মিয়ানমার নৌবাহিনী অনুপ্রবেশ করে জেলেদের ওপর হামলা ও লুটপাট

২৯ নভেম্বর, ২০২৫ | ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , ডোনেট বাংলাদেশ

গতকাল বাংলাদেশের জলসীমায় মিয়ানমার নৌবাহিনী অনুপ্রবেশ করে জেলেদের ওপর হামলা ও লুটপাট; আজকে ১২ জেলে আরাকান আর্মির হাতে আটক: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীরবতা নিয়ে উদ্বেগ সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় মাছ ধরার সময় মিয়ানমার নৌবাহিনীর একটি জাহাজ বাংলাদেশের জেলেদের ওপর হামলা চালিয়েছে। হঠাৎ এসে জেলেদের ট্রলার ঘিরে তারা জোরপূর্বক আটক করে ব্যাপক মারধর করেছে।ট্রলারের ইঞ্জিন ও জালসহ মূল্যবান সব সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে গেছে। গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) সেন্টমার্টিনের পাশ্ববর্তী বঙ্গোপসাগরে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত জেলেরা হলো— সৈয়দ আলম, মাঝি মুজিব, হাফেজ উল্লাহ, মো. আয়াছ, শাহ আলম, হামিদ হোসেন ও আব্দু মজিদ। সবাই সেন্টমার্টিনের কোনাপাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত সৈয়দ আলম ও আব্দু মজিদকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় টেকনাফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের সেন্টমার্টিনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহত জেলে সৈয়দ আলম জানিয়েছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ শিকারের এক পর্যায়ে মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজ এসে তাদের ট্রলার থামিয়ে দিয়ে জোর করে জাহাজে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধর করে সব মালামাল লুট করে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরেকটি ট্রলারের মাধ্যমে জেলেদের সেন্টমার্টিন ঘাটে নামিয়ে দেয়। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক সেন্টমার্টিনের এক জেলে জানিয়েছে, মোট ৭ জন জেলে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। গুরুতর আহত সৈয়দ আলমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এদিকে, বাংলাদেশ জলসীমায় জেলেদের ওপর মিয়ানমার নৌবাহিনীর হামলার ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ঘটনার পর সেন্টমার্টিনের জেলেদের মারধর, লুটপাট ও আহত হওয়া সত্ত্বেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা প্রতিবাদ এখনো জানা যায়নি। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার জেলে সমাজসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণের বঙ্গোপসাগর ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসমান অবস্থায় দুটি ট্রলারসহ ১২ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)।