দেশে বিনিয়োগে ধস: থমকে যাওয়া শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা হতাশ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৯ July, ২০২৫

দেশে বিনিয়োগে ধস: থমকে যাওয়া শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা হতাশ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৯ July, ২০২৫ |
বাংলাদেশের শিল্প খাত এক কঠিন সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নতুন শিল্প স্থাপন বা কারখানা সম্প্রসারণে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ দ্রুত কমে যাচ্ছে। আগে যারা স্বপ্ন দেখতেন নতুন মেশিন আনার, রপ্তানির বাজার বাড়ানোর তারাই এখন ব্যাংকের কিস্তি মেটানো নিয়েই দুশ্চিন্তায়। ডলার সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা এ অবস্থাকে আরও গভীর করছে। তাছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেও এই সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে, যা ভবিষ্যতের শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার (১৩-১৬%) উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগ থেকে দূরে রাখছে।

ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, পণ্যের দাম বাড়ছে, আর ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতিও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ঝূঁকিতে আছে। যুক্তরাষ্ট্রমুখী পোশাক রপ্তানি বর্তমানে বড় ঝুঁকির মুখে দেশ। ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য ৩৫% শুল্ক আরোপের আশঙ্কায় ১ হাজার ৩২২টি কারখানা এবং প্রায় ১৪ লাখ শ্রমিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। ওয়ালমার্টের মতো বড় ক্রেতা ইতিমধ্যে অর্ডার স্থগিত করেছে। বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ নেতারা বলছেন, আলোচনায় দেরি ও শুল্ক সুবিধা হারানোর কারণে বড় বিপদে পড়তে পারে গার্মেন্টস খাত। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া বিনিয়োগ সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রাজনৈতিক অভিভাবকহীন দেশ। বর্তমান অন্তবর্তর্তী সরকার ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি করছে। মব

লেলিয়ে দিচ্ছে। কারখানা দখল, পোড়ানোসহ নানা ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছেন। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো এখন জরুরি হয়ে পড়লেও সরকার এসব বাদ দিয়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখার ফন্দি ফিকির করছে। যার ফলে শিল্পোৎপাদন হ্রাস, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নড়াইলে ক্ষুদ্র শিল্পের ধস স্পষ্ট হয়ে ওঠছে। নতুন উদ্যোক্তা আসছে না, বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, প্লট বরাদ্দ কমেছে ৩৫%। সিএমএসএমই খাতও সংকটে পড়েছে মূলধন সংকট, জ্বালানি সমস্যা ও বাজার অনিশ্চয়তার কারণে। শুধু ছোট উদ্যোক্তা নয়,

বড় কর্পোরেট গ্রুপগুলোর অবস্থাও নাজুক। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, রপ্তানি আদেশ কমেছে, ফলে তারা লোকবল ছাঁটাই, উৎপাদন কমানো এবং বিনিয়োগ স্থগিতের পথে হাঁটছে। প্রাণ গ্রুপ, ক্রাউন সিমেন্টসহ অনেক প্রতিষ্ঠানই ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, গত ৮ মাসে কোনো চীনা গার্মেন্টস কারখানা, স্পিনিং মিল বা বিদেশি পার্টনারশিপ হয়েছে এমন উদাহরণ নেই। গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট এবং ক্রমবর্ধমান ব্যবসায়িক ব্যয় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়াও দেশের বিশিষ্টজনদের বাদ দিয়ে ইউনূস সরকার বিদেশি নাগরিকদের নিয়ে এসে দায়িত্ব দেওয়ায় তারা কেবল বিদেশিদের তোষণেরই চেষ্টা করছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা

খাতুন বলেছেন, বর্তমানে অন্তত ২০-২৫ শতাংশ উদ্যোক্তা ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন, যা দেশের জন্য মারাত্মক সংকেত। ব্যাংকিং খাতে সংস্কার, রাজনৈতিক ঐকমত্য, স্বচ্ছতা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বাস্তবমুখী পদক্ষেপ জরুরি। নরসিংদী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি রাশিদুল হাসান বলেন, ‘শিল্পের স্বপ্ন বাঁচাতে হলে সুদের হার নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানির স্থিতিশীল সরবরাহ এবং সাপ্লাই চেইনে গতি ফিরিয়ে আনতে হবে।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের