ব্লিটজের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট: আল কায়েদা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ড. ইউনূসের যোগসাজশ
নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ব্লিটজ’। পত্রিকাটির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউনূসের বৈশ্বিক ‘গ্রামীণ’ নেটওয়ার্কের সঙ্গে ওসামা বিন লাদেন ও আল কায়েদার চিহ্নিত অর্থায়নকারীদের দীর্ঘদিনের সংযোগ রয়েছে। ব্লিটজের সম্পাদক সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর লেখা এই প্রতিবেদনে ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক আর্থিক অংশীদারিত্বের বিষয়ে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “বছরের পর বছর ধরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশ্বজুড়ে ক্ষুদ্রঋণের পথিকৃৎ এবং দরিদ্রদের বন্ধু হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। কিন্তু এই চকচকে ইমেজের আড়ালে রয়েছে এক অন্ধকার বাস্তবতা। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আল কায়েদা ও ওসামা বিন লাদেনের অর্থায়নকারী হিসেবে যাদের চিহ্নিত করেছে, তাদের সঙ্গে ইউনূসের ‘গ্রামীণ’ সাম্রাজ্যের সংযোগ রয়েছে।” প্রতিবেদনটিতে ২০০৩ সালের মার্চে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এ প্রকাশিত একটি রিপোর্টের প্রসঙ্গ টানা হয়। সিআইএ-র তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত ওই রিপোর্টে আল কায়েদার দাতাদের তালিকায় সৌদি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ জামিলের নাম উঠে আসে। তিনি ‘গ্রামীণ-জামিল মাইক্রোফাইন্যান্স’-এর বোর্ড মেম্বার ছিলেন। ব্লিটজের দাবি অনুযায়ী, জামিল ছিলেন ৯/১১ হামলার মূল হোতা ওসামা বিন লাদেনের অন্যতম প্রধান অর্থদাতা। অনলাইন করপোরেট রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০৭ সালে গ্রামীণ ফাউন্ডেশন এবং আব্দুল লতিফ জামিল গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘গ্রো ওয়েল লিমিটেড’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘গ্রামীণ-জামিল’ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও তুরস্কে ক্ষুদ্রঋণ বিস্তারে কাজ করার দাবি করে। তবে ব্লিটজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইপ্রাসে নিবন্ধিত এবং দুবাইয়ে সদর দপ্তর থাকা এই প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট বর্তমানে নিষ্ক্রিয় এবং ফেসবুক পেজটিও রহস্যজনকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে জামিল পরিবারের আরেক সদস্য ইউসুফ জামিলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দাবি করা হয়, কুখ্যাত জেফরি এপস্টেইনের ‘ব্ল্যাক বুক’-এ তার নাম পাওয়া গেছে, যা শিশু পাচার ও শোষণের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া, ৯/১১ হামলার অর্থায়নের অভিযোগ নিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা এবং পরবর্তীতে ২০০৬ সালে ব্রিটিশ সর্বোচ্চ আদালতে পত্রিকার পক্ষে রায়ের বিষয়টিও প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ব্লিটজের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সংযোগ রয়েছে। এছাড়াও প্রতিবেদনে অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি অভিযোগ করা হয়েছে যে, ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ ব্যক্তিদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ (Human Organs) বিক্রিতে বাধ্য করার মতো ঘটনার সঙ্গেও গ্রামীণ ব্যাংকের নাম জড়িয়েছে। এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ড. ইউনূসের ট্রান্সন্যাশনাল আর্থিক পার্টনারশিপ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার ঝড় ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
