ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশন নিয়ে ক্ষোভ, বাদ পড়াদের বড় অংশ হিন্দু বলে অভিযোগ
দলকে জিতিয়ে চোটে পড়লেন এমবাপে
আওয়ামী লীগ নেই, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও ভূলুণ্ঠিত: পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের ইতিহাস চাপা দিতে ভাস্কর্যের বদলে বসছে পানির ফোয়ারা!
বিএনপি নেতার নেতৃত্বে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেয়ায় সড়কের পাশে টিকাদান, ভোগান্তিতে শিশু-মায়েরা
এবার ধানমন্ডি থানার সামনে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীর মিছিল, আটক ৩
জাসদের কেন্দ্রীয় সভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের জেরে বিএনপি-যুবদলের সন্ত্রাসী হামলা, আটক ৪০০
বাবা ও তিন ছেলেকে ‘বাংলাদেশি’ বলে সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ
গরু-ছাগলের মাংস থেকে পাঁচ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে অ্যানথ্রাক্স, আক্রান্ত শতাধিক, হাসপাতালে বাড়ছে রোগী
দেশের বিভিন্ন জেলার কয়েকটি উপজেলায় অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একটি জেলায় আক্রান্ত ৩১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাগুলো অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে রংপুরের পীরগাছা এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলাতেও অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে দুই মাস আগে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়ও রোগটির সংক্রমণ দেখা দেয়। সব মিলিয়ে গত দুই মাসে পাঁচ জেলায় শতাধিক মানুষ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং আইইডিসিআর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইইডিসিআরের তথ্য বলছে, অ্যানথ্রাক্স একটি প্রাণীবাহিত
বা জুনোটিক রোগ। মাটিতে এ রোগের জীবাণু থাকতে পারে। ঘাস কিংবা ঘাসজাতীয় খাবার খাওয়ার সময় গরু-মহিষের মতো তৃণভোজী প্রাণী অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হতে পারে। পরে এসব আক্রান্ত গরু বা মহিষের মাধ্যমে মূলত মানুষের শরীরে রোগটি ছড়ায়। আক্রান্ত গরু বা মহিষের মাংস নাড়াচাড়া করা কিংবা কাঁচা বা অর্ধসেদ্ধ মাংস খাওয়ার ফলে মানুষের অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্স ছড়ায় না। মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্স ত্বক, গলার ভেতরের অংশ এবং পাকস্থলীতে দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে ত্বকেই এ রোগের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রথমে চুলকানিযুক্ত লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পরে সেই ফুসকুড়ি ফোসকায় রূপ নেয়। সময়মতো রোগ
শনাক্ত করা না হলে এবং যথাযথ সময়ে চিকিৎসা শুরু না হলে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সুন্দরগঞ্জে বড় প্রাদুর্ভাব গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে গতকাল মঙ্গলবার অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৩১ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে আক্রান্ত সাতজন হাসপাতালে আসে, এরপর আসে আরও ১৪ জন। এখন সব মিলে ৩১ জন রোগী ভর্তি আছে।’ তার আশঙ্কা, আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মো. কামরুল ইসলাম জানান, গত ৯ই সেপ্টেম্বর একটি গরু জবাই করার পর সেটিকে ১০০ ভাগ করা হয়। গরুটি আকারে বেশ বড় হলেও রুগ্ণ ছিল। জবাইয়ের পর ভাগ করা ওই গরুর মাংস যেসব বাড়িতে পৌঁছেছিল, মূলত সেসব বাড়ির লোকজনই
পরে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা রোগীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও জানান, আগস্ট মাসেও সুন্দরগঞ্জে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় একটি রুগ্ণ গরু জবাই করে কয়েকজন ব্যক্তি মাংস ভাগ করে নেন। পরে ৩০শে আগস্ট অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হন। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান গতকাল জানান, আগস্ট মাসে এ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৩৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন আরও ১৮ জন। আক্রান্ত ব্যক্তিরা মূলত অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রুগ্ণ ছাগলের মাংস কাটাকাটি কিংবা নাড়াচাড়া করার কারণে সংক্রমিত হয়েছেন। তবে তাদের কাউকেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। আইইসিডিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরগঞ্জের ঘটনাটি বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব। অন্যদিকে রংপুরের পীরগাছা
ও দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ঘটনাগুলো তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্ন। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই মাস আগে উপজেলার দুটি গ্রামের অন্তত ১৫ জন মানুষ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আক্রান্ত প্রত্যেকেরই রুগ্ণ গরুর মাংসের সংস্পর্শে আসার ইতিহাস ছিল। বাংলাদেশ পশুসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, চলতি বছর রংপুরের একটি উপজেলা এবং গাইবান্ধার একটি উপজেলার গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। দেশের কোনো এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সেখানে অনুসন্ধান দল পাঠায় আইইডিসিআর। সুন্দরগঞ্জেও এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির একটি অনুসন্ধান দল পাঠানো হয়েছে। প্রাদুর্ভাবের পেছনের কারণ অনুসন্ধান করছে দলটি। অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ
জাকী বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে ১০০ শতাংশ গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। এই দায়িত্ব পশুসম্পদ অধিদপ্তরের। অন্যদিকে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত গরু–মহিষ বা অন্য কোনো পশুকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিধিমোতাবেক মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে। আক্রান্ত গবাদিপশু যেন কেউ জবাই বা বিক্রি না করে, সে ব্যাপারে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রাণিসম্পদ বিভাগেরও নজরদারি বাড়াতে হবে।’
বা জুনোটিক রোগ। মাটিতে এ রোগের জীবাণু থাকতে পারে। ঘাস কিংবা ঘাসজাতীয় খাবার খাওয়ার সময় গরু-মহিষের মতো তৃণভোজী প্রাণী অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হতে পারে। পরে এসব আক্রান্ত গরু বা মহিষের মাধ্যমে মূলত মানুষের শরীরে রোগটি ছড়ায়। আক্রান্ত গরু বা মহিষের মাংস নাড়াচাড়া করা কিংবা কাঁচা বা অর্ধসেদ্ধ মাংস খাওয়ার ফলে মানুষের অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্স ছড়ায় না। মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্স ত্বক, গলার ভেতরের অংশ এবং পাকস্থলীতে দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে ত্বকেই এ রোগের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রথমে চুলকানিযুক্ত লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পরে সেই ফুসকুড়ি ফোসকায় রূপ নেয়। সময়মতো রোগ
শনাক্ত করা না হলে এবং যথাযথ সময়ে চিকিৎসা শুরু না হলে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সুন্দরগঞ্জে বড় প্রাদুর্ভাব গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে গতকাল মঙ্গলবার অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৩১ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে আক্রান্ত সাতজন হাসপাতালে আসে, এরপর আসে আরও ১৪ জন। এখন সব মিলে ৩১ জন রোগী ভর্তি আছে।’ তার আশঙ্কা, আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মো. কামরুল ইসলাম জানান, গত ৯ই সেপ্টেম্বর একটি গরু জবাই করার পর সেটিকে ১০০ ভাগ করা হয়। গরুটি আকারে বেশ বড় হলেও রুগ্ণ ছিল। জবাইয়ের পর ভাগ করা ওই গরুর মাংস যেসব বাড়িতে পৌঁছেছিল, মূলত সেসব বাড়ির লোকজনই
পরে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা রোগীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও জানান, আগস্ট মাসেও সুন্দরগঞ্জে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় একটি রুগ্ণ গরু জবাই করে কয়েকজন ব্যক্তি মাংস ভাগ করে নেন। পরে ৩০শে আগস্ট অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হন। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান গতকাল জানান, আগস্ট মাসে এ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৩৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন আরও ১৮ জন। আক্রান্ত ব্যক্তিরা মূলত অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রুগ্ণ ছাগলের মাংস কাটাকাটি কিংবা নাড়াচাড়া করার কারণে সংক্রমিত হয়েছেন। তবে তাদের কাউকেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। আইইসিডিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরগঞ্জের ঘটনাটি বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব। অন্যদিকে রংপুরের পীরগাছা
ও দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ঘটনাগুলো তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্ন। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই মাস আগে উপজেলার দুটি গ্রামের অন্তত ১৫ জন মানুষ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আক্রান্ত প্রত্যেকেরই রুগ্ণ গরুর মাংসের সংস্পর্শে আসার ইতিহাস ছিল। বাংলাদেশ পশুসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, চলতি বছর রংপুরের একটি উপজেলা এবং গাইবান্ধার একটি উপজেলার গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। দেশের কোনো এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সেখানে অনুসন্ধান দল পাঠায় আইইডিসিআর। সুন্দরগঞ্জেও এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির একটি অনুসন্ধান দল পাঠানো হয়েছে। প্রাদুর্ভাবের পেছনের কারণ অনুসন্ধান করছে দলটি। অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ
জাকী বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে ১০০ শতাংশ গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। এই দায়িত্ব পশুসম্পদ অধিদপ্তরের। অন্যদিকে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত গরু–মহিষ বা অন্য কোনো পশুকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিধিমোতাবেক মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে। আক্রান্ত গবাদিপশু যেন কেউ জবাই বা বিক্রি না করে, সে ব্যাপারে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রাণিসম্পদ বিভাগেরও নজরদারি বাড়াতে হবে।’



