বন্ধুত্ব থেকে বৈরিতা, যেভাবে বদলে গেল ইমরান-নওয়াজের সম্পর্ক – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৬ October, ২০২৬

বন্ধুত্ব থেকে বৈরিতা, যেভাবে বদলে গেল ইমরান-নওয়াজের সম্পর্ক

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৬ October, ২০২৬ |
একসময় তারা ছিলেন বন্ধু। ক্রিকেটের সূত্রে পরিচয়, এরপর ঘনিষ্ঠতা। এমনকি রাজনীতিতে আসার পর একে অপরকে পাশে পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক বদলে যায়। একপর্যায়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে তারা হয়ে ওঠেন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী। তারা হলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তাদের সম্পর্কের শুরু ক্রিকেট মাঠে হলেও শেষ পর্যন্ত তা গড়ায় তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতে। ১৯৯২ সালে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ের পর ইসলামাবাদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের বাসভবনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাদের সম্পর্কের একটি ভিন্ন চিত্র দেখা গিয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে এক বিদেশি সাংবাদিক নওয়াজ শরীফকে ইমরান খানকে নিয়ে প্রশ্ন করেন। নওয়াজ তখন জানান, তিনি আগেই ইমরান খানকে রাজনীতিতে

আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন নওয়াজ শরীফের বয়স ৪৩ এবং ইমরান খানের ৪০ বছর। দুজনই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠার শীর্ষে ছিলেন। কেউই হয়তো ভাবেননি, ভবিষ্যতে তারা পাকিস্তানের রাজনীতির কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে পরিণত হবেন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ে জড়াবেন। ক্রিকেট থেকেই পরিচয় নওয়াজ শরীফ ও ইমরান খান দুজনই লাহোরের সচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠেন। নওয়াজ ছিলেন ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান। ইমরানের বাবা ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। দুজনেরই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ছিল। ইমরান খান ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের টেস্ট দলে জায়গা পান। অন্যদিকে নওয়াজ শরীফের ক্রিকেট ক্যারিয়ার সীমিত পর্যায়ে থাকলেও তিনি ক্লাব ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত ইত্তেফাক ক্রিকেট ক্লাবে সে সময়ের অনেক নামী ক্রিকেটার খেলতেন। লাহোর জিমখানা

ক্রিকেট ক্লাবেই ইমরান ও নওয়াজের পরিচয় হয়। ইমরান তখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছিলেন। নওয়াজ তখন রাজনীতিতে প্রবেশের প্রাথমিক পর্যায়ে। সাবেক ক্রিকেটার ও সাংবাদিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, শুরুতে তাদের সম্পর্ক খুব একটা ঘনিষ্ঠ ছিল না। ইমরানের বাউন্সারে নওয়াজকে প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হতো। পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। রাজনীতিতে নওয়াজ, ক্রিকেটে ইমরান ১৯৮২ সালে ইমরান পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হন। এর আগে ১৯৮১ সালে পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হওয়া নওয়াজ শরীফ ১৯৮৫ সালে প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী হন। দুজনেরই তৎকালীন সামরিক শাসক জেনারেল জিয়া-উল-হকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। তবে নওয়াজের ক্রিকেটপ্রেম তখনও অটুট ছিল। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি নিয়মিত জিমখানায় ক্রিকেট

খেলতেন। এমনকি আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটও খেলেছিলেন। ১৯৮৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে নওয়াজ শরীফের ক্রিকেটপ্রেম নিয়ে মজার একটি ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ইমরান খানকে না জানিয়েই নওয়াজকে ওই ম্যাচে পাকিস্তান দলের অধিনায়ক করা হয়। পরে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ভিভ রিচার্ডসের সঙ্গে টস করতে মাঠে নামেন এবং ব্যাটিংয়ের জন্যও প্রস্তুত হন। শেষ পর্যন্ত নওয়াজ শরীফ দুই বলের বেশি টিকতে পারেননি। দ্বিতীয় বলেই তিনি বোল্ড হয়ে যান। ইমরানের সাফল্যে নওয়াজের ভূমিকা ১৯৮৮ সালে নওয়াজ আবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ১৯৯০ সালে প্রথমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। একই সময়ে ইমরান খানের ক্রিকেট ক্যারিয়ারও সাফল্যের শীর্ষে ওঠে। ১৯৯২

বিশ্বকাপের আগে ইমরানের দল থেকে জাভেদ মিয়াঁদাদ বাদ পড়ার ঘটনায় নওয়াজ শরীফের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছেন জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক কামার আহমেদ। তবে মিয়াঁদাদ নিজে এ বিষয়ে নওয়াজের ভূমিকা নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে ইমরান খানের আরেকটি বড় প্রকল্প শওকত খানম হাসপাতাল নির্মাণে নওয়াজ শরীফের সহযোগিতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ১৯৯২ বিশ্বকাপের আগেই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নওয়াজ হাসপাতালের জন্য জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে ইমরানকে সহায়তা করেন। পরে হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানেও নওয়াজ উপস্থিত ছিলেন। রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব ১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের পর ইমরান খানকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানান নওয়াজ শরীফ। ইমরান তখন জানান, তাকে এর আগে দুবার রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু

তিনি নিজেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখতে পাচ্ছিলেন না। তবে মাত্র চার বছর পর, ১৯৯৬ সালে ইমরান খান তেহরিক-ই-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। রাজনীতিতে আসার আগে নওয়াজ শরীফ আবারও ইমরানকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ইমরানের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, নওয়াজ তাকে প্রথমে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ এবং পরে জাতীয় পরিষদের ২০টি আসন নিয়ে জোট করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমনকি তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে পি জে মীরের দাবি। ইমরান অবশ্য সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। নিজের আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন, নওয়াজ শরীফ ও বেনজির ভুট্টোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত মনে করতেন। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আবার একসঙ্গে ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে ইমরান খান ও তার দল বড় ধরনের পরাজয়ের

মুখে পড়ে। অন্যদিকে নওয়াজ শরীফ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর জেনারেল পারভেজ মুশাররফ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নওয়াজ সরকারের পতন ঘটান। নওয়াজ কারাবন্দি হওয়ার পর সৌদি আরবে নির্বাসিত হন। অন্যদিকে, প্রথমে মুশাররফকে সমর্থন করলেও পরবর্তী সময়ে ইমরানও তার কাছ থেকে দূরে সরে যান। ২০০৭ সালে মুশাররফের আমলেই ইমরান কারাবন্দি হন। এরপর লন্ডনে নওয়াজের সঙ্গে ইমরানের সাক্ষাৎ হয়। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তারা আবারও একজোট হন। ২০০৭ সালের জুনে তারা পারভেজ মুশাররফের শাসনের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দেন এবং অল পার্টিজ ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টে যুক্ত হন। তবে সেই জোটও বেশিদিন টেকেনি। নির্বাচন বর্জন নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে আবারও তাদের পথ আলাদা হয়ে যায়। বন্ধুত্ব থেকে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই ২০১১ সালে ইমরান খান নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সামনে আসেন। তখনও তার প্রধান রাজনৈতিক আক্রমণের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান পিপলস পার্টি। নওয়াজ শরীফের সঙ্গে তার সম্পর্ক পুরোপুরি বৈরী হয়ে ওঠেনি। কিন্তু ২০১৩ সালের নির্বাচন সামনে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। নওয়াজ শরীফ ও ইমরান খান বুঝতে পারেন, পাকিস্তানের রাজনীতিতে তাদের লড়াই মূলত একে অপরকে ঘিরেই। এরপর তাদের রাজনৈতিক ভাষা ও অবস্থান ক্রমেই কঠোর হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে নওয়াজ শরীফ দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যান। একই নির্বাচনে ইমরান খান প্রথমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। যে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে একসময় নওয়াজ তাকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই বাসভবনের বাসিন্দাই হন ইমরান। কিন্তু ইমরানের প্রধানমন্ত্রিত্বও পূর্ণ মেয়াদ পায়নি। তিনি তার ক্ষমতাচ্যুতির জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাশাপাশি তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াকেও দায়ী করেন। নওয়াজ শরীফও এর আগে একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। আবারও কি এক হতে পারেন? পাকিস্তানের রাজনীতিতে পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বীদের মিত্র হয়ে ওঠার নজির রয়েছে। নওয়াজ শরীফ ও বেনজির ভুট্টোর দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধের পর ২০০৭ সালে তাদের মধ্যে ‘চার্টার অব ডেমোক্রেসি’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তাই প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে নওয়াজ শরীফ ও ইমরান খানও কি আবার কোনো সমঝোতায় যেতে পারেন? সোহেল ওয়ারাইচ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে জোটের সুযোগ নেই। তবে পি জে মীরের ধারণা, কোনো না কোনোভাবে তাদের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে এবং এবার তারা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একসঙ্গে অবস্থান নিতে পারেন। বন্ধুত্ব থেকে রাজনৈতিক জোট, এরপর বিরোধ এবং শেষ পর্যন্ত তীব্র বৈরিতা—ইমরান খান ও নওয়াজ শরীফের সম্পর্ক তাই পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক দীর্ঘ ও নাটকীয় অধ্যায়। তাদের সম্পর্কের পরিবর্তনের সঙ্গে দেশটির ক্ষমতার রাজনীতি, সামরিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের পরিবর্তনও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের