লেবাননে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা ইসরাইলের

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ | ৮:১২ অপরাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , ডোনেট বাংলাদেশ

লেবাননে চলছে ইসরাইলের অবিরত বিমান হামলা। এর মধ্যেই দেশটিতে স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ইসরাইল। এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, লেবাননে স্থল অভিযান হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। তবে স্থল অভিযান কখন চালানো হবে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ওই মার্কিন কর্মকর্তা। খবর রয়টার্স’র। হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলের শত্রুতা বেশ পুরোনো। ২০০৬ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়েছিল তারা। এরপর গত বছরের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইল হামলা চালালে হামাসের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরাইলে হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। পাল্টা হামলা চালাচ্ছিল ইসরাইলও। তবে ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর হিজবুল্লাহর পেজার ও ওয়াকিটকিতে হামলার পর থেকে লেবাননে ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরাইল। ইসরাইলের উত্তরে লেবাননের সীমান্ত রয়েছে। সেখানে ইসরাইলি বাহিনীর বিপুল সেনা, ট্যাংক ও কামান মোতায়েন করতে দেখা গেছে। শনিবার লেবাননে স্থল অভিযানের হুমকি দিয়েছিলেন ইসরাইলি বাহিনীর মুখপাত্র পিটার লার্নার। তিনি বলেছিলেন, স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন। লেবাননে হামলা বাড়ানো নিয়ে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছে তার কার্যালয়। এর আগে, বুধবার স্থল হামলার প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন ইসরাইলি সেনাপ্রধান হেরজি হ্যালেভিও। ইসরাইলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুত, বেকা উপত্যকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও গোলাবারুদের সংরক্ষণাগার ধ্বংস করা। এসব হামলায় নতুন করে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া হিজবুল্লাহর শীর্ষ পর্যায়ের আরেক নেতা নাবিল কাউককে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইল। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত বৈরুতসহ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বোমা হামলা চালায় ইসরাইল। এতে সংগঠনটির প্রধান সাইয়্যেদ হাসান নাসারুল্লাহ নিহত হলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় হিজবুল্লাহ। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার ইসরাইলি হামলায় ১০৫ জন নিহত হয়েছেন। দেশটিতে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে দেশটিতে আহত হয়েছেন ছয় হাজারের বেশি নাগরিক। ১০ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।