তিন ঝুঁকিতে কমাচ্ছে না ডলারের দাম – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৯ July, ২০২৫

তিন ঝুঁকিতে কমাচ্ছে না ডলারের দাম

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৯ July, ২০২৫ |
এখনই ডলারের দাম কমালে দেশের সার্বিক অর্থনীতি তিন ধরনের ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স হুন্ডিমুখী হয়ে পড়তে পারে। রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে যাওয়ার শঙ্কা আছে। ভবিষ্যতে দেশের ও বৈশ্বিক কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতির কারণে ডলারের ওপর যে কোনো ধরনের চাপ মোকাবিলায় সমস্যা হতে পারে। এসব কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম কমাতে চাচ্ছে না। তারা বর্তমানের দাম ধরে রেখে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারকে স্থিতিশীল রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। এ কারণে ডলারের দাম ৩ টাকা ৪০ পয়সা কমলেও দ্রুত বেশি দামে কিনে এর দামকে তুলে এনেছে। ফলে ডলার এখন আগের মতো সর্বোচ্চ ১২৩ টাকায় উঠে এসেছে। সূত্র জানায়,

গত মে মাসের মাঝামাঝিতে আইএমএফের চাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়। এর আগে ডলারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দাম উঠেছিল ১২২ টাকায়। বাজারের ওপর ছাড়ার পর এক মাসের ব্যবধানে এর দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকায় ওঠে। চলতি মাসের প্রথমদিক থেকে ডলারের দাম কমতে শুরু করে। মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে দাম সর্বোচ্চ ৩ টাকা ৪০ পয়সা কমে সর্বনিম্ন ১১৯ টাকা ২০ পয়সায় নেমে আসে। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম ধরে রাখতে বাজারে হস্তক্ষেপ করে। তারা বাজার থেকে বেশি দামে ডলার কিনে এর দামকে ধরে রাখে এবং পর্যায়ক্রমে দাম বাড়তে সহায়তা করে। এতে ডলারের দাম বেড়ে গত রোববার আগের দামে

অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১২৩ টাকায় ওঠে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর দাম ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যেই ধরে রাখার নীতি গ্রহণ করতে চায়। ডলারের দাম কমলে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করা হচ্ছে রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে। হুন্ডির প্রভাব কমে আসায় রেমিট্যান্স এখন প্রতিমাসে বাড়ছে। ডলারের দাম কমে গেলে হুন্ডির প্রভাব আবার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তখন রেমিট্যান্সও হুন্ডিমুখী হলে ব্যাংক চ্যানেলে আসা কমে যেতে পারে। রেমিট্যান্স কমলে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তখন ডলারের সংকট বেড়ে টাকার মান কমে যাবে। এতে মূল্যস্ফীতিতে চাপ বাড়বে। বৈদেশিক বাণিজ্যে যে শৃঙ্খলা নিয়ে আসা হয়েছে তা আবার ভেঙে পড়বে। বৈদেশিক দেনা পরিশোধে সমস্যা হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের

রেটিং আরও ঝুঁকির পর্যায়ে চলে যাবে। যে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখতে চায়। দেশের মোট রপ্তানির একটি বড় অংশই যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে। এটি নিয়ে এখন ওই দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এতে দেশের রপ্তানি খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই মুহূর্তে আবার ডলারের দাম কমালে বৈদেশিক মুদ্রায় বাংলাদেশি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। একদিকে মুদ্রার বিনিময় হারের কারণে রপ্তানি পণ্যের খরচ বাড়বে, অন্যদিকে মার্কিন শুল্ক কিছুটা কমানো হলেও কিছু বাড়তি শুল্ক থাকবে। এ কারণেও রপ্তানি পণ্যের দাম বাড়বে। এছাড়া ডলারের দাম কমলে রপ্তানিকাররা আয়ের বিপরীতে টাকা পাবে কম। ফলে এ খাতে

নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন আক্রমণ করলে বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম বেড়ে গিয়ে বৈশ্বিক সংকট দেখা দেয়। এই সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতিতে দেখা দেয় মন্দা। যে মন্দায় সাধারণ ভোক্তারা আক্রান্ত হয়। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে ওই মন্দার প্রভাব এখনো বিদ্যমান। বিশ্বের প্রায় সব দেশ ওই সংকট থেকে বের হয়ে এলেও বাংলাদেশ এখনো পারেনি। এজন্য আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশ থেকে ব্যাপকভাবে টাকা পাচারকে দায়ী করা হচ্ছে। টাকা পাচারের কারণে ডলার সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যাপক হারে বৈদেশিক ঋণ নিয়ে সেগুলো উৎপাদনমুখী কাজে না লাগিয়ে ঋণের টাকাও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। যে কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বৃদ্ধি ছিল কৃত্রিম। রিজার্ভ

বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় ৪ হাজার ৮০৬ কোটি ডলারে পৌঁছলেও তা দিয়ে স্বস্তির বার্তা দিতে পারেনি। করোনার সময়ে রেমিট্যান্স বাড়ায় রিজার্ভ বেড়েছে। ওই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম ধরে রেখেছে। উলটো ডলারের বিপরীতে টাকার মান বাড়িয়েছে কিছুটা। যে কারণে ২০২২ সালের মন্দার ধাক্কা প্রথমে এসে পড়ে ডলার ও রিজার্ভের ওপর। ওই সময়ে ডলারের দাম ধরে না রেখে ধীরে ধীরে বাড়ালে হয়তো সংকট এত প্রকট হতো না। এসব কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর আগের সরকারের মতো ভুল পথে হাঁটছে না। তারা ডলারের দাম স্থিতিশীল রেখে ধীরে ধীরে টাকার মান কিছুটা কমাবে। এতে দেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে প্রবাসীরা উপকৃত হবে। রপ্তানিকারকরাও প্রতিযোগিতায় বিনিময় হারের

সুবিধা পাবে। এর মাধ্যমে ডলার আয় বাড়লে টাকার মান কমার কারণে যে চাপ বাড়বে তা সহজেই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের