ড. ইউনূসের নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবিতে ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের আবেদন

দখলদার ইউনূস শাসনামলে বাংলাদেশে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার নরওয়ে নোবেল ইনস্টিটিউটের সামনে ইউরোপীয় আওয়ামী লীগ একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে নেতাকর্মীরা ড. ইউনূসকে প্রদত্ত নোবেল শান্তি পুরস্কার বাতিলের দাবিতে নোবেল কমিটির কাছে একটি আবেদন জমা দেন। আবেদনে ইউনূসের অবৈধ শাসনের সকল অপকর্ম তুলে ধরা হয়। মানববন্ধনে নেতাকর্মীরা ব্যানার এবং পোস্টার প্রদর্শন করে যেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থক, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, পুলিশি গণহত্যা এবং অপরাধীদের কীভাবে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে তা চিত্রিত করা হয়েছে। একইসাথে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ইতিহাস মুছে দেওয়াকল্পে ইউনূস সরকারের গৃহীত ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডও তুলে ধরা হয়। প্রদর্শিত এসব ব্যানারে গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার, যেখানে কমপক্ষে পাঁচ বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনা এবং দেশজুড়ে চলমান মব সন্ত্রাস বন্ধে তাদের নিষ্ক্রিয়তার কথা তুলে ধরা হয়। মানববন্ধন শেষে ইউরোপীয় আওয়ামী লীগ কর্তৃক পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিংকন মোল্লার সঞ্চালনায় এবং সভাপতি কে এম লোকমান হোসেনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এক পর্যায়ে এক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তিনি ভিডিও কলে নেতাদের সাথে কথা বলেন। শেখ হাসিনা তাঁর বক্তৃতায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি দেশী-বিদেশী মানবাধিকার সংগঠনগুলিকে চিঠি লিখতে এবং বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতেও বলেন। শেখ হাসিনা আরও বলেন তিনি আবার দেশে ফিরে আসবেন এবং ক্ষমতা দখল, খুন, ধর্ষণ, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনবেন। তিনি বলেন, ক্ষমতা দখলের জন্য যারা ষড়যন্ত্র, প্রতারণা ও গুজবের মাধ্যমে সাধারণ ছাত্রছাত্রী এবং জনগণকে যারা ভুল পথে পরিচালিত করেছিল, তাদেরকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। সাংগঠনিক সম্পাদক তন্ময় সিকদার এই কর্মসূচি সফল করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি তার বক্তৃতায় বলেন, ইউরোপের প্রতিটি দেশে দলকে শক্তিশালী করতে এবং অসাংবিধানিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দুর্গ তৈরি করা হবে। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার মাসুদ আখতারও বক্তব্য রাখেন।