হাসিনা সরকারের মতো সরকার আর আসবে না’—ভিডিওতে নাগরিকের আক্ষেপ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও নাগরিক সেবা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে সাধারণ এক পথচারীকে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাসাভাড়া বৃদ্ধি এবং গ্যাস-পানির সংকটে অতিষ্ঠ ওই ব্যক্তি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের প্রশংসা করে তাদের ফিরে আসার দাবি জানান। সম্প্রতি ঢাকার একটি জনবহুল এলাকায় ধারণ করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ওই ব্যক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের (বা বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর) সমালোচনা করছেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি আক্ষেপের সুরে বলছেন, ‘হাসিনা সরকারের মতো সরকার আর আসবে না বাংলাদেশে। আমরা আবারও আওয়ামী লীগ সরকারকেই চাই।’ এ সময় সাংবাদিক তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘তারা তো গণহত্যা করছে?’ উত্তরে ওই ব্যক্তি অভিযোগটি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘জ্বি না! এই সরকার কী করতেছে? দেশের জনগণ কি ভালো আছে? আমরা ভালো আছি? ঘরভাড়া বেশি, গ্যাসের সমস্যা, পানির সমস্যা। একটা বৈধ সরকার দরকার না? আমরা জনগণ আমরা কী চাই? একটা সুস্থ ভালো...।’ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ ওই ব্যক্তির অর্থনৈতিক কষ্টের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছেন, আবার কেউ কেউ জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করছেন। ভিডিওতে উঠে আসা অভিযোগগুলোর সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার মিল রয়েছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকেই রাজধানীতে গ্যাস ও পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে ঢাকার বেশ কিছু এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস থাকছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে গত এক বছরে বাসাভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও বাড়িভাড়া ও যাতায়াত খরচসহ খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এখনো ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই সময় সংঘটিত প্রাণহানির ঘটনাগুলোকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে বিচার করছে। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দেড় বছর পার হলেও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বস্তি না ফেরায় জনমনে একধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে ‘গণহত্যা’র অভিযোগ অস্বীকার করে বিগত সরকারের প্রতি ওই ব্যক্তির সমর্থন—দ্রব্যমূল্য ও নাগরিক সেবার সংকটে সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ারই একটি খণ্ডচিত্র বলে মনে করছেন অনেকে।
