আসিফ নজরুলের আমলে নীতিমালা উপেক্ষা: সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে শতকোটি টাকার ঘুষের অভিযোগ
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদপ্তরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিকে ঘিরে শতকোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল–এর সময়ে বদলির ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালা মানা হয়নি; বরং অর্থের বিনিময়ে পছন্দের অফিসে পদায়ন দেওয়া হয়েছে। অক্টোবর ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫—এই আট মাসে অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জন জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অতীতে এত স্বল্প সময়ে এত বিপুলসংখ্যক বদলির নজির নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ ২০০৯ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’—এই তিন গ্রেডে বিভক্ত। বিধান অনুযায়ী ‘সি’ গ্রেডে নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের পদায়ন, পাঁচ বছর সন্তোষজনক চাকরির পর জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ‘বি’ এবং পরে ‘এ’ গ্রেডে পদায়নের নিয়ম রয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট মেট্রোপলিটন ও জেলা এলাকায় পুনঃপদায়নের ক্ষেত্রেও সময়সীমা নির্ধারিত। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ওই আট মাসে এই বিধান উপেক্ষা করে ‘সি’ ও ‘বি’ গ্রেডের অনেক কর্মকর্তাকে উচ্চতর গ্রেডের অফিসে পদায়ন করা হয়েছে। বিপরীতে ঘুষে অনাগ্রহী ‘এ’ গ্রেডের কয়েকজনকে নিম্নগ্রেডে বদলি করা হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে ছয়-সাত মাসে তিন-চারবার বদলির ঘটনা ঘটেছে। যোগদানের আগের দিনও বদলি স্থগিত বা পুনর্বহালের চিঠি দেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে একাধিক আদেশে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ১৭ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করা হয়। পরবর্তী মাসগুলোতে ধারাবাহিক আদেশে শতাধিক বদলি হয়। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১১টি আদেশে ১৯৫ জনকে বদলি করা হয়। শুধু ২৭ এপ্রিল একদিনেই ৪৫ জনের বদলির আদেশ জারি হয়। সতর্কবার্তার পর থেমে যায় বদলি বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ চরমে পৌঁছালে গত বছরের ১ জুন আইন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বদলি ও পদায়নে কোনো আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই এবং প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই বিজ্ঞপ্তির পর আর নতুন বদলির আদেশ হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিবন্ধন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, “সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে আগে অনিয়ম থাকলেও নীতিমালার কাঠামো মানা হতো। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের ওই সময়ে নীতিমালার তোয়াক্কা করা হয়নি। শুধু নীতিভঙ্গের বিষয় অনুসন্ধান করলেই ঘুষ লেনদেনের তথ্য মিলবে।” এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের মুখপাত্র আক্তার হোসেন বলেন, অভিযোগ কমিশনের নজরে এলে তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট যেই হোন, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
