কাশিমপুর কারগারে আরেকটি ‘৩ নভেম্বরের জেল হত্যাকাণ্ড’ ঘটার শঙ্কা! – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৩ January, ২০২৫

কাশিমপুর কারগারে আরেকটি ‘৩ নভেম্বরের জেল হত্যাকাণ্ড’ ঘটার শঙ্কা!

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩ January, ২০২৫ |
অজয় বাঙালী : দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের ওপর জেল হত্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গাদাগাদি করে রাখা দুই সেলে থাকা নেতাদের অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, মানবাধিকার সংস্থা ও আটককৃতদের পরিবার। ৫ই আগস্টের ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা গ্রেপ্তার হয়ে বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন। সূত্র জানায়, এসব নেতাদের মধ্যে অনেককেই কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের দুটি সেলে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরিবারগুলো বলছে, এ ধরনের কেন্দ্রীকরণ এবং গোপনীয়তা পঁচাত্তরের ৩ নভেম্বর জেল হত্যার মতো একটি ঘটনা পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করেছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাদের প্রিয়জনদের কোনো অভিযোগ

ছাড়াই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে, কারাগারে তাদের জীবন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবারের অভিযোগ, বন্দিদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগেও বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের আটক এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের স্ত্রী বলেন, “কাশিমপুর কারাগারের অবস্থা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। ৩ নভেম্বরের মতো আরেকটি ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।” তিনি আরও বলেন, “জামায়াত-ইউনূস ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার ষড়যন্ত্র করছে। আটক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।” অপর এক বন্দি নেতার স্ত্রী বলেন, “আমরা জানি না তারা কেমন আছেন। এমনকি কারাগারে চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না। আমরা ভয় পাচ্ছি, এর পেছনে

কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।” রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আটক নেতাদের ওপর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও অস্থিতিশীল করবে। কারাগারে ঘটছে একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা আসক-এর প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে অসুস্থতার অজুহাতে ৬৫ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ১২ জন ব্যক্তি সরকারি বাহিনীর হেফাজতে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। এমএসএফ-এর প্রতিবেদন অনুসারে, কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন ৬ জন এবং পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে ৯৮ জনকে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো বগুড়া কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতাদের মৃত্যুর ঘটনা। মাত্র ২৯ দিনের ব্যবধানে এই কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চারজন আওয়ামী লীগ নেতা। ১. শাহাদত আলম (৫৭), বগুড়া জেলা আওয়ামী

লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ২. আবদুল লতিফ (৬৭), শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ। ৩. শহিদুল ইসলাম (৫৮), বগুড়া পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। 4. আব্দুল মতিন ওরফে মিঠু (৬৫), গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। সংস্থাটি জানিয়েছে, ধারাবাহিক এ মৃত্যুগুলোর কারণ হিসেবে ‘হৃদরোগ’ উল্লেখ করা হলেও, এ বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন। আসক-এর প্রতিবেদনে আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যশোরে একটি মামলায় ১৬৭ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী জামিন চাইতে গেলে সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়। এমনকি তাদের পক্ষে আদালতে কাজ করা আইনজীবীও রাতে গ্রেপ্তার হন। এছাড়া, সারাদেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন, মিথ্যা মামলার হুমকি এবং তাদের

গ্রেপ্তারের অভিযোগও উঠেছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং রাজনৈতিক প্রতিশোধের ঘটনাগুলোও মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পরে তার ঘনিষ্ট সহযোগীদের আটক করে সেনা-সমর্থিত ক্ষমতা দখলকারী সরকার। এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় সে বছরেরই ৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট ৪ সহযোগী উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, মুজিবনগর সরকারের দুই মন্ত্রী এম মুনসুর আলী ও এএইচ কামারুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় হত্যা করে সেনাবাহিনীর একটি অংশ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের