ঢাকার অশান্ত রাজপথ : যে অরাজকতার মূল কারণ বসে আছে যমুনায়

২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১০:২১ অপরাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , ডোনেট বাংলাদেশ

ঢাকার রাস্তায় এখন প্রতিদিন যা ঘটছে, তার জন্য দায়ী কে? যে কলেজের ছাত্ররা ফার্মগেট আটকে রাখছে? যে পরিবহন শ্রমিকরা মহাখালীতে অবরোধ গড়ছে? না। আসল দায়ী হচ্ছে সেই ব্যবস্থা, যেটা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সুপরিকল্পিতভাবে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে একটা নির্বাচিত সরকারকে ক্যু করে ফেলেছে। মুহাম্মদ ইউনূস আর তার তথাকথিত উপদেষ্টা পরিষদ যে অবৈধ ক্ষমতা দখল করে বসে আছে, সেখান থেকে শৃঙ্খলা আশা করাটা বোকামি। কারণ যারা নিজেরাই সংবিধান ভেঙে, গণতন্ত্র পিষে, হাজার হাজার মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার নিরাপত্তা দেবে কী করে? ঢাকার রাস্তায় যে অরাজকতা, সেটা আসলে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের দাঙ্গার সরাসরি ফসল। সেই সময় বিদেশি তহবিল, ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ আর সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল একটাই: একটা কার্যকর রাষ্ট্রকে ভেঙে ফেলা। আর সেটা তারা করতে পেরেছে। এখন যা আছে, সেটা রাষ্ট্র নয়, একটা শূন্যস্থান মাত্র। যেখানে কোনো কর্তৃত্ব নেই, কোনো বৈধতা নেই, আছে শুধু একটা বুড়ো মহাজন আর তার সাঙ্গোপাঙ্গোদের দখলদারিত্ব। এখন প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতিতে কীভাবে রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরবে? যে সরকার নিজেই জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া ক্ষমতায় বসে আছে, যাদের কোনো নৈতিক বা সাংবিধানিক ভিত্তি নেই, তারা কী করে সাধারণ মানুষকে আইন মানতে বাধ্য করবে? যে যুবকেরা জুলাইয়ে পুলিশ পিটিয়ে মেরেছে, সরকারি ভবনে আগুন দিয়েছে, তাদের কাছে রাস্তা অবরোধ তো তুচ্ছ ব্যাপার। তারা তো দেখেছে যে সহিংসতা দিয়েই সবকিছু পাওয়া যায়। এমনকি একটা দেশের ক্ষমতাও। মুহাম্মদ ইউনূস আর তার দল যা করেছে, তা মূলত একটা দেশের সব প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে ধ্বংস করে দেওয়া। পুলিশ বাহিনী ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগকে করা হয়েছে পদানত। প্রশাসনে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে দলীয় লোকজন। এই অবস্থায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা তো দূরের কথা, মৌলিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাই সম্ভব নয়। যে পুলিশ অফিসারদের জুলাইয়ে রাস্তায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যাদের পরিবার এখনও ন্যায়বিচার পায়নি, তারা কীভাবে আবার রাস্তায় নেমে শৃঙ্খলা ফেরাবে? এই সরকারের কাছে যানজট সমাধানের কোনো পরিকল্পনা নেই। থাকার কথাও নয়। কারণ এরা তো আসেনি দেশ চালাতে, এসেছে দেশ লুটতে। ইউনূসের মাইক্রোক্রেডিট সাম্রাজ্য যেভাবে গরিব মানুষের রক্ত শুষে বড় হয়েছে, ঠিক সেভাবেই এই অবৈধ শাসন এখন পুরো দেশকে শুষে নিচ্ছে। ঢাকার যানজটে আটকে পড়া একজন রিকশাচালক বা একজন গার্মেন্টস কর্মীর দুর্ভোগ তাদের কাছে কোনো ইশু নয়। তারা তো থাকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে, হেলিকপ্টারে। আরও বড় কথা হলো, এই সরকার চায়ই না যে শৃঙ্খলা ফিরুক। কারণ অরাজকতাই তাদের ক্ষমতার ভিত্তি। যতদিন মানুষ রাস্তায় আটকে থাকবে, যতদিন জীবন অসহনীয় থাকবে, ততদিন তারা বলতে পারবে যে দেশ এখনও স্থিতিশীল হয়নি, তাই নির্বাচন দেওয়া যাচ্ছে না। এটা একটা সুচিন্তিত কৌশল। প্রতিটা সংকটকে তারা ব্যবহার করছে নিজেদের অবৈধ শাসন টিকিয়ে রাখতে। যে দেশে সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে ক্ষমতা দখল করা হয়, সেই দেশে সামরিক আইন ছাড়া আর কী থাকে? ইউনূসের এই তথাকথিত উপদেষ্টা সরকার আসলে একটা ছদ্মবেশী সামরিক শাসন। আর সামরিক শাসনের অধীনে কখনোই নাগরিক সমস্যার সমাধান হয় না। কারণ সামরিক শাসন চলে ভয় দেখিয়ে, সমাধান দিয়ে নয়। ঢাকার রাস্তায় যে ছাত্ররা অবরোধ করছে, তারাও জানে যে এই সরকারের কাছে কোনো বৈধতা নেই। তাই তারা যা খুশি করতে পারছে। কারণ যে সরকার নিজেই অবৈধ, সে অন্যদের অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে কীভাবে? এটা এক ধরনের নৈরাজ্যবাদী স্বর্গ, যেখানে সবাই জানে যে কোনো শাস্তি নেই, কোনো জবাবদিহিতা নেই। আর সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, এই সরকার নিজেই ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীর সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। এখন সেই গোষ্ঠীগুলো দেশের বিভিন্ন জায়গায় শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। ঢাকার রাস্তায় যে অরাজকতা, তার পেছনেও এদের ইন্ধন আছে। কারণ তারা চায় যে দেশে কোনো স্থিতিশীলতা না থাকুক, যাতে তারা তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারে। ইউনূসের সরকার আসলে একটা ট্রানজিশনাল ব্যবস্থাও নয়। কারণ ট্রানজিশনের একটা গন্তব্য থাকে, একটা সময়সীমা থাকে। এখানে কিছুই নেই। এটা আসলে একটা লুটপাটের সুযোগ, যেখানে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি শক্তি দেশটাকে ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে। আর এই ভাগবাটোয়ারার মধ্যে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কোনো হিসাবেই আসছে না। ঢাকার রাস্তায় এখন যা ঘটছে, তা আসলে পুরো দেশের চিত্র। একটা দেশ যখন অবৈধ শাসকদের হাতে পড়ে, তখন প্রতিটা সেক্টর ভেঙে পড়ে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, আইনশৃঙ্খলা সবকিছুই। এখন প্রতিদিন অ্যাম্বুলেন্স আটকে যাচ্ছে, মানুষ হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছে না, মারা যাচ্ছে রাস্তায়। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটা একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রের স্বাভাবিক পরিণতি।