ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
পাকিস্তানের অনুমতি না মেলায় রূপপুরের ইউরেনিয়াম আসেনি
প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বন্ড ছাড়ছে বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত – ক্রেতা কে?
রূপপুরের জন্য রাশিয়ার জ্বালানিবাহী বিমান আটকে দিল ‘মার্কিন আজ্ঞাবহ’ পাকিস্তান
দখলচেষ্টায় গ্রেপ্তার ১৩, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও আটক তালিকায় নেই নাম!
আবারও গণভোটের ভাবনা
সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ সংবিধানের দুই অনুচ্ছেদে গণভোট চায় বিএনপি
রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুর-দখল: প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের বাদ দিয়ে পুলিশের জালে কেবল চুনোপুঁটিরা
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দুই দিনে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সম্পাদক শাহ আলম গাজীসহ সমিতির কয়েকজন নেতা রয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি। গ্রেপ্তার ১০ জনের অনেকেই শাহ আলী এলাকার ভাড়াটে এবং হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তি।
এ ঘটনায় সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমিতির সদস্যদের তালিকায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য হানিফ মিয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা জগলুল
পাশা পাপেলসহ কয়েকজন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনেই রাড্ডা সেন্টারে দখল ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে তাদের কারও বিরুদ্ধে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ অবশ্য বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও মামলার তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও নাম এলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। ডিএমপির মিরপুর বিভাগের সহকারী কমিশনার জাকির হোসেন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও মামলার তদন্তে সম্পৃক্ততার তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে যাদের নাম আসবে, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে কয়েকশ মানুষ জড়ো হয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট
চালায়। হামলার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেন্টারের আসবাব, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পরদিন রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য হানিফ মিয়াসহ ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। এরপর পুলিশ সমিতির সম্পাদক শাহ আলম গাজীসহ শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, আতিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম, শাকিল, সোহেল, জুয়েল, জিহাদ হাসান ও রাব্বিকে গ্রেপ্তার করে। তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মামলায় এত বিপুলসংখ্যক আসামির নাম থাকার পরও সমিতির প্রভাবশালী সদস্যদের কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার না করায় প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ
করে যে সমিতির ব্যানারে হামলার পর সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছিল, সেই সমিতির নেতৃত্ব ও সদস্যদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় কতটা এসেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সমবায় অফিসের নথি অনুযায়ী, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি একটি নিবন্ধিত সংগঠন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন হয়। এতে সভাপতি মিজানুর রহমান হাজরা, সহসভাপতি কামাল উদ্দিন আহম্মদ, সম্পাদক মজিবুর রহমান গাজী, কোষাধ্যক্ষ কামাল হোসেন এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হিসেবে মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, মোহাম্মদ ছাকাওয়াত উল্ল্যাহ, আল-আমিন, কবির হোসেন গাজী ও আবু বকর ছিদ্দিকের নাম রয়েছে। পরে সহসভাপতি পদে কাজী মকবুল হোসেন এবং সম্পাদক পদে শাহ আলম গাজীকে কো-অপ্ট করা হয়। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সমিতির বর্তমান সদস্য ৯১ জন।
তাদের মধ্যে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, হানিফ মিয়া, মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল, আব্দুর রহমান হাজরা, মাহবুবুর রহমান শান্ত ও মনির হোসেনের নাম রয়েছে। রাড্ডা সেন্টারের জমি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে নব্বইয়ের দশকে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি গঠিত হয়। ২০০১ সালের দিকে সমিতি দুই অংশে বিভক্ত হয়। একই রেজিস্ট্রেশনের অধীনে দুই পক্ষের কার্যক্রম চলতে থাকে। এক অংশে ৫৬ জন সদস্য থাকলেও বর্তমানে তাদের কোনো কমিটি নেই। অন্য অংশের সভাপতি মিজানুর রহমান হাজরা। এই অংশের সদস্য ৯১ জন। দুই অংশেই রয়েছেন ১৪ জন সদস্য। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে সমিতি ওই জমি বরাদ্দ পায়। ২০২১ সালের দিকে সমিতির নামে জমিটি রেজিস্ট্রেশনও হয়।
তবে সমিতি কখনো বাস্তবে জমিটির দখল নেয়নি। পরে সমিতির অন্য অংশ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আদালতে মামলা করে। সেই মামলা এখনো চলমান। এই অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ কয়েকশ মানুষ রাড্ডা সেন্টারে হামলা চালিয়ে ভবন ভাঙচুর করে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আলট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি, স্টিলের আলমারি, ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যায় হামলাকারীরা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, লুট হওয়া মালামালের একটি অংশ আশপাশের ভাঙাড়ির দোকানে পাওয়া গেছে। ভাঙচুরের সময় একটি এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করা হয়, যেটি স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতা নিয়ে এসেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় একটি গাড়িতে স্থানীয় বিএনপি ও
যুবদলের কয়েকজন নেতাকে আশপাশে অবস্থান করতে দেখা যায় বলেও স্থানীয়দের দাবি। ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজে একটি সাদা মাইক্রোবাসও দেখা গেছে। রাড্ডা সেন্টারের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হামলার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিএমপি। তদন্তে শাহ আলী থানার সদ্য সাবেক ওসি জাহাঙ্গীর আলমের দায়িত্বে গাফিলতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে তাকে ‘প্রশাসনিক কারণে’ প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়েও পুলিশ হামলাকারীদের নিবৃত্ত বা আটক করার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি ঘটনাটি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। অন্যদিকে হামলার পরদিন থেকেই রাড্ডা সেন্টারের ভাঙা স্থাপনাতেই সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা চালু রেখেছেন কর্মীরা। আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী সেবা নিতেন, হামলার পর সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৪৭ জনে। পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধার সংকটের মধ্যেও শিশুদের টিকাদানসহ কিছু সেবা চালু রয়েছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে মিরপুরের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য মাতৃ ও শিশুসেবা দিয়ে আসছে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির জমি নিয়ে বিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় রাতের আঁধারে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন উঠেছে, দখলচেষ্টার সঙ্গে কারা সরাসরি যুক্ত ছিল এবং কারা এর নেপথ্যে ছিলেন।
পাশা পাপেলসহ কয়েকজন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনেই রাড্ডা সেন্টারে দখল ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে তাদের কারও বিরুদ্ধে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ অবশ্য বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও মামলার তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও নাম এলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। ডিএমপির মিরপুর বিভাগের সহকারী কমিশনার জাকির হোসেন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও মামলার তদন্তে সম্পৃক্ততার তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে যাদের নাম আসবে, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে কয়েকশ মানুষ জড়ো হয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট
চালায়। হামলার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেন্টারের আসবাব, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পরদিন রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য হানিফ মিয়াসহ ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। এরপর পুলিশ সমিতির সম্পাদক শাহ আলম গাজীসহ শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, আতিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম, শাকিল, সোহেল, জুয়েল, জিহাদ হাসান ও রাব্বিকে গ্রেপ্তার করে। তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মামলায় এত বিপুলসংখ্যক আসামির নাম থাকার পরও সমিতির প্রভাবশালী সদস্যদের কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার না করায় প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ
করে যে সমিতির ব্যানারে হামলার পর সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছিল, সেই সমিতির নেতৃত্ব ও সদস্যদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় কতটা এসেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সমবায় অফিসের নথি অনুযায়ী, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি একটি নিবন্ধিত সংগঠন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন হয়। এতে সভাপতি মিজানুর রহমান হাজরা, সহসভাপতি কামাল উদ্দিন আহম্মদ, সম্পাদক মজিবুর রহমান গাজী, কোষাধ্যক্ষ কামাল হোসেন এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হিসেবে মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, মোহাম্মদ ছাকাওয়াত উল্ল্যাহ, আল-আমিন, কবির হোসেন গাজী ও আবু বকর ছিদ্দিকের নাম রয়েছে। পরে সহসভাপতি পদে কাজী মকবুল হোসেন এবং সম্পাদক পদে শাহ আলম গাজীকে কো-অপ্ট করা হয়। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সমিতির বর্তমান সদস্য ৯১ জন।
তাদের মধ্যে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, হানিফ মিয়া, মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল, আব্দুর রহমান হাজরা, মাহবুবুর রহমান শান্ত ও মনির হোসেনের নাম রয়েছে। রাড্ডা সেন্টারের জমি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে নব্বইয়ের দশকে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি গঠিত হয়। ২০০১ সালের দিকে সমিতি দুই অংশে বিভক্ত হয়। একই রেজিস্ট্রেশনের অধীনে দুই পক্ষের কার্যক্রম চলতে থাকে। এক অংশে ৫৬ জন সদস্য থাকলেও বর্তমানে তাদের কোনো কমিটি নেই। অন্য অংশের সভাপতি মিজানুর রহমান হাজরা। এই অংশের সদস্য ৯১ জন। দুই অংশেই রয়েছেন ১৪ জন সদস্য। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে সমিতি ওই জমি বরাদ্দ পায়। ২০২১ সালের দিকে সমিতির নামে জমিটি রেজিস্ট্রেশনও হয়।
তবে সমিতি কখনো বাস্তবে জমিটির দখল নেয়নি। পরে সমিতির অন্য অংশ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আদালতে মামলা করে। সেই মামলা এখনো চলমান। এই অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ কয়েকশ মানুষ রাড্ডা সেন্টারে হামলা চালিয়ে ভবন ভাঙচুর করে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আলট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি, স্টিলের আলমারি, ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যায় হামলাকারীরা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, লুট হওয়া মালামালের একটি অংশ আশপাশের ভাঙাড়ির দোকানে পাওয়া গেছে। ভাঙচুরের সময় একটি এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করা হয়, যেটি স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতা নিয়ে এসেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় একটি গাড়িতে স্থানীয় বিএনপি ও
যুবদলের কয়েকজন নেতাকে আশপাশে অবস্থান করতে দেখা যায় বলেও স্থানীয়দের দাবি। ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজে একটি সাদা মাইক্রোবাসও দেখা গেছে। রাড্ডা সেন্টারের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হামলার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিএমপি। তদন্তে শাহ আলী থানার সদ্য সাবেক ওসি জাহাঙ্গীর আলমের দায়িত্বে গাফিলতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে তাকে ‘প্রশাসনিক কারণে’ প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়েও পুলিশ হামলাকারীদের নিবৃত্ত বা আটক করার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি ঘটনাটি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। অন্যদিকে হামলার পরদিন থেকেই রাড্ডা সেন্টারের ভাঙা স্থাপনাতেই সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা চালু রেখেছেন কর্মীরা। আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী সেবা নিতেন, হামলার পর সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৪৭ জনে। পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধার সংকটের মধ্যেও শিশুদের টিকাদানসহ কিছু সেবা চালু রয়েছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে মিরপুরের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য মাতৃ ও শিশুসেবা দিয়ে আসছে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির জমি নিয়ে বিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় রাতের আঁধারে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন উঠেছে, দখলচেষ্টার সঙ্গে কারা সরাসরি যুক্ত ছিল এবং কারা এর নেপথ্যে ছিলেন।



