কাজীদের ক্ষমতা শেষ, এবার সরকারি রেজিস্ট্রারের হাতে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির দায়িত্ব – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ September, ২০২৬

কাজীদের ক্ষমতা শেষ, এবার সরকারি রেজিস্ট্রারের হাতে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির দায়িত্ব

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ September, ২০২৬ |
আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। এখন থেকে মুসলিমদের বিয়ে সরকারি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আসাম মুসলিম বিবাহ নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক বিধিমালা ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ক্ষেত্রে কাজীদের পুরোনো ভূমিকা পুরোপুরি শেষ হয়ে সরকারি ব্যবস্থার আওতায় আসছে পুরো প্রক্রিয়া। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, রাজ্যজুড়ে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির জন্য একই ধরনের সরকারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। সরকারি রেজিস্ট্রাররাই এই দায়িত্ব পালন করবেন। বিয়ের নথিভুক্তির আবেদন বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও রেজিস্ট্রার নিয়োগ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। আসাম সরকার ২০২৪ সালে মুসলিম বিবাহ

ও বিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক নথিভুক্তি আইন চালু করেছিল। সেই আইনের মাধ্যমে কাজীদের হাতে থাকা মুসলিম বিয়ে নথিভুক্ত করার ক্ষমতা তুলে নেওয়া হয়। তবে নতুন করে দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে তখন বিস্তারিত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়নি। এবার ২০২৬ সালের বিধিমালা অনুমোদনের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব সরকারি রেজিস্ট্রারদের হাতে দেওয়া হলো। নতুন ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য মুসলিম বিয়েকে সরকারি নথির আওতায় আনা এবং বাল্য বিয়ে বিবাহ করা। ২০২৪ সালের আইনে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়েদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং ছেলেদের বয়স অন্তত ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিয়ে নথিভুক্তির সময় বয়স, পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ছেলে

ও মেয়ের স্বেচ্ছায় বিয়েতে সম্মতির ঘোষণাপত্রও প্রয়োজন হবে। আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৩৫ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ নথিভুক্তি আইনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক ছিল না। পরে ২০১০ সালে সেই আইনে পরিবর্তন এনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে তখনও নথিভুক্তির দায়িত্ব কাজীদের হাতেই ছিল। ২০২৪ সালের নতুন আইনে কাজীদের সেই ক্ষমতা তুলে নেওয়া হলেও সরকারি ব্যবস্থায় কীভাবে নথিভুক্তি হবে, তা নিয়ে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। এবার মন্ত্রিসভার অনুমোদিত নতুন বিধিমালায় সেই ব্যবস্থাই স্পষ্ট করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় মুসলিম বিয়ের সরকারি নথি আরও সুশৃঙ্খল হবে।

একই সঙ্গে বয়স যাচাই এবং পরিচয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে নাবালিকা বিয়ে ঠেকাতেও প্রশাসনের পক্ষে নজরদারি সহজ হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে ধর্মীয়ভাবে প্রচলিত প্রথার পাশাপাশি সরকারি নথিভুক্তির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। বিয়ে নথিভুক্তির জন্য সরকারি রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করতে হবে এবং নির্ধারিত নথি ও বয়সের শর্ত পূরণ করতে হবে। আসাম সরকারের নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর রাজ্যের মুসলিম সমাজে বিয়ে নথিভুক্তির পুরো প্রক্রিয়াই সরকারি প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে চলে যাবে। কাজীদের মাধ্যমে নথিভুক্তির পুরোনো ব্যবস্থা আর থাকবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের