সরাসরি রাজনীতিতে নামছেন, ‘ইঙ্গিত’ দিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়

২৯ নভেম্বর, ২০২৫ | ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , ডোনেট বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে দ্বিখণ্ডিত আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে নেতৃত্বে আসার ৪৪ বছর পরে শেখ হাসিনা’কে সরিয়ে দিতে মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ‘গোপন ও দূরসন্ধিমূলক’ উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ আছে। এমন সময়ে বিবিসি বাংলা ‘শেখ হাসিনার পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কে?’ এমন প্রতিবেদনে সভানেত্রী শেখ হাসিনা পুত্র ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়-এর স্বাক্ষাৎকার নিয়েছে। সেখানে হাসিনাপুত্র জয়কে বিবিসি বাংলা জানতে চায়, শেখ হাসিনা’র পরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিবারের মধ্যে সজীব ওয়াজেদ বা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল কে আসছেন নাকি অন্য কেউ! কিন্তু জয় সরাসরি কারও কোন জবাব না দিয়ে বলেছেন, `ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কে হবে এটা দল নির্ধারণ করবে’,এর মাধ্যমে তিনি মূলত দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পরিবর্তনের যে রেওয়াজ আছে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সেটা আমার উপরে নির্ভর করে না, নির্ভর করে দলের ‍উপরে। আমি আসলে সরাসরি কোনদিন রাজনীতি করতে চাইনি, কিন্তু এখন যে খেলা চলছে তাতে কী হবে কেউ বলতে পারে না’। ‘আমার বোনের রাজনীতিতে আগ্রহ নেই’, জানিয়ে পুতুলের রাজনীতিতে আসার সম্ভবনাকে নাকচ করে দিলেও নিজের বিষয়ে বলেছেন, ‘সময়মতো দল বেছে নেবে’ কে নেতৃত্বে আসবেন। তবে নিজের রাজনীতিতে আসার প্রসঙ্গে জয় বলেন, ‘অনেকে আমাকে বলেছে আসতে, আমার মা ৫-১০ বছরে বলেছেন তবে আমরা সবাই চাই সময়মতো সেটা দল বেছে নেবে’। সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের রাজনীতিতে আসার বিষয়ে জয় বলেন, ‘আমার বোনের রাজনীতিতে আগ্রহ নেই, আমি যতটুকু জানি পুতুলও রাজনীতিতে আসতে চায় না। তবে অনেকে ভাবছে, তবে সে ধারণা ভুল’। বঙ্গবন্ধু পরিবারের এই তৃতীয় প্রজন্মের মধ্যে আর কারও রাজনীতিতে আগ্রহ আছে কী না’ এমন প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করতে ইচ্ছে থাকতে হয় আর আমাদের পরিবারের মধ্যে একমাত্র টিউলিপ ছাড়া কারও রাজনীতিতে আসার ইচ্ছে ছিল না। একমাত্র টিউলিপরই ইচ্ছে ছিল কিন্তু সে রাজনীতি করেছে ইংল্যান্ডে’। এরপরে বিবিসি’র পক্ষে থেকে প্রশ্ন করা হয়, আওয়ামী লীগে আপনার মায়ের(শেখ হাসিনা) পরে আপনিই কী নেতৃত্বে আসতে চান- এমন প্রশ্নের জবাবেও জয় দলের কাউন্সিলেই ‘চূড়ান্ত’ সিদ্ধান্ত হবে বলে স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছেন। বিদেশ থেকে বড় দুই দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের খেলা চলার অভিযোগ স্বাক্ষারকারটিতে তিনি বলেন, `ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কে হবে এটা দল নির্ধারণ করবে, সেটা আমি বা অন্য কেউ উপর থেকে নির্দেশ দিয়ে করতে পারি না। এখন বাংলাদেশের দুই দলেরই(আওয়ামী লীগ-বিএনপি) বিদেশ থেকে নেতৃত্ব পরিবতর্নের খেলা চলছে।’ এর মধ্য দিয়ে একটি বার্তা শেখ হাসিনা পুত্র দিয়েছেন যে, আওয়ামী লীগ নিয়ে যে দেশি-বিদেশি ‘খেলা’ চলছে সেখানে তিনি চুপচাপ বসে থাকবেন না বরং এটির মোকাবিলা করবেন। যদিও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাকে সরিয়ে ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগ করার জোর প্রক্রিয়া চলাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার কিন্তু সে প্রক্রিয়ায় কোন পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদেরই ভেড়াতে ব্যর্থ হচ্ছে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের পলিসিমেকার’রা। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ছিলেন গত ৪ যুগেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের ‘সন্দেহাতীতভাবে অদ্বিতীয়তম’ নেতা। ১৯৮১ সালে দলটির ১৩ তম জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাকে দলের ‘ঐক্য ও সংহতি’র প্রতীক হিসেবে সভানেত্রী করা হয়। এরপর থেকে গত ৪৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়েই প্রতিটি কাউন্সিলে কাজ করে আসছেন। এরমধ্যে ২০১৯ সালের কাউন্সিলে সভাপতি পদে আর থাকতে চান না- এমন প্রস্তাব দিলেও সম্মেলনের মাঠে নেতাকর্মীদের ‘অনমনীয়’ অবস্থানের মুখে সেবারও দলপ্রধান হিসেবে দ্বায়িত্বে বহাল থাকেন শেখ হাসিনা। তারপর থেকে শেখ হাসিনা’র বিকল্প হিসেবে কারও নাম মুখে আসেনি দলটির নেতাকর্মীদের কথা কিংবা ভাবনায়। সেবার শেখ হাসিনা নিজে থেকে সরে যেতে চাইলেও এবার ‘দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়ে’রা ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ খেলা চালালেও সজীব ওয়াজেদ জয়ের বার্তাতেও স্পষ্ট সেটা হালে পানি পাবে না । রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ নিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, এই রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ হচ্ছে সেই ওয়ান-ইলেভেনের সময়ের বিষয়টা। তখনো রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ আলেচনায় এসেছিল। এ বাস্তবতায় কাদের ইচ্ছায় রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ-এ প্রশ্ন তুলে সজীব ওয়াজেদ বলেন, “বিদেশি কয়েকটা দেশ, বিদেশি কয়েকটা শক্তি আর আমাদের সুশীল সমাজের কয়েকজন মিলে নির্ধারণ করতে চায়, কে প্রধানমন্ত্রী হলে রিফাইন্ড হবে, কে নেতা হলে রিফাইন্ড হবে।” রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “বাইরে থেকে (তারা) নেতা বেছে দেবে। মানুষের ভোটে না, নেতাকর্মীদের ভোটেও না। সেটাই হচ্ছে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র’। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে আমি বিশ্বাস করি না। আমার বিশ্বাস গণতন্ত্রে, দলই নির্ধারণ করবে যে দলের নেতৃত্ব কে দেবে, দেশের মানুষ নির্ধারণ করবে যে দেশের নেতৃত্ব কে দেবে।’