যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধে বাংলাদেশের কোনো লাভ হবে?

সব ধরনের চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দশ শতাংশ শুল্ক আরোপের জবাবে বেশ কিছু মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ কার্যকর করেছে চীন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা আরও জোরদার হলো। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করলেও বিশ্ব বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়বে। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখলে আরও অনেক দেশ এতে জড়িয়ে পড়তে পারে। এসবের ফলে ধীর হয়ে যেতে পারে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপরে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন এবং এর ফলে কানাডার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। এর আগে তিনি মেক্সিকো ও কানাডার পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেও পরে দেশ দুটির সাথে এক সমঝোতার মাধ্যমে তা স্থগিত করেছেন। কিন্তু একই সাথে চীনের সব ধরনের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত দশ শতাংশ শুল্ক বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে আসেনি। তার ঘোষণা অনুযায়ী গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি সব চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি কার্যকরের কয়েক মিনিটের মধ্যেই বেইজিংও মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, যা আজ কার্যকর হলো। অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এ ধরনের পরস্পরবিরোধী বাণিজ্য পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতিকে ধীর করবে এবং এর ফলে বৈশ্বিক কর্মসংস্থানে ও বাংলাদেশের মতো স্বল্প মাত্রায় রপ্তানি করে এমন দেশগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ারও আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের শিক্ষক ড. সুবর্ণ বড়ুয়া বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে চীনা রপ্তানির ওপর এবং সেটি যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির জন্য প্রযোজ্য হলেও বৈশ্বিক বাণিজ্যেই এর প্রভাব পড়বে।