৪ স্ত্রীর পাশাপাশি ১০০ বাঁদি রাখা নিয়ে তোপের মুখে মুফতি কাসেমী – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২০ জানুয়ারি, ২০২৫

৪ স্ত্রীর পাশাপাশি ১০০ বাঁদি রাখা নিয়ে তোপের মুখে মুফতি কাসেমী

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২০ জানুয়ারি, ২০২৫ |
বাংলাদেশে সম্প্রতি একটি বিতর্কিত মন্তব্য উঠে এসেছে মুফতি মামুনুর রশীদ কাসেমী, পরিচালক, মারকাযুশ শরীয়াহ আলইসলামিয়া বাংলাদেশের ফেসবুক পেজে। তিনি সেখানে প্রকাশ করেছেন, "আমার ৪ স্ত্রী কমপ্লিট হয়েছে, নিয়ত আছে আল্লাহ তায়ালা যেদিন বাঁদির ব্যবস্থা করবেন ১০০ বাঁদি রাখবো এবং সকলের থেকে বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা করবো, আমার স্ত্রীরাও এতে রাজি আছে," এই মন্তব্যের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এমন মন্তব্যের ইসলামী শরিয়া মোতাবেক বিশ্লেষণ এবং সমাজে এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচ্য বিষয়। ইসলামী শরিয়া এবং একাধিক বিয়ে ইসলামে একজন পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ে করার অনুমতি রয়েছে, তবে তা নির্দিষ্ট শর্তে। শরিয়ার আলোকে, একজন মুসলিম পুরুষের জন্য চারটি স্ত্রী পর্যন্ত বিয়ে করা

বৈধ, তবে তার জন্য একটি বিশেষ শর্ত থাকে—স্ত্রীদের প্রতি ন্যায় ও সাম্যের আচরণ। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে: "তোমরা যদি ভয় পাও যে, তোমরা এত সংখ্যক স্ত্রীর মধ্যে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না, তবে একটিই রেখো বা তোমাদের অধিকারী বান্দির মধ্যে যাকে তোমরা সঠিক মনে করো তাকে বিবাহ করো।" (সূরা আন-নিসা, ৪:৩) এছাড়া, ইসলামে বাঁদি বা দাসী সম্পর্কে শর্তে কিছু বৈধতা রয়েছে, তবে তা ঐতিহাসিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে ঘটে থাকে, যা বর্তমানে আধুনিক মুসলিম সমাজের জন্য অত্যন্ত বিতর্কিত। ইসলামে বাঁদি বা দাসী নিয়ন্ত্রণের অধিকার ছিল পুরুষের, তবে সেটা শুধুমাত্র যুদ্ধবন্দী নারী কিংবা এরকম পরিস্থিতিতে ছিল। এই ধরনের ধারণা বর্তমান সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় এবং মানবাধিকার

লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হয়। মুফতি কাসেমীর মন্তব্য: ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ মুফতি কাসেমীর মন্তব্যের মূল সুর হচ্ছে, একাধিক বিয়ে ও শরয়ী বাঁদির ব্যাপারে ইসলামের বিধান সম্পর্কে তিনি গভীরভাবে জোর দিয়েছেন। তার মতে, যে কোনো মুসলিমের জন্য ইসলামের অনুমোদিত বিষয়ের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও সম্মান থাকা উচিত। তিনি বলেন, "হালালকে হালাল মানা ফরজ, আর হালালকে কটাক্ষ করা বা সে ব্যাপারে বিদ্রুপ করা কুফরি।" এখানে তিনি ইসলামের বিভিন্ন বিধানকে যথাযথ এবং অটুট বলে ঘোষণা করেছেন, এবং এই কথার মাধ্যমে তিনি সামাজিক ও ধর্মীয় একটি সংকট তৈরি করেছেন। ইসলামিক শরিয়াতে স্ত্রীর পাশাপাশি বাঁদি বা দাসী গ্রহণ করা বৈধ হলেও, বর্তমানে এটি অধিকাংশ মুসলিম সমাজের মধ্যে বিরোধিত। বাংলাদেশের

বর্তমান সমাজে এই ধরনের একটি মন্তব্য অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সমাজে নারীর অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতার বিষয়টি এখন সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির আওতাভুক্ত। এমন অবস্থায়, মুফতি কাসেমীর মন্তব্য নারীবাদী আন্দোলন, মানবাধিকার কর্মী, এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সামাজিক ও ধর্মীয় প্রভাব এই ধরনের মন্তব্য সামাজিকভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশের সমাজে যেহেতু নারীর অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এমন মন্তব্যের ফলে ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সামাজিক নৈতিকতার মধ্যে একটি টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ধর্মীয় নেতাদের এমন মন্তব্য সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে তারা ইসলামিক শাস্ত্রের ভুল ব্যাখ্যা পেতে

পারে। এছাড়া, মুফতি কাসেমীর মন্তব্যের ফলে একটি জাতীয় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে নারীর মর্যাদা এবং সামাজিক আইনগুলির প্রতি মানুষের অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে। ইসলামের আদি ব্যাখ্যা এবং আধুনিক দৃষ্টিকোণগুলির মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত, যেন মানুষের জীবনযাত্রা এবং ইসলামিক বিশ্বাসের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ইসলামিক বিশেষজ্ঞরা সাধারণত এমন বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে ইসলামিক শাস্ত্রের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করা যায় এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি জনগণের আস্থা বজায় থাকে। একজন ইসলামী প্রচারকের দায়িত্ব হলো সঠিক জ্ঞান ও শিক্ষার প্রচার করা, এবং অযথা বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকা। সমাজে একতা ও শান্তি বজায় রাখতে হলে, ইসলামিক

বিশ্বাসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান থাকতে হবে। মুফতি মামুনুর রশীদ কাসেমীর মন্তব্যের ফলে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা দেশের মুসলিম সমাজে ইসলামের বিধান ও শরিয়া আইন নিয়ে একটি গুরুতর আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ইসলামিক শরিয়া আইন এবং ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির মধ্যে সমন্বয় খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সমাজে শান্তি এবং সমঝোতা বজায় থাকে। তবে, এই ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে যে সামাজিক ও ধর্মীয় প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে, তা অত্যন্ত গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ইউটিউবে আসছে দৃষ্টিনন্দন ফিচার মেসিকে নিয়েই কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা রাজধানীতে একদিনে গ্রেপ্তার ৪২৪ ভোটার হওয়ার সময় বাড়ল লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়াল ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকায় ‘বিবেক কাজ করেনি’, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ে মদ্যপান-মাতলামির পর প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য শেখ হাসিনা সরকারের স্থাপিত ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানায় প্রথম বছরেই মুনাফা ২৩৩ কোটি টাকা সরকারের দাবি ‘ছাড় দেওয়া হয়েছে’, কিন্তু বাজারে কমেনি নিত্যপণ্যের দাম: ওষ্ঠাগত সাধারণ মানুষের প্রাণ লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার পিছিয়ে শেষ হলো রপ্তানির বছর রোনালদো ও রামোসের গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে পর্তুগাল “জুলাই আন্দোলন পরিকল্পিত ডিজাইন ছিল, যেখানে স্নাইপার ব্যবহার করা হয়েছে”— বিএনপির সাংসদ নিলোফার চৌধুরী মনি “প্রতিটি ফোঁটা রক্তের হিসেব নিতে হবে, সেইভাবে প্রস্তুত হও”— নিপীড়িত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা গ্যাসের অভাবে বন্ধ ৫৫০ কারখানা, ঝুলে আছে নতুন ১৮০০ আবেদন রাঙামাটিতে ৩ হাজার ইয়াবাসহ গণ অধিকার পরিষদের জেলা সহসভাপতি গ্রেপ্তার মাদক সিন্ডিকেটের হোতাকে ছাড়াতে থানায় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা জাবিতে গোপনে ছাত্রীদের ছবি তুলতে গিয়ে ধৃত যুবদল নেতা মুচলেকায় মুক্ত, গাড়ি থেকে উদ্ধার মাদক গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল: ২০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে: কিছু জরুরি তথ্য ‘দেশে এখন পক্ষ দুটি- মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অথবা বিপক্ষে’, অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান মিথিলা ফারজানার ‘মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, গাজীপুরে শেখ হাসিনার আইন চলবে’