ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
গরু-ছাগলের মাংস থেকে পাঁচ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে অ্যানথ্রাক্স, আক্রান্ত শতাধিক, হাসপাতালে বাড়ছে রোগী
প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশন নিয়ে ক্ষোভ, বাদ পড়াদের বড় অংশ হিন্দু বলে অভিযোগ
দলকে জিতিয়ে চোটে পড়লেন এমবাপে
আওয়ামী লীগ নেই, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও ভূলুণ্ঠিত: পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের ইতিহাস চাপা দিতে ভাস্কর্যের বদলে বসছে পানির ফোয়ারা!
এবার ধানমন্ডি থানার সামনে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীর মিছিল, আটক ৩
জাসদের কেন্দ্রীয় সভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের জেরে বিএনপি-যুবদলের সন্ত্রাসী হামলা, আটক ৪০০
বাবা ও তিন ছেলেকে ‘বাংলাদেশি’ বলে সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ
বিএনপি নেতার নেতৃত্বে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেয়ায় সড়কের পাশে টিকাদান, ভোগান্তিতে শিশু-মায়েরা
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার এক দিন পর সড়কের পাশে ত্রিপল টানিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সেন্টারের মূল ফটকের বাইরে টেবিল-চেয়ার বসিয়ে হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে টিকা নিতে আসা শিশু ও তাদের মায়েদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেন্টারের মূল ফটকের বাইরে খোলা জায়গায় কয়েকটি টেবিল ও চেয়ার রাখা হয়েছে। মাথার ওপর ত্রিপল টানিয়ে সেখানে অস্থায়ী টিকাদানকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। কেউ চেয়ারে বসে অপেক্ষা করছেন, কেউ দাঁড়িয়ে আছেন। গরমে শিশুদের অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায়।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, গতকাল থেকে হাম
টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সেন্টারটি ভেঙে দেওয়ায় ফাঁকা জায়গায় ত্রিপল টানিয়ে টেবিল-চেয়ার বসিয়ে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ কাজে আশপাশের লোকজনও সহযোগিতা করছেন। নাসরিন আখতার বলেন, ‘আমাদের এখানে অনেক শিশু আসবে। সে জন্য ফাঁকা জায়গাতেই আমরা অস্থায়ীভাবে ব্যবস্থা করেছি। টিকাদান কার্যক্রম চলছে। তবে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা আপাতত আগের মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিরপুর-১ নম্বরের ওই জমির আয়তন প্রায় ১০ কাঠা। স্বাধীনতার পর জমিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষিত হয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তী সময়ে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান রাড্ডাকে সেখানে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়। জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ
রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও স্থানীয় একটি পক্ষ জমিটিকে নিজেদের পারিবারিক সম্পত্তি দাবি করে মামলা ও দখলের চেষ্টা করেছিল বলে জানা গেছে। ৫ই আগস্টের পর ওই পক্ষের অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে যায় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। এ ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এক সংসদ সদস্যের ইন্ধনের অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই সংসদ সদস্য হামলা, ভাঙচুর বা দখলের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছিল। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙচুর বন্ধ হয়নি। রাতভর বুলডোজার দিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে
দেওয়ার সময় পুলিশের কার্যকর ভূমিকা না থাকার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মামলায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। কমেছে অন্যান্য চিকিৎসাসেবা সেন্টারটির নির্বাহী পরিচালক জানান, তাদের দলে চারজন চিকিৎসক এবং নার্স, প্যারামেডিকসহ প্রায় ১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। তারা বর্তমানে টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সেন্টারটি ভেঙে দেওয়ায় অন্যান্য চিকিৎসাসেবা সীমিত হয়ে পড়েছে। কিছু রোগীকে শুধু প্রেসক্রিপশন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে না। মিরপুরের বাসিন্দা আফসানা আক্তার তার ১৫ মাস বয়সী
ছেলেকে নিয়ে টিকা দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, এটি তার সন্তানের ১৫ মাস বয়সের শেষ টিকা। আগে সেন্টারের ভেতরে বসেই ছেলেকে টিকা দিতে পারতেন। এবার বাইরে এসে টিকা দিতে হচ্ছে। আফসানা আক্তার বলেন, ‘একটু অবাক হয়ে গেছি। ভাবছিলাম হয়তো ফিরে চলে যেতে হবে। কারণ, আমি রাতে ময়মনসিংহ থেকে এসেছি। আমার স্বামী সেখানে চাকরি করেন, আমরা সেখানেই থাকি। কাল রাতে ঢাকায় বাবার বাসায় এসেছি। আজ ছেলেকে এখানে টিকা দিতে নিয়ে এসেছি।’ আরেক মা আয়েশা বেগম তার তিন মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে টিকা দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, আগেরবার ঘরের ভেতরেই টিকা দিতে পেরেছিলেন। এবার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আয়েশা বলেন, ‘ভালো লাগছে না। বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। বাচ্চার
কষ্ট হচ্ছে। গরম লাগছে, কান্নাকাটি করছে।’ নাসরিন আখতার বলেন, যারা আগে থেকে পরিস্থিতি জানেন না, তারা সেবা নিতে এসে অবাক হয়ে যাচ্ছেন। কেউ টিকা দিতে, আবার কেউ আলট্রাসনোগ্রামসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসছেন। কিন্তু সেন্টারের সবকিছু ভেঙে দেওয়া ও লুট করে নিয়ে যাওয়ায় তাদের আশপাশের অন্য কেন্দ্রে যেতে বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মানুষ এলাকার মধ্যেই সেবা পেতে চায়। কিন্তু এখানে আমরা এখন আমাদের সাধ্যমতো শুধু টিকার কাজটা চালিয়ে যাচ্ছি।’ হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সেন্টার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে
তারা মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিএনপির এক সংসদ সদস্যের ইন্ধন এবং পুলিশের নীরব থাকার অভিযোগও উঠেছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর ব্যানারে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল রাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা চালায়। তারা কেন্দ্রটির চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, ভ্যাকসিন, ফ্রিজ, এসি ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। পরে বুলডোজার দিয়ে কেন্দ্রটির একটি পাকা ও কয়েকটি আধাপাকা স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। সেন্টারটি ভেঙে দেওয়ার পর এসব সেবার বড় একটি অংশ বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেছে। বিশেষ করে শিশু ও মায়েদের এখন স্বাস্থ্যসেবা নিতে অন্য কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। এর মধ্যে টিকাদান কার্যক্রম চালু রাখতে সড়কের পাশে অস্থায়ী ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ।
টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সেন্টারটি ভেঙে দেওয়ায় ফাঁকা জায়গায় ত্রিপল টানিয়ে টেবিল-চেয়ার বসিয়ে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ কাজে আশপাশের লোকজনও সহযোগিতা করছেন। নাসরিন আখতার বলেন, ‘আমাদের এখানে অনেক শিশু আসবে। সে জন্য ফাঁকা জায়গাতেই আমরা অস্থায়ীভাবে ব্যবস্থা করেছি। টিকাদান কার্যক্রম চলছে। তবে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা আপাতত আগের মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিরপুর-১ নম্বরের ওই জমির আয়তন প্রায় ১০ কাঠা। স্বাধীনতার পর জমিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষিত হয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তী সময়ে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান রাড্ডাকে সেখানে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়। জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ
রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও স্থানীয় একটি পক্ষ জমিটিকে নিজেদের পারিবারিক সম্পত্তি দাবি করে মামলা ও দখলের চেষ্টা করেছিল বলে জানা গেছে। ৫ই আগস্টের পর ওই পক্ষের অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে যায় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। এ ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এক সংসদ সদস্যের ইন্ধনের অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই সংসদ সদস্য হামলা, ভাঙচুর বা দখলের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছিল। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙচুর বন্ধ হয়নি। রাতভর বুলডোজার দিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে
দেওয়ার সময় পুলিশের কার্যকর ভূমিকা না থাকার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মামলায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। কমেছে অন্যান্য চিকিৎসাসেবা সেন্টারটির নির্বাহী পরিচালক জানান, তাদের দলে চারজন চিকিৎসক এবং নার্স, প্যারামেডিকসহ প্রায় ১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। তারা বর্তমানে টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সেন্টারটি ভেঙে দেওয়ায় অন্যান্য চিকিৎসাসেবা সীমিত হয়ে পড়েছে। কিছু রোগীকে শুধু প্রেসক্রিপশন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে না। মিরপুরের বাসিন্দা আফসানা আক্তার তার ১৫ মাস বয়সী
ছেলেকে নিয়ে টিকা দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, এটি তার সন্তানের ১৫ মাস বয়সের শেষ টিকা। আগে সেন্টারের ভেতরে বসেই ছেলেকে টিকা দিতে পারতেন। এবার বাইরে এসে টিকা দিতে হচ্ছে। আফসানা আক্তার বলেন, ‘একটু অবাক হয়ে গেছি। ভাবছিলাম হয়তো ফিরে চলে যেতে হবে। কারণ, আমি রাতে ময়মনসিংহ থেকে এসেছি। আমার স্বামী সেখানে চাকরি করেন, আমরা সেখানেই থাকি। কাল রাতে ঢাকায় বাবার বাসায় এসেছি। আজ ছেলেকে এখানে টিকা দিতে নিয়ে এসেছি।’ আরেক মা আয়েশা বেগম তার তিন মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে টিকা দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, আগেরবার ঘরের ভেতরেই টিকা দিতে পেরেছিলেন। এবার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আয়েশা বলেন, ‘ভালো লাগছে না। বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। বাচ্চার
কষ্ট হচ্ছে। গরম লাগছে, কান্নাকাটি করছে।’ নাসরিন আখতার বলেন, যারা আগে থেকে পরিস্থিতি জানেন না, তারা সেবা নিতে এসে অবাক হয়ে যাচ্ছেন। কেউ টিকা দিতে, আবার কেউ আলট্রাসনোগ্রামসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসছেন। কিন্তু সেন্টারের সবকিছু ভেঙে দেওয়া ও লুট করে নিয়ে যাওয়ায় তাদের আশপাশের অন্য কেন্দ্রে যেতে বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মানুষ এলাকার মধ্যেই সেবা পেতে চায়। কিন্তু এখানে আমরা এখন আমাদের সাধ্যমতো শুধু টিকার কাজটা চালিয়ে যাচ্ছি।’ হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সেন্টার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে
তারা মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিএনপির এক সংসদ সদস্যের ইন্ধন এবং পুলিশের নীরব থাকার অভিযোগও উঠেছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর ব্যানারে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল রাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা চালায়। তারা কেন্দ্রটির চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, ভ্যাকসিন, ফ্রিজ, এসি ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। পরে বুলডোজার দিয়ে কেন্দ্রটির একটি পাকা ও কয়েকটি আধাপাকা স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। সেন্টারটি ভেঙে দেওয়ার পর এসব সেবার বড় একটি অংশ বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেছে। বিশেষ করে শিশু ও মায়েদের এখন স্বাস্থ্যসেবা নিতে অন্য কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। এর মধ্যে টিকাদান কার্যক্রম চালু রাখতে সড়কের পাশে অস্থায়ী ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ।



