ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
গরু-ছাগলের মাংস থেকে পাঁচ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে অ্যানথ্রাক্স, আক্রান্ত শতাধিক, হাসপাতালে বাড়ছে রোগী
প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশন নিয়ে ক্ষোভ, বাদ পড়াদের বড় অংশ হিন্দু বলে অভিযোগ
দলকে জিতিয়ে চোটে পড়লেন এমবাপে
বিএনপি নেতার নেতৃত্বে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেয়ায় সড়কের পাশে টিকাদান, ভোগান্তিতে শিশু-মায়েরা
এবার ধানমন্ডি থানার সামনে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীর মিছিল, আটক ৩
জাসদের কেন্দ্রীয় সভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের জেরে বিএনপি-যুবদলের সন্ত্রাসী হামলা, আটক ৪০০
বাবা ও তিন ছেলেকে ‘বাংলাদেশি’ বলে সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ
আওয়ামী লীগ নেই, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও ভূলুণ্ঠিত: পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের ইতিহাস চাপা দিতে ভাস্কর্যের বদলে বসছে পানির ফোয়ারা!
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য না বানিয়ে বরং পানির ফোয়ারা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আর এ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তুমুল সমালোচনা।
২০২৪-এর ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধ, একাত্তর, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য, স্মারক, ম্যুরাল, জাদুঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব স্থাপনাকে আওয়ামী লীগের ‘রাজনৈতিক স্থাপনা’ আখ্যা দিয়ে মূল্যবান স্মৃতি-স্মারকগুলোর ধ্বংসসাধন করা হয়।
এমনকি সারাদেশে শত শত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করা হয়, জুতার মালা গলায় দিয়ে তাদের ওপর হামলার পাশাপাশি মামলা এবং মব করে তাদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনাও ঘটে।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধ এবং ইতিহাসের
চর্চার যে জোয়ার বহমান ছিল, সে নিয়ে সমালোচনা করতেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন। দাবি করা হতো, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে ‘কুক্ষিগত’ করে রেখেছে বলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূস এসে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংসকারীদের দায়মুক্তি দেন, তারপর বলেন ‘রিসেট’ বাটন চেপে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বদলে ফেলবেন। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর-স্মারক-ভাস্কর্য ভেঙে সংসদে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও জুলাই জাদুঘরের ক্ষেত্রে ১০ বছর জেল ৫ই আগস্টের পর ভেঙে দেওয়া মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্মৃতিচিহ্ন পুননির্মাণ করা হয়নি। বিএনপি সরকারও ইউনূসের দেখানো পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ। এরই ধারাবাহিকতায় এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভাস্কর্যের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা স্থাপনের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর লজ্জাজনক
ইতিহাসকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিএনপি সরকারের পাকিস্তান-প্রেমের ফলাফল বলে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা করছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ। শুধু পানির ফোয়ারা স্থাপনই নয়, এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ‘হলোগ্রাফিক থ্রিডি’ উপস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বিষয়ে গত ৬ই আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব পরিবর্তনের (রিস্কোপিং ও রিপারপসিং) উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে। পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ নামে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের জুনে। প্রকল্পের আওতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর
আত্মসমর্পণের স্থানে দুটি ভাস্কর্য বানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটলে সেই উদ্যোগ থেমে যায়। যে দুটি স্থানে ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ চলছিল, সেসব স্থানে ভাঙচুরও চালানো হয়। এরপর গত বছরের মার্চে ইউনূসের অরন্তর্বর্তী সরকার জানিয়ে দেয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে ভাস্কর্য দুটি হচ্ছে না। আর এখন এসে ওই দুই স্থানে পানির ফোয়ারা বসানোর উদ্যোগ নিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। ধানমন্ডি-৩২ এর ঐতিহাসিক জাদুঘর পানির ফোয়ারা বসানোর উদ্যোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি এ বিষয়ে ‘দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে’ কথা বলার পরামর্শ দেন। এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন
করা অতিরিক্ত সচিব হাসনা জাহান খানমও। তিনি জানিয়ে দেন, এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সরকারের নির্দিষ্ট ব্যক্তি আছেন; তিনি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহজাজান মিয়ার সাথে কথা বলতে বলেন। আবার শাহজাজান মিয়া বললেন তিনি এ নিয়ে কথা বলতে পারবেন না, জানতে হলে যেতে হবে পলি করের কাছে। পলি কর বিস্তারিত বলতে পারবেন। মন্ত্রণালয় যে প্রতিবেদনে পানির ফোয়ারা বসানোর মতামত তুলে ধরেছে, সেখানে উপসচিব পলি করের সই রয়েছে। যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকার কথা বলেন। তবে নথিতে নিজের সই থাকার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। এছাড়া, প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে থাকা প্রণব কুমার সাহার সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ
করা যায়নি। একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। এমনকি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তার যে দাপ্তরিক কক্ষ রয়েছে, সেখানে একাধিক দিন গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির তৃতীয় পর্যায়ের (প্রথম সংশোধিত) প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৯৭ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৭৫.৯১ শতাংশ; ভৌত অগ্রগতি ৯৪ শতাংশ। মন্ত্রণালয়ের মতামত তুলে ধরে নথিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় থানা নির্মাণ, ৭ই মার্চের ভাষণ ও ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থান দুটিতে ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে ওয়াটার ফাউন্টেন স্থাপন করা হবে। এজন্য নকশা পরিমার্জনের কথাও বলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ‘হলোগ্রাফিক থ্রিডি’ উপস্থাপনার বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনার কথাও বলা হয়েছে নথিতে। মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের
দায়িত্বে থাকা এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রণালয়ের লোকজনের চাপে পড়ে প্রকল্পের ভৌত কাজের এবং কিছু স্থাপনার নকশায় পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে। এগুলো একনেকে উঠুক, তারপর দেখা যাবে, কীভাবে বাস্তবায়ন হয়। অতটা সহজ নয়, সব নকশা পরিবর্তন করা যায় না। এটা জাতীয় বিষয়, ইচ্ছে করলেই বাস্তবায়ন করা যায় না। তিনি বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ দুটি স্থানের পরিকল্পনা বদলালে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কতটা অক্ষুণ্ণ থাকবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। মাতৃভাষা দিবসের রূপকারের ম্যুরাল ভাঙচুর, মুক্তিযোদ্ধা হওয়াই অপরাধ কি না, প্রশ্ন জনগণের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রূপকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের ম্যুরাল ভাঙচুর ৭ই মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানটির অবস্থান উদ্যানের উত্তর-পশ্চিম কোণায়। ছবির হাটের ফটক দিয়ে ঢুকে কয়েক কদম এগোলেই হাতের বাঁয়ে স্থানটি পড়ে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভাস্কর্য নির্মাণের স্থান টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ভেতরে নির্মাণাধীন কিছু অবকাঠামো পড়ে রয়েছে। সূত্র: বিডিনিউজ
চর্চার যে জোয়ার বহমান ছিল, সে নিয়ে সমালোচনা করতেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন। দাবি করা হতো, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে ‘কুক্ষিগত’ করে রেখেছে বলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূস এসে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংসকারীদের দায়মুক্তি দেন, তারপর বলেন ‘রিসেট’ বাটন চেপে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বদলে ফেলবেন। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর-স্মারক-ভাস্কর্য ভেঙে সংসদে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও জুলাই জাদুঘরের ক্ষেত্রে ১০ বছর জেল ৫ই আগস্টের পর ভেঙে দেওয়া মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্মৃতিচিহ্ন পুননির্মাণ করা হয়নি। বিএনপি সরকারও ইউনূসের দেখানো পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ। এরই ধারাবাহিকতায় এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভাস্কর্যের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা স্থাপনের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর লজ্জাজনক
ইতিহাসকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিএনপি সরকারের পাকিস্তান-প্রেমের ফলাফল বলে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা করছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ। শুধু পানির ফোয়ারা স্থাপনই নয়, এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ‘হলোগ্রাফিক থ্রিডি’ উপস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বিষয়ে গত ৬ই আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব পরিবর্তনের (রিস্কোপিং ও রিপারপসিং) উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে। পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ নামে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের জুনে। প্রকল্পের আওতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর
আত্মসমর্পণের স্থানে দুটি ভাস্কর্য বানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটলে সেই উদ্যোগ থেমে যায়। যে দুটি স্থানে ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ চলছিল, সেসব স্থানে ভাঙচুরও চালানো হয়। এরপর গত বছরের মার্চে ইউনূসের অরন্তর্বর্তী সরকার জানিয়ে দেয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে ভাস্কর্য দুটি হচ্ছে না। আর এখন এসে ওই দুই স্থানে পানির ফোয়ারা বসানোর উদ্যোগ নিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। ধানমন্ডি-৩২ এর ঐতিহাসিক জাদুঘর পানির ফোয়ারা বসানোর উদ্যোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি এ বিষয়ে ‘দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে’ কথা বলার পরামর্শ দেন। এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন
করা অতিরিক্ত সচিব হাসনা জাহান খানমও। তিনি জানিয়ে দেন, এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সরকারের নির্দিষ্ট ব্যক্তি আছেন; তিনি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহজাজান মিয়ার সাথে কথা বলতে বলেন। আবার শাহজাজান মিয়া বললেন তিনি এ নিয়ে কথা বলতে পারবেন না, জানতে হলে যেতে হবে পলি করের কাছে। পলি কর বিস্তারিত বলতে পারবেন। মন্ত্রণালয় যে প্রতিবেদনে পানির ফোয়ারা বসানোর মতামত তুলে ধরেছে, সেখানে উপসচিব পলি করের সই রয়েছে। যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকার কথা বলেন। তবে নথিতে নিজের সই থাকার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। এছাড়া, প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে থাকা প্রণব কুমার সাহার সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ
করা যায়নি। একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। এমনকি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তার যে দাপ্তরিক কক্ষ রয়েছে, সেখানে একাধিক দিন গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির তৃতীয় পর্যায়ের (প্রথম সংশোধিত) প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৯৭ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৭৫.৯১ শতাংশ; ভৌত অগ্রগতি ৯৪ শতাংশ। মন্ত্রণালয়ের মতামত তুলে ধরে নথিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় থানা নির্মাণ, ৭ই মার্চের ভাষণ ও ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থান দুটিতে ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে ওয়াটার ফাউন্টেন স্থাপন করা হবে। এজন্য নকশা পরিমার্জনের কথাও বলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ‘হলোগ্রাফিক থ্রিডি’ উপস্থাপনার বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনার কথাও বলা হয়েছে নথিতে। মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের
দায়িত্বে থাকা এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রণালয়ের লোকজনের চাপে পড়ে প্রকল্পের ভৌত কাজের এবং কিছু স্থাপনার নকশায় পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে। এগুলো একনেকে উঠুক, তারপর দেখা যাবে, কীভাবে বাস্তবায়ন হয়। অতটা সহজ নয়, সব নকশা পরিবর্তন করা যায় না। এটা জাতীয় বিষয়, ইচ্ছে করলেই বাস্তবায়ন করা যায় না। তিনি বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ দুটি স্থানের পরিকল্পনা বদলালে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কতটা অক্ষুণ্ণ থাকবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। মাতৃভাষা দিবসের রূপকারের ম্যুরাল ভাঙচুর, মুক্তিযোদ্ধা হওয়াই অপরাধ কি না, প্রশ্ন জনগণের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রূপকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের ম্যুরাল ভাঙচুর ৭ই মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানটির অবস্থান উদ্যানের উত্তর-পশ্চিম কোণায়। ছবির হাটের ফটক দিয়ে ঢুকে কয়েক কদম এগোলেই হাতের বাঁয়ে স্থানটি পড়ে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভাস্কর্য নির্মাণের স্থান টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ভেতরে নির্মাণাধীন কিছু অবকাঠামো পড়ে রয়েছে। সূত্র: বিডিনিউজ



