তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র

১০ জুন, ২০২৬ | ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , ডোনেট বাংলাদেশ

অবসরের ভাবনা এখন পেছনে। দেশের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার সামনে। নয়াদিল্লি থেকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন — দেশ ও দলের পুনর্গঠনের দায়িত্ব তিনি নিজেই পালন করবেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং তরুণ নেতৃত্বের হাতে দলের ভার তুলে দেওয়ার আগে অবসরের প্রশ্নই নেই বলে দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছেন তিনি। অবসরের চিন্তা খারিজ পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যের সূত্র ধরে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার জল্পনা জোরালো হলেও শেখ হাসিনা সেই সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাকে মানুষের দুঃসময়ে তাদের পাশে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। ১৯৮১-তে আমি যখন সব হারিয়ে দেশে ফিরেছিলাম, তখন আওয়ামী লীগের কর্মীরাই ছিলেন আমার পরিবার। আজ সেই নেতাকর্মীরা নির্যাতিত, আমার দেশের জনগণের জীবন বিপর্যস্ত। আমি কীভাবে তাদের ছেড়ে বিশ্রামে যাই?” তিনি আরও বলেন, “আমি ক্ষমতা চাই না। কিন্তু জনগণের প্রতি আমার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারি না।” দল পুনর্গঠনে স্পষ্ট পরিকল্পনা দলের পুনর্গঠন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেছেন, এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ একটি “প্রাকৃতিক শুদ্ধকরণ”-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যারা আদর্শের জন্য দলে ছিলেন, তারা দুর্দিনেও দৃঢ়। আর যারা সুবিধার আশায় ছিলেন, তারা সরে পড়েছেন। তার ভাষায়, “এটা দলকে দুর্বল করেনি, বরং খাঁটি করেছে।” তিনি জানান, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরলে নতুন কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে সুসংগঠিত করা হবে। মেধাবী, দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তরুণদের নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনা ইতিমধ্যে তৈরি বলেও জানিয়েছেন তিনি। নেতৃত্ব পরিবর্তন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “নেতৃত্ব কোনো অলঙ্কার নয়, এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব।” তবে প্রবীণ নেতাদের জীবনভর অবদান ও ত্যাগকেও সম্মান জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, নেতৃত্বের পরিবর্তন হবে দলীয় কাঠামোর মধ্যেই — কোনো ব্যক্তিগত উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে নয়। ফিরে আসার দৃঢ় প্রত্যয় দ্রুত দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেছেন, “পাকিস্তানি শাসকরা পারেনি, সামরিক শাসকেরা পারেনি, খুনিরা পারেনি — আজকের সরকারও আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে পারবে না।” তিনি স্পষ্ট জানান, তার প্রত্যাবর্তন কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তার ভাষায়, “গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে ফিরব, দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ফিরব।” অবসরের প্রশ্নে শেখ হাসিনার নিজের শর্তও স্পষ্ট। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশের জনগণের নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিশ্চিত করে এবং তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে — তারপরেই আমি অবসর নেব।”