আন্দোলনের জেরে রাজস্ব আদায় কমেছে ১০ হাজার কোটি টাকা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৭ July, ২০২৫

আন্দোলনের জেরে রাজস্ব আদায় কমেছে ১০ হাজার কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ July, ২০২৫ |
বিগত (২০২৪-২৫) অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ৪৩ হাজার ৯২ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। যা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৫ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা কম। এ মাসে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৬৯ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার ৩৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ অর্জন করা যায়নি। এছাড়া আগের অর্থবছরের জুনের তুলনায় রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। জুন মাসে আন্দোলনের কারণে রাজস্ব আদায়ে কিছুটা বাধাগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তবে তথ্য বলছে, কিছুট নয়, আন্দোলনের কারণে বড় ধরনের রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে

এনবিআর। আন্দোলনের কারণে কী পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করতে এরই মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে সরকার। অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রাজস্ব আদায়ের চাপ বাড়ে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুনে ৫৩ হাজার ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছিল। এ হিসাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ৯ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। এ মাসে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ১৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বিগত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকার রাজস্ব। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার ৯২ হাজার ৬২৫ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়নি বা ১৯ দশমিক ৯৮

শতাংশ আদায় করা যায়নি। শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জটিল শর্ত’ ! রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের অপসারণ দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। মে মাসের ধারাবাহিকতায় জুন মাসের শেষ সপ্তাহে কর্মসূচি পালিত হয় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে। ২৮ ও ২৯ জুন কমপ্লিট শাটডাউন পালন করা হয়। পরে ২৯ জুন ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করে পরিষদ। জুন মাসের পরিসংখ্যান বলছে, আমদানি, ভ্যাট ও আয়কর- তিন খাতেই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল বিগত অর্থবছরের শেষ মাসে। জুন মাসে ১১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার আমদানি শুল্ক অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, আদায় হয়েছে ৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

১৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুনে এ খাত থেকে আদায় হয়েছে ৯ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। একইভাবে ২৬ হাজার ৮৮ কোটি টাকার আমদানি ভ্যাট অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, আদায় হয়েছে ১৪ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ৩০ দশমিক ১৬ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুন মাসে এ খাত থেকে আদায় হয়েছে ২০ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা। এছাড়া ৩১ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকার আয়কর অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, আদায় হয়েছে ২১ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা। নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুনে এ খাত থেকে আদায় হয় ২৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৮০

হাজার কোটি টাকা। পরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা বা ১৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ কম আদায় হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে ২ দশমিক ২৩ শতাংশ। এনবিআরের সর্বশেষ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয়কর ও ভ্রমণ কর আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। তবে আদায় হয়েছে এক লাখ ২৯ হাজার ৯০ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪২ হাজার ৪০৫ কোটি

টাকা কম আদায় হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক লাখ ২৫ হাজার ৪৮৫ টাকার আয়কর আদায় হয়েছিল। আয়করের মতো একই লক্ষ্যমাত্রা ছিল স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে। তবে আদায় হয়েছে এক লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ভ্যাট আদায় কম হয়েছে ২৯ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। আয়কর ও ভ্যাটের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে কিছুটা এগিয়ে আছে ভ্যাট। এ খাতে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক শূন্য এক শতাংশ। তার আগের বছরে ভ্যাট থেকে এসেছে এক লাখ ৩৭ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। এছাড়া কাস্টমস খাতে অর্থাৎ শুল্ক আদায় হয়েছে এক লাখ ১৯৮ কোটি টাকা। এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ২০

হাজার ৫১০ কোটি টাকা। সে হিসাবে আদায় কম হয়েছে ২০ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। এ খাতে প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরে শুল্ক থেকে এসেছে এক লাখ ২০ হাজার ৫১০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের