ভোটের আগে ২০৩ এমপির জন্য বিশেষ বরাদ্দ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৬ October, ২০২৬

ভোটের আগে ২০৩ এমপির জন্য বিশেষ বরাদ্দ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৬ October, ২০২৬ |
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। মন্ত্রীর অভিপ্রায়ে ২০৩টি আসনে এমপিরা তাদের পছন্দের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবেন। বিশেষ এই বরাদ্দের পরিমাণ ৫১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আগামী বছর ৩০ জুনের মধ্যে বরাদ্দের টাকা খরচ করতে হবে। আর ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত। বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন– এমন আসনের ইউনিয়নগুলো এই বিশেষ বরাদ্দ পায়নি। তবে বিরোধী জোট ছেড়ে যাওয়া খেলাফত মজলিসের এমপির আসনের (সিলেট-৫) ইউনিয়নগুলোর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের এমপিরা বলছেন, ইউপি নির্বাচনের আগে সরকারি দলের এমপিরা যাতে নিজেদের পছন্দের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে

পারেন, সেজন্যই এই বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে নির্বাচন প্রভাবিত হবে। ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তার অংশ হিসেবে ২০০৬ সাল থেকে সরাসরি ও শর্তহীন থোক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর ২৫ শতাংশ সব ইউনিয়নকে সমহারে দেওয়া হয়। বাকি বরাদ্দ দেওয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদের কাজের দক্ষতার ভিত্তিতে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা খাতে এক হাজার ৮২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ অনুদান হিসেবে বরাদ্দ রয়েছে ২৭৯ কোটি টাকা। এই অর্থ থেকে ১৩ অক্টোবর ২০৩টি আসনের তিন হাজার ১৫৯টি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ৫১ কোটি ১৮ লাখ টাকা মঞ্জুর করা হয়। যদিও গত ১২ আগস্ট সারাদেশের চার হাজার

৫৮৮টি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ১৮০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। আগের বরাদ্দে এমপিদের অভিপ্রায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ ছিল না। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিও অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিন থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ১৩ অক্টোবর মঞ্জুর করা বরাদ্দের আদেশে বলা হয়েছে, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্যের অভিপ্রায় অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।’ প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য দেড় লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এতে এমপিরা নিজেদের পছন্দের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গড়ে ২৫ লাখ টাকা করে পাচ্ছেন। বরাদ্দ মঞ্জুরির চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে টাকা খরচ করতে না পারলে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে। এই বরাদ্দ এমন

সময় দেওয়া হলো, যখন মাত্র দুই মাস পর দেশে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত ১২ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। আগামী ২১ জানুয়ারি এ নির্বাচন শুরু হবে। আগামী বছরের ২৭ মে পঞ্চম ধাপের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ইউপি নির্বাচন শেষ হবে। এখনও তপশিল ঘোষণা করা হয়নি। তবে জুনের মধ্যে টাকা খরচের সুযোগ থাকায় নির্বাচনের সময় এমপিদের পছন্দের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্যই সরকারি দলের এমপিদের এমন সুবিধা দেওয়া হয়েছে কিনা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টিকে যেভাবেই ব্যাখ্যা

করা হোক না কেন, এটা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্যই করা হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে শুধু সরকারি দলের এমপিদের এভাবে বরাদ্দ দেওয়া অগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক।’ তিনি বলেন, ‘আগেও আমরা দেখেছি, সরকারি দলের এমপিদের এভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই অর্থ ব্যবহারে দুর্নীতি হয়েছে; অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। সরকারি দল এবারও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এটা করেছে।’ বরাদ্দ অনুমোদনের নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (ইউনিয়ন শাখা) আতিকুল ইসলামের স্বাক্ষরে গত মঙ্গলবার এ আদেশ জারি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মোবাইল ফোনে আতিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় সরকার

বিভাগের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। যেদিন বরাদ্দ হয়েছে, সেদিন আমি দায়িত্বে ছিলাম না।’ সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলামের স্বাক্ষর করা বরাদ্দপত্রে দেখা গেছে, তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারকে একটি অফিস আদেশ দিয়েছেন। সেখানে শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ হতে মাননীয় মন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড়করণ।’ তবে এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের বক্তব্য জানতে পারেনি । বরাদ্দ মঞ্জুরির নথিতে বলা হয়েছে, ‘চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা শীর্ষক থোকের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ১

হাজার ৮২ কোটি ৫০ লাখ টাকার মধ্যে বিশেষ/অনুদান বরাদ্দ উপখাতে রক্ষিত ২৭৯ কোটি টাকা হতে ৩ হাজার ১৫৯টি ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে থোক বরাদ্দ ৫১ কোটি ১৮ লাখ টাকা ছাড়করণে নির্দেশক্রমে সরকারি মঞ্জুরি জ্ঞাপন করছি।’ নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘বিষয়টি যদি সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্বাচিত কিছুসংখ্যক মানুষের জন্য বরাদ্দ হয়, তাহলে সেটি হবে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ। সেটিতে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার হবে না বলে নির্বাচন কমিশন মনে করে।’ তবে রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘এটি যদি বিশেষ উদ্দেশ্যে একটি ইউনিয়নের সব মানুষের জন্য বরাদ্দ হয়, তাহলে সেটাতে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকে বলে মনে করা হয়। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এবং এই বরাদ্দ বন্ধ রাখতে বলবে।’ বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন এই নির্বাচন কমিশনার। ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের আটটিতে বিএনপি জয়ী হয়েছে। ময়মনসিংহ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন। ময়মনসিংহ-২ ও ময়মনসিংহ-৬ আসনে জয়ী হয় জামায়াত জোট। বরাদ্দের তালিকা অনুযায়ী এই তিনটি আসনের ইউনিয়নগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি কামরুল হাসান মিলন বলেন, ‘বরাদ্দের টাকা জনগণের ট্যাক্সের পয়সা। কিন্তু সরকার যেভাবে শুধু দলীয় এমপিদের বরাদ্দ দিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে বিএনপির টাকা।’ রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামের ১৯টি আসনের মধ্যে একটি বাদে সবটিতে জয়ী হয়েছেন জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীরা। বিএনপি শুধু গাইবান্ধা-৪ আসনে জয়ী হয়েছে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের এ আসনের ইউনিয়নগুলোতে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়েছে। এই আসনের তিনটি উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদিও সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী, তপশিল ঘোষণার পর উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া যায় না। কুমিল্লা জেলার ১১টি আসনের আটটিতে বিএনপি জয়ী হয়েছে। একটিতে জামায়াত, একটিতে এনসিপি এবং একটিতে স্বতন্ত্র এমপি রয়েছেন। বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের কুমিল্লা-১১ আসনের ইউনিয়নগুলোতে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহর কুমিল্লা-৪ আসনের ইউনিয়নগুলোও বরাদ্দ পায়নি। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘শুরু থেকেই এই বৈষম্য করা হচ্ছে। সরকারি দলের এমপিরা বরাদ্দ পাচ্ছেন। যেসব আসনের জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তাদের ওপর সরকার প্রতিশোধ নিচ্ছে বরাদ্দ না দিয়ে। এর চেয়ে ঘৃণ্য কাজ আর কী হতে পারে!’ বর্তমান সংসদে বিএনপি জোটের আসন সংখ্যা ২১৪। জামায়াত জোট, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র এমপির সংখ্যা ৮৫। বিএনপি জোটের ২১৪টি আসনের মধ্যে ১২টি আসন শহরাঞ্চলের সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত। এসব আসনে ইউনিয়ন পরিষদ নেই। বাকি ২০২টি আসনে ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর বাইরে অনানুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত জোট ছেড়ে যাওয়া খেলাফতের সিলেট-৫ আসন বরাদ্দ পেয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এগুলো অনৈতিক কাজ। সংবিধান ও আদালতের রায় অনুযায়ী, স্থানীয় উন্নয়নে এমপিদের ভূমিকা থাকার কথা নয়। কিন্তু যখন শুধু সরকারি দলের এমপিদের বরাদ্দ দেওয়া হয় তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য, তখন তা আরও বৈষম্যমূলক হয়ে ওঠে। এর ফল মঙ্গলজনক হবে না।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
৪ রানে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজে রানার্সআপ বাংলাদেশ বিশ্বে আগামী ১৫ বছরে ৮০ কোটি কর্মসংস্থান ঘাটতির শঙ্কা সিজেপির পদযাত্রা ঠেকাতে সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ, দিল্লিতে ২৫ হাজার পুলিশ সীমান্তে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ১৫ ঘণ্টা পর হস্তান্তর করল বিএসএফ বাংলাদেশের মতো ভারতেও তারা সরকার বদল করতে চায়: রাজনাথ ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নিক্ষেপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র সার্কিট হাউসে ফিরেই সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু দুর্গোৎসব ভোটের আগে ২০৩ এমপির জন্য বিশেষ বরাদ্দ রক্তের প্রয়োজন, আছেন সুমন যুদ্ধক্ষেত্রে ‘শিকার’ হিসেবে ব্যবহার, প্রথম দিনই ড্রোন হামলায় নিহত ১৭ বাংলাদেশি: এসআরবি দরিদ্র মানুষের পুষ্টিতেও মূল্যবৃদ্ধির থাবা পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন বন্ধ ও প্রত্যাহারের আহ্বান চীনের এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মধ্যরাতে ককটেল বিস্ফোরণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল আর্জেন্টিনা নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন? জবাবে ট্রাম্পের কৌশলী উত্তর যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলা, ৩ শিশুসহ নিহত ৫ পাকিস্তানের পাশে থাকার ঘোষণা দিলেন বিজেপি নেতা ‘বড় হয়ে ইহুদিদের গুলি করতে চাই’—ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ১০ বছরের ছেলের চিঠি ৩ বিভাগে বৃষ্টির আভাস