করায় ভোক্তারা স্বস্তিতে

ছিল। তবে ঈদের পর তদারকিতে ঢিলেঢালা ভাব থাকায় বিক্রেতারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও নীরবে পণ্যের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্টদের উচিত হবে, অসাধুদের আইনের আওতায় আনা। সঙ্গে রোজার মতো বাজারে তদারকি জোরদার রাখা। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫৫ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগেও ৫০ টাকা ছিল। আর মাসখানেক আগে সর্বনিম্ন কেজিপ্রতি ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও বুধবার সর্বনিম্ন বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা। সেক্ষেত্রে মাসের ব্যবধানে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। সঙ্গে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকা। যা সাত দিন আগে ছিল

১২৫-১২৮ টাকা। কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা। এদিয়ে সরকারের নীতি সহায়তার মেয়াদ শেষ হওয়ায়, লিটারে ১৪ টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৯ টাকা। যা এতদিন ছিল ১৭৫ টাকা। বোতলজাত পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২২ টাকা। আগে যা ৮৫২ টাকা ছিল। পাশাপাশি প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৫৭ থেকে বাড়িয়ে ১৬৯ টাকা করা হয়েছে। খোলা পাম তেলও ১৫৭ থেকে বাড়িয়ে ১৬৯ টাকা লিটার করা হয়েছে। অর্থাৎ খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বেড়েছে লিটারে ১২ টাকা। নয়াবাজারে পণ্য কিনতে আসা মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঈদের পর সব ধরনের পণ্যের

দাম বাড়তে শুরু করেছে। সরবরাহ থাকলেও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। রোজা ও ঈদ ঘিরে ব্যবসায়ীরা জবাবদিহির আওতায় ছিল। তদারকি সংস্থা কঠোরভাবে তদারকি করেছে। এখন তদারকি সংস্থার কর্মকর্তাদের বাজারে দেখা যাচ্ছে না। এতে বিক্রেতারা সুযোগ পেয়ে ফের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাকে ফের জিম্মি করে ফেলছে। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি দেশি রসুন ১৬০ ও আমদানি করা রসুন সর্বোচ্চ ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ও আমদানি করা হলুদ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি সর্বোচ্চ ৪০০-৪২০ টাকা। প্রতিকেজি আদা বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ১০০-২০০ টাকা। খুচরা বাজারে জিরার কেজি ৬৫০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি লবঙ্গ ১৬০০ টাকা, ছোট দানার এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৫১০০ টাকা। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের

পর বাজারে কাঁচামরিচ, টমেটো, পেঁপে, শসা, লেবুর দাম বেড়েছে। খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ৬০-৬৫ টাকা, যা সাত দিন আগেও ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি পেঁপে কিনতে ক্রেতার গুনতে হচ্ছে ৬০ টাকা, যা আগে ৫০ টাকা ছিল। এছাড়া প্রতিকেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা, যা আগে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। ঈদের আগেও খুচরা পর্যায়ে কাঁচামরিচ ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮-১০ টাকা। অন্যদিকে সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বিক্রেতারা মাছের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। বিক্রেতারা জানায়, প্রতিকেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা। যা ঈদের আগে ১৮০-১৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তেলাপিয়া প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা। যা আগে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সরপুঁটি প্রতিকেজির দাম ২২০-২৩০ টাকা, যা আগে ২১০-২২০ টাকা ছিল। এছাড়া প্রতিকেজি চাষের কই বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা, বড় আকারের রুই বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকা, মাঝারি আকারের রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকা। সাত দিনের ব্যবধানে এটি ৫-১০ টাকা বেশি। সঙ্গে খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৫০ টাকা, চাষের চিংড়ি ৬৫০-৭৫০ টাকা, নদীর চিংড়ি ৮০০-১০০০ টাকা, শিং মাছের কেজি ৮৫০-৯০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
কুড়িগ্রাম-১ এ ভোটার নেই, তবু ভোট ১০০% পূর্ণ শপথ নিয়ে নতুন মেটিকুলাস ডিজাইন, সাংবিধানিক সঙ্কটের আশঙ্কা সমঝোতা না হওয়ায় ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তথ্য ফাঁস করলেন নাহিদ যুধিষ্ঠির কে? : উপদেষ্টা রেজওয়ানা বনাম আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ ভোট নিয়ে ইউনূসের জালিয়াতি ফাঁস করে দিল টিআইবি ২.২৬ লক্ষ কোটি ঋণ নিয়ে শূন্য উন্নয়ন : বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দিয়ে যাওয়া ইউনূসের কীর্তি Bangladesh 2026 — Election and a Crisis of Trust রংপুরে ড. ওয়াজেদ মিয়ার ৮৪তম জন্মবার্ষিকীতে যুবলীগের শ্রদ্ধা ‘বাটোয়ারার নির্বাচন মেনে নিয়ে বিরোধিতার নাটক বন্ধ করেন’: মাহফুজ আলম অপরাধীদের বিচার ও বাকিদের সুযোগ—আওয়ামী লীগ নিয়ে ‘রিকনসিলিয়েশন’-এর প্রস্তাব বিএনপি নেতার গুলিস্তানে ৫ আইনজীবীর ওপর ‘মব সন্ত্রাসীদের’ হামলা, লুটে নিয়ে পুলিশে সোপর্দ গ্রেপ্তারের দীর্ঘ প্রায় নয় মাস পর রাজনৈতিক মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ ছেলের মুক্তির আগেই বাবার বিদায়: জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আকুতি Bangladesh Election 2026 — Mandate or Mystery? The Story of Invisible Ballots Behind an “Unprecedented” Election শরীয়তপুরে মিরপুর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির বাড়িতে হামলা, বৃদ্ধ বাবাসহ আহত একাধিক সংস্কার নিয়ে আমি হতাশ: মাসদার হোসেন উন্নয়ন নেই, ঋণের রেকর্ড: ১৭ মাসেই সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার দায় ‘বিনা অপরাধে ১৬ মাস কারাগারে বন্দি আমার স্বামী’: মুক্তির দাবিতে ব্যারিস্টার সুমনের স্ত্রীর আবেগঘন বার্তা ‘বাটোয়ারার নির্বাচন মেনে নিয়ে বিরোধিতার নাটক বন্ধ করেন’: মাহফুজ আলম