ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বন্ড ছাড়ছে বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত – ক্রেতা কে?
দখলচেষ্টায় গ্রেপ্তার ১৩, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও আটক তালিকায় নেই নাম!
আবারও গণভোটের ভাবনা
সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ সংবিধানের দুই অনুচ্ছেদে গণভোট চায় বিএনপি
টিআইবি: দখল-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত
বাজার থেকে নিখোঁজ, সকালে মিলল লাশ: বান্দরবানে গহিন পাহাড়ে যুবককে নৃশংস হত্যা
রূপপুরের জন্য রাশিয়ার জ্বালানিবাহী বিমান আটকে দিল ‘মার্কিন আজ্ঞাবহ’ পাকিস্তান
রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম নিয়ে ঢাকায় আসতে পারেনি একটি কার্গো বিমান। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ওই চালান বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
গত ২৪শে সেপ্টেম্বর জ্বালানি বহনকারী কার্গো বিমানটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল। এ জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বিমানটি না আসায় শেষ পর্যন্ত চালান গ্রহণের কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে আনা সম্ভব
হয়নি। পাকিস্তান কেন অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে এখনো কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে কূটননৈতিক মহল এ ঘটনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূরভিসন্ধি হিসেবে দেখছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্র পাকিস্তান কূটননৈতিক কূটচালের আওতায় ফেলে রাশিয়ার বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি বলে অভিমত আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের। মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া নতুন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর তারিখ প্রস্তাব করেছে। অর্থাৎ নতুন সূচি অনুযায়ী চালানটি আকাশপথে বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, জ্বালানি গ্রহণের জন্য বিমানবন্দরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। কিন্তু কার্গো বিমানটি না আসার পর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের সমন্বয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ
করা হয়। তখন আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না থাকার বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অবশ্য কোন দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায়নি, কিংবা কেন অনুমতি পাওয়া যায়নি, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। রোসাটমের কাছেও এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য এই জ্বালানি সরবরাহ প্রকল্পটির পরবর্তী ধাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের সহায়তায় নির্মাণাধীন কেন্দ্রটিতে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুই ইউনিট মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে আসে ২০২৩ সালের অক্টোবরে। রোসাটমের নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি নতুন ফুয়েল অ্যাসেম্বলি নিয়ে ওই চালান রাশিয়া থেকে কার্গো বিমানে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে এসব জ্বালানি সুরক্ষিত কনটেইনারে করে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাহারায় বিশেষ ‘গ্রিন করিডোর’ ব্যবহার করে জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছিল। এদিকে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে। তবে ইউনিটটির কমিশনিং কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত জটিলতাও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভালভ বা PORV-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে
পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সূচি অনিশ্চিত হয়েছে বলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে রূপপুর প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে রোসাটমের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সাধারণ সম্মেলনের ফাঁকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং নিরাপত্তার আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যেই দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে আকাশসীমা-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিল। এখন নতুন প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছায় কি না, সেটিই দেখার বিষয়। ‘কৃতিত্ব যার, নাম নেই তার’ এই বিদ্যুৎ
কেন্দ্রটি বাস্তবায়নের পেছনে যে নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাজ করেছে, তা মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ের। ২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে চুক্তি করে আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১৩ সালে শুরু হয় নির্মাণের আনুষ্ঠানিকতা। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির মূল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা রোসাটমের মাধ্যমে ৯৩ শতাংশ ঋণ সহযোগিতায় (প্রায় ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলার) এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত চুক্তি এটি। অথচ এখন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলেও এসব ইতিহাস ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকার প্রকল্পটি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কথা এড়িয়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ-জ্বালানি মন্ত্রাণলয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বিভাগসহ কোনো দপ্তরের কোনো বিবৃতিতে নেই—প্রকল্পটি কবে, কার সময় শুরু হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই প্রকল্পের একজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী বলেন, “বিশ্বমানের একটি প্রকল্পের ইতিহাসকে ছেঁটে ফেলা উচিত নয়। এটা কারও দলীয় অর্জন নয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ—তবে ইতিহাস তো মুছে ফেলা চলে না।” বিশ্লেষকদের মতে, বড় প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন যেমন প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিষয়, তেমনি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ফলও। রূপপুর কেন্দ্র তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের এ ধরনের সাহসী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তসমূহ আগামী দিনের বাংলাদেশকে এনার্জি নিরাপত্তা, দক্ষতা ও শিল্পায়নে অনেক দূর এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
হয়নি। পাকিস্তান কেন অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে এখনো কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে কূটননৈতিক মহল এ ঘটনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূরভিসন্ধি হিসেবে দেখছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্র পাকিস্তান কূটননৈতিক কূটচালের আওতায় ফেলে রাশিয়ার বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি বলে অভিমত আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের। মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া নতুন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর তারিখ প্রস্তাব করেছে। অর্থাৎ নতুন সূচি অনুযায়ী চালানটি আকাশপথে বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, জ্বালানি গ্রহণের জন্য বিমানবন্দরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। কিন্তু কার্গো বিমানটি না আসার পর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের সমন্বয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ
করা হয়। তখন আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না থাকার বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অবশ্য কোন দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায়নি, কিংবা কেন অনুমতি পাওয়া যায়নি, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। রোসাটমের কাছেও এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য এই জ্বালানি সরবরাহ প্রকল্পটির পরবর্তী ধাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের সহায়তায় নির্মাণাধীন কেন্দ্রটিতে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুই ইউনিট মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে আসে ২০২৩ সালের অক্টোবরে। রোসাটমের নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি নতুন ফুয়েল অ্যাসেম্বলি নিয়ে ওই চালান রাশিয়া থেকে কার্গো বিমানে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে এসব জ্বালানি সুরক্ষিত কনটেইনারে করে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাহারায় বিশেষ ‘গ্রিন করিডোর’ ব্যবহার করে জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছিল। এদিকে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে। তবে ইউনিটটির কমিশনিং কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত জটিলতাও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভালভ বা PORV-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে
পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সূচি অনিশ্চিত হয়েছে বলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে রূপপুর প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে রোসাটমের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সাধারণ সম্মেলনের ফাঁকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং নিরাপত্তার আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যেই দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে আকাশসীমা-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিল। এখন নতুন প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছায় কি না, সেটিই দেখার বিষয়। ‘কৃতিত্ব যার, নাম নেই তার’ এই বিদ্যুৎ
কেন্দ্রটি বাস্তবায়নের পেছনে যে নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাজ করেছে, তা মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ের। ২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে চুক্তি করে আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১৩ সালে শুরু হয় নির্মাণের আনুষ্ঠানিকতা। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির মূল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা রোসাটমের মাধ্যমে ৯৩ শতাংশ ঋণ সহযোগিতায় (প্রায় ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলার) এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত চুক্তি এটি। অথচ এখন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলেও এসব ইতিহাস ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকার প্রকল্পটি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কথা এড়িয়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ-জ্বালানি মন্ত্রাণলয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বিভাগসহ কোনো দপ্তরের কোনো বিবৃতিতে নেই—প্রকল্পটি কবে, কার সময় শুরু হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই প্রকল্পের একজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী বলেন, “বিশ্বমানের একটি প্রকল্পের ইতিহাসকে ছেঁটে ফেলা উচিত নয়। এটা কারও দলীয় অর্জন নয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ—তবে ইতিহাস তো মুছে ফেলা চলে না।” বিশ্লেষকদের মতে, বড় প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন যেমন প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিষয়, তেমনি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ফলও। রূপপুর কেন্দ্র তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের এ ধরনের সাহসী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তসমূহ আগামী দিনের বাংলাদেশকে এনার্জি নিরাপত্তা, দক্ষতা ও শিল্পায়নে অনেক দূর এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



