জুনে ১ লাখ ১৮ হাজার হিসাব বেড়েছে স্কুল ব্যাংকিংয়ে – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৫ আগস্ট, ২০২৬

আরও খবর

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বহুমুখী চাপে রপ্তানিকারকেরা, বিপর্যস্ত অর্থনীতি

বিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম, দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুরু: দক্ষিনাঞ্চলে যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

দ্রব্যমূল্যে নাভিশ্বাস চরমে নিম্ন আয়ের মানুষেঃ তবুও কোথাও দেখা মিলছে না ‘টিসিবির ট্রাকসেল’

গরিবের ‘রিজিক থেকে উঠে গেছে’ ডিম, পাঙ্গাস-তেলাপিয়াও

বাংলাদেশে আরেক বহুজাতিকের ব্যবসা গুটানোর উদ্যোগ: রিটেইল ব্যাংকিং বিক্রি করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

আবারও জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধিঃ ডিজেল-পেট্রোল-অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল

জুনে ১ লাখ ১৮ হাজার হিসাব বেড়েছে স্কুল ব্যাংকিংয়ে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৫ আগস্ট, ২০২৬ |
বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেড়ে ৫৪ লাখ ৪৪ হাজার ১৪৭টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৯১ কোটি ৮ লাখ টাকায়। এই আমানতের মধ্যে শহরের শিক্ষার্থীদের রয়েছে ১ হাজার ৫০১ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং গ্রামের শিক্ষার্থীদের সঞ্চয় ৬৮৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এ তথ্য চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত সময়ের। গত মে মাসে শিক্ষার্থীদের হিসাব সংখ্যা ছিল ৫৩ লাখ ২৬ হাজার। অন্যদিকে, জমাকৃত আমানতের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৮ কোটি টাকা। এক মাসের ব্যবধানে স্কুল ব্যাংকিংয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার হিসাব বেড়েছে এবং আমানত ১৬৩ কোটি টাকা বেড়েছে। স্কুল ব্যাংকিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা এক প্রতিবেদন থেকে

এসব তথ্য জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা গ্রামে বেশি থাকলেও জমানো আমানতের সিংহভাগ শহরের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এসেছে। যা মোট আমানতের প্রায় ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, গ্রামের আমানতের হার ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থী ও কিশোর-কিশোরীদের সঞ্চয়ী মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত বিশেষ আর্থিক সেবাই হলো স্কুল ব্যাংকিং। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালের ২ নভেম্বর এক সার্কুলারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর স্কুল ব্যাংকিং নীতিমালা হালনাগাদ ও বিস্তৃত করে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়। এরপর থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্কুল ব্যাংকিং

সেবা পুরোদমে চালু হয়। স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের প্রধান লক্ষ্য হলো আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সঞ্চয়ের মানসিকতা গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যগুলো অর্জিত হচ্ছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. আরিফুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘ঈদুল ফিতর বা বিভিন্ন উৎসবে শিক্ষার্থীরা স্বজনদের কাছ থেকে উপহার ও সেলামি হিসেবে যে ক্যাশ টাকা পায়, তা যাতে অপচয় বা অসৎ কাজে ব্যবহৃত না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। উপযুক্ত দিকনির্দেশনা না থাকলে উৎসবকেন্দ্রিক এই টাকা দিয়ে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা অপ্রয়োজনীয় ভিডিও গেমস খেলা বা ক্ষেত্রবিশেষে মাদকের মতো ক্ষতিকর অভ্যাসে জড়িয়ে পড়তে পারে। ব্যাংকে টাকা জমা রাখার সুযোগ থাকায় তারা

অপচয় ও অসৎ পথ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা পায়।’ স্কুল ব্যাংকিংয়ের এই সঞ্চয় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যেমন কোনো শিক্ষার্থী যদি একটি কম্পিউটার কিনতে চায় এবং সেসময়ে পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য কম থাকে, তবে তার নিজ অ্যাকাউন্টে জমানো ৫০ হাজার বা ১ লাখ টাকা দিয়েই সে সেই প্রয়োজন মেটাতে পারে। সর্বোপরি, এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এই দৃষ্টিকোণ থেকে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমটি অনেকটাই সফল।’ ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বাল্যকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের অপচয় কমিয়ে টাকা জমানোর মানসিকতা তৈরি করার উদ্দেশ্য নিয়ে স্কুল ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয়। এর মাধ্যমে

শিক্ষার্থীরা ব্যাংক ব্যবস্থা, হিসাব পরিচালনা ও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করতে পারছে। এছাড়া ভবিষ্যৎ শিক্ষার নিরাপত্তার ধারণা এবং অর্জিত সঞ্চয় দিয়ে উচ্চশিক্ষার খরচ জোগানো বা জরুরি প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। ৬ বছর থেকে ১৮ বছর বয়সী যেকোনো নিবন্ধিত শিক্ষার্থী এই হিসাব খুলতে পারে। সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের চেয়ে স্কুল ব্যাংকিং হিসাবে বেশি হারে সুদ দেওয়া হয়, যা ক্ষেত্রবিশেষে বার্ষিক ৫ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে (ব্যাংকভেদে ও নির্দেশনানুযায়ী পরিবর্তনশীল)। শিশুদের আমানতে কোনো চার্জ বা ফি কাটা হয় না এবং সর্বনিম্ন স্থিতির বাধ্যবাধকতা নেই; সাধারণত ১০০ টাকা জমা দিয়েই হিসাব খোলা যায়। এছাড়া শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে এটিএম/ডেবিট কার্ড

সুবিধা পায়। শিক্ষার্থী ১৮ বছরের কম হওয়ায় হিসাবটি যৌথভাবে তার মা-বাবা বা আইনি অভিভাবকের সহায়তায় ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্কুল ব্যাংকিং হিসাবটি বাতিল হয় না, বরং সরাসরি শিক্ষার্থীর নামে একটি নিয়মিত সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবে (প্রাপ্তবয়স্ক গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে) রূপান্তরিত হয়। এরপর থেকে শিক্ষার্থী নিজেই এককভাবে হিসাবটি পরিচালনা করতে পারে। অভিভাবকের পরিচালনা ক্ষমতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ব্যাংকিংয়ের পূর্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যাংকিং সেবায় প্রবেশ করছে। স্কুল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও ব্যাংকিং সুবিধা পাচ্ছে, যেখানে বর্তমানে হিসাবের সংখ্যা প্রায় ২৯ লাখ। এছাড়া এই কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ মেয়েশিশুরা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায়

এসেছে, যা তাদের পরবর্তীতে সংসার জীবনে সঞ্চয় ও আয়বর্ধক কার্যক্রম শুরু করে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করছে। তবে স্কুল ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা ও টাকা জমা বৃদ্ধি পেলেও মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কিছু জায়গা এখনো অর্জিত হয়নি বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘স্কুল ব্যাংকিংয়ের আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা ও ব্যাংকিংয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা; কেবল অ্যাকাউন্ট খোলা বা আমানত সংগ্রহ করা নয়। বর্তমানে এটি মূলত কেবল টিউশন ফি সংগ্রহ ও আমানত বাড়ানোর মাধ্যমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, যার ফলে মূল লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ক্যাশ-ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেমকে স্মার্ট করতে হলে স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের চেক ও অ্যাপ-ভিত্তিক নিরাপদ লেনদেন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি, যাকে মূলত 'ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি' বা আর্থিক সাক্ষরতা বলা হয়। একটি আধুনিক ও ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনের জন্য কেবল ব্যাংকগুলোর বাণিজ্যিক প্রচারণাই যথেষ্ট নয়; বরং দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের মধ্যেই এই আর্থিক শিক্ষার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের সেই বিউটি রানি এবার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর প্রতিবেদনঃ “কেন ডিসেম্বরেই ঢাকায় ফিরতে চান শেখ হাসিনা?” নিউইয়র্কে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর; জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ‘নানা অজুহাতে’ ২ বছর অচল করে রাখা হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের গড়া মহেশখালীর পাইপলাইন, কিস্তি গুনছে বিপিসি ভিসা সংকটে থমকে আছে শ্রমবাজার, তবুও ১ কোটি কর্মী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুর কোথায় কোথায় শিক্ষা সফর করছেন জামায়াতের ৩৪ সাংসদ? আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য রুহী রাজধানীতে গ্রেপ্তার জুলাইয়ে থানা-ফাঁড়ি লুটের ১৪১৭টি অস্ত্র ও প্রায় ৩ লাখ গুলি এখনও চিহ্নিত সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের হাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বহুমুখী চাপে রপ্তানিকারকেরা, বিপর্যস্ত অর্থনীতি ইরান শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ছাড়বে না: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান এশিয়ান গেমসকে বড় স্বপ্ন ছোঁয়ার বিরল সুযোগ হিসেবে দেখছেন লিটন ভারতের বিপক্ষেও ‘প্রীতি নয়’, যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে খেলবে ব্রাজিল হাবিপ্রবি ছাত্রীনিবাস থেকে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার না খেলেই কীভাবে এশিয়ান গেমসে পদক নিশ্চিত বাংলাদেশের জিন্নাতের ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাতে ব্যর্থ হলেও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর দেখা পেলেন তারেক রহমান ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে খলিলুরের ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ আওয়ামী লীগ নেতাকে না পেয়ে কিশোর সন্তানকে টেনেহিঁচড়ে ধরে নিয়ে গেল ডিবি পুলিশ বিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম, দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন আজ সিঙ্গেল ডে, নিজের সাথে ভালোবাসাবাসির দিন হামে একদিনে ঝরল আরও ১১ শিশুর প্রাণ: টিকাদানের ৩ সপ্তাহে অ্যান্টিবডি তৈরির কথা, ৬ মাসেও কমেনি সংক্রমণ, মান প্রশ্নবিদ্ধ