ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
সরকারপন্থীদের ঢোকাতে সরকারি কমিটিগুলো থেকে আওয়ামীপন্থী ট্যাগে বাদ পড়ছেন কর্মকর্তারা, নির্দেশনা জারি
বাসের পর লঞ্চেও অরাজকতা: নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা নেই, যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো আদায়
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ: ইউরোপের চার দেশের সমর্থন
ফেসবুকে তারেক রহমানের সমালোচনামূলক ভিডিওতে ‘লাইক’ দেওয়ায় বরখাস্ত শিক্ষক!
২৮০ কোটি টাকার সড়ক এখন চষা ক্ষেত: ‘লীগ-সম্পৃক্ততায়’ বাতিল ঠিকাদারের কার্যাদেশ, কাজও বন্ধ এক বছর ধরে
কৃষকের ভর্তুকির সার পাচার হয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারে, বিনিময়ে ঢুকছে ইয়াবা-অস্ত্র
ভারতীয় ইলিশে দেশের বাজার সয়লাব, ১৯০ টাকার ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৮শ টাকায়!
বনশ্রীতে পথকুকুরদের খাবার দেওয়া তরুণীকে পেটালেন যুবদলের নেতাকর্মীরা
রাজধানীর বনশ্রীতে পথকুকুরকে খাবার দিতে গিয়ে সুমাইয়া রহমান নামে এক তরুণীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
হামলায় জড়িত মাঈনুল, শুভ ও হালিম রামপুরা থানা যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সুমাইয়ার অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে বনশ্রীর এফ ব্লকের ৮/৩ নম্বর রোডের লাল মিয়া গলিতে কুকুরকে খাবার দেওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়।
সুমাইয়া রাজধানীর বনশ্রীর বাসিন্দা এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বুধবার সন্ধ্যায় বনশ্রীতে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখান। তার চোখের নিচে ও মুখে আঘাতের দাগ দেখা যায়। হাতের কয়েকটি স্থানও কালচে হয়ে গেছে।
সুমাইয়া
বলেন, ‘কুকুরগুলো আমাকে অনেক পছন্দ করে। যখনই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাই, ওরা আমার পিছু নেয়। কারণ ওদের আমি নিয়মিত খাওয়াই। গতকালও ওই গলিতে খাওয়াতে গেলে স্থানীয় কিছু মানুষের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা আমাকে কিল, ঘুষি, লাথি মারে।’ তার অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে লাল মিয়া গলির একটি কাপড়ের দোকানের সামনে কয়েকটি কুকুরকে খাবার দিচ্ছিলেন তিনি। কুকুরগুলো দোকানের সিঁড়িতে উঠে গেলে দোকানে থাকা ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর তাকে সরে যেতে বলেন। কিছুটা দেরি হওয়ায় দোকানের ভেতর থাকা আরেক ব্যক্তি তাকে সরে যেতে বলেন। সুমাইয়া বলেন, ওই কিশোর তাকে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে ২০ থেকে
২২ বছর বয়সী এক তরুণ বেরিয়ে এসে তার মুখে ঘুষি মারেন। পরে ওই তরুণ আশপাশ থেকে আরও লোকজন জড়ো করেন বলে অভিযোগ তার। সুমাইয়ার ভাষ্য, ৫০ থেকে ৬০ জনের মতো মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে তাকে মারধর ও গালিগালাজ করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে তাকে হেনস্তা করা হয়। সুমাইয়া বলেন, ‘তারা আমাকে বাজেভাবে আঘাত করেছে। সবচেয়ে বেশি মেরেছে পিঠের ওপর। প্রাণ বাঁচাতে কোনো রকমে আমি তখন ওই এলাকা থেকে পালিয়ে আসি।’ ঘটনার সময় সুমাইয়ার সঙ্গে ছিলেন আসিফ ইমতিয়াজ নামের এক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। তিনিও বনশ্রী এলাকায় পথকুকুরকে খাবার দেন। আসিফ বলেন, সুমাইয়া কুকুরকে খাবার দেওয়ার সময় দোকানের কিশোর বয়সী একজন প্রথমে তাদের সরে যেতে বলেন। তারা
দুই মিনিটের মধ্যে চলে যাওয়ার কথা বললেও স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে স্থান ত্যাগ করতে বলেন। পরে সুমাইয়াকে মারধর করা হয় বলে জানান তিনি। আসিফ জানান, ঘটনার সময় তিনি পূর্বপরিচিত একজনের সহায়তা নিতে কাছাকাছি যান। তবে সহায়তা না পেয়ে ফিরে এসে সুমাইয়াকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তার দাবি, তাকেও মারধর করা হতে পারত। বুধবার বিকেলে লাল মিয়া গলিতে গিয়ে দেখা যায়, যে কাপড়ের দোকানের সামনে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি বন্ধ। আশপাশের কয়েকটি দোকানও বন্ধ ছিল। স্থানীয় কয়েকজন ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। নূর হোসেন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে এক নারীকে মারধর করা হয়েছে। তার দাবি, কুকুরকে খাবার দিতে গিয়ে সুমাইয়া দোকানের
জায়গা নোংরা করছিলেন। তাকে বাধা দেওয়ার পর তিনি দোকানের মালিককে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আরেক ব্যক্তি দাবি করেন, সুমাইয়াকে প্রথম যে ব্যক্তি আঘাত করেন তার নাম শুভ। তিনি স্থানীয় মাঈনুল ও হালিম নামের দুই ভাইয়ের সহযোগী এবং হালিমের শ্যালক। কাপড়ের দোকানটি মূলত শুভ পরিচালনা করেন বলেও দাবি করেন ওই ব্যক্তি। ওই ব্যক্তির ভাষ্য, শুভ আশপাশের ৫০ থেকে ৬০ জনকে জড়ো করে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সুমাইয়াকে হেনস্তা ও মারধর করেন। স্থানীয়রা জানালেন, মাঈনুল, শুভ ও হালিম রামপুরা থানা যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মারধরের পর বুধবার সকালে সুমাইয়া মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তিনি জানান, চোয়ালে বেশি আঘাত
লেগেছে। চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর এক্স-রে করার পরামর্শ দিয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে বুধবার খিলগাঁও থানায় অভিযোগ করেন সুমাইয়া। অভিযোগের পর বিকেলে পুলিশের একটি দল তাকে সঙ্গে নিয়ে লাল মিয়া গলি পরিদর্শন করে। পুলিশের দলটিতে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগীকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। কিন্তু কারা তার ওপর হামলা করেছে, ভুক্তভোগী তাদের শনাক্ত করতে পারেনি।’ তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী মারধরের শিকার হয়েছেন। তবে কারা জড়িত, সেটা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। স্থানীয়রা কেউ ঘটনা স্বীকার করছে না। আমরা এখনো তদন্ত করছি। প্রকৃত ঘটনা বোঝার চেষ্টা করছি। আগামীকাল অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীদের নিয়ে আবার বসার কথা রয়েছে। সেখানে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসতে পারে।’ পুলিশ
জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
বলেন, ‘কুকুরগুলো আমাকে অনেক পছন্দ করে। যখনই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাই, ওরা আমার পিছু নেয়। কারণ ওদের আমি নিয়মিত খাওয়াই। গতকালও ওই গলিতে খাওয়াতে গেলে স্থানীয় কিছু মানুষের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা আমাকে কিল, ঘুষি, লাথি মারে।’ তার অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে লাল মিয়া গলির একটি কাপড়ের দোকানের সামনে কয়েকটি কুকুরকে খাবার দিচ্ছিলেন তিনি। কুকুরগুলো দোকানের সিঁড়িতে উঠে গেলে দোকানে থাকা ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর তাকে সরে যেতে বলেন। কিছুটা দেরি হওয়ায় দোকানের ভেতর থাকা আরেক ব্যক্তি তাকে সরে যেতে বলেন। সুমাইয়া বলেন, ওই কিশোর তাকে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে ২০ থেকে
২২ বছর বয়সী এক তরুণ বেরিয়ে এসে তার মুখে ঘুষি মারেন। পরে ওই তরুণ আশপাশ থেকে আরও লোকজন জড়ো করেন বলে অভিযোগ তার। সুমাইয়ার ভাষ্য, ৫০ থেকে ৬০ জনের মতো মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে তাকে মারধর ও গালিগালাজ করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে তাকে হেনস্তা করা হয়। সুমাইয়া বলেন, ‘তারা আমাকে বাজেভাবে আঘাত করেছে। সবচেয়ে বেশি মেরেছে পিঠের ওপর। প্রাণ বাঁচাতে কোনো রকমে আমি তখন ওই এলাকা থেকে পালিয়ে আসি।’ ঘটনার সময় সুমাইয়ার সঙ্গে ছিলেন আসিফ ইমতিয়াজ নামের এক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। তিনিও বনশ্রী এলাকায় পথকুকুরকে খাবার দেন। আসিফ বলেন, সুমাইয়া কুকুরকে খাবার দেওয়ার সময় দোকানের কিশোর বয়সী একজন প্রথমে তাদের সরে যেতে বলেন। তারা
দুই মিনিটের মধ্যে চলে যাওয়ার কথা বললেও স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে স্থান ত্যাগ করতে বলেন। পরে সুমাইয়াকে মারধর করা হয় বলে জানান তিনি। আসিফ জানান, ঘটনার সময় তিনি পূর্বপরিচিত একজনের সহায়তা নিতে কাছাকাছি যান। তবে সহায়তা না পেয়ে ফিরে এসে সুমাইয়াকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তার দাবি, তাকেও মারধর করা হতে পারত। বুধবার বিকেলে লাল মিয়া গলিতে গিয়ে দেখা যায়, যে কাপড়ের দোকানের সামনে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি বন্ধ। আশপাশের কয়েকটি দোকানও বন্ধ ছিল। স্থানীয় কয়েকজন ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। নূর হোসেন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে এক নারীকে মারধর করা হয়েছে। তার দাবি, কুকুরকে খাবার দিতে গিয়ে সুমাইয়া দোকানের
জায়গা নোংরা করছিলেন। তাকে বাধা দেওয়ার পর তিনি দোকানের মালিককে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আরেক ব্যক্তি দাবি করেন, সুমাইয়াকে প্রথম যে ব্যক্তি আঘাত করেন তার নাম শুভ। তিনি স্থানীয় মাঈনুল ও হালিম নামের দুই ভাইয়ের সহযোগী এবং হালিমের শ্যালক। কাপড়ের দোকানটি মূলত শুভ পরিচালনা করেন বলেও দাবি করেন ওই ব্যক্তি। ওই ব্যক্তির ভাষ্য, শুভ আশপাশের ৫০ থেকে ৬০ জনকে জড়ো করে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সুমাইয়াকে হেনস্তা ও মারধর করেন। স্থানীয়রা জানালেন, মাঈনুল, শুভ ও হালিম রামপুরা থানা যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মারধরের পর বুধবার সকালে সুমাইয়া মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তিনি জানান, চোয়ালে বেশি আঘাত
লেগেছে। চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর এক্স-রে করার পরামর্শ দিয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে বুধবার খিলগাঁও থানায় অভিযোগ করেন সুমাইয়া। অভিযোগের পর বিকেলে পুলিশের একটি দল তাকে সঙ্গে নিয়ে লাল মিয়া গলি পরিদর্শন করে। পুলিশের দলটিতে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগীকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। কিন্তু কারা তার ওপর হামলা করেছে, ভুক্তভোগী তাদের শনাক্ত করতে পারেনি।’ তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী মারধরের শিকার হয়েছেন। তবে কারা জড়িত, সেটা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। স্থানীয়রা কেউ ঘটনা স্বীকার করছে না। আমরা এখনো তদন্ত করছি। প্রকৃত ঘটনা বোঝার চেষ্টা করছি। আগামীকাল অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীদের নিয়ে আবার বসার কথা রয়েছে। সেখানে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসতে পারে।’ পুলিশ
জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।



