ছাত্রলীগ সন্দেহে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোর কারাগারে, শিক্ষাজীবন ধ্বংসে পুলিশের প্রতি ক্ষোভ
শরীয়তপুরের জাজিরায় ছাত্রলীগের মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় এজাহারে নাম না থাকা এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম তুলন মাদবর (১৬)। সে স্থানীয় লাউখোলা আইজদ্দিন সরদার উচ্চবিদ্যালয়ের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। আটক অন্য আত্মীয়ের খোঁজ নিতে থানায় গিয়ে সে নিজেও আটক হয় বলে পরিবার জানায়। এই ঘটনায় পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার পরিবার ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। জাজিরা থানা সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিক্ষোভ মিছিলের জের ধরে শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের জাজিরা মতিসাগর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে শাকিল (২০), রিফাত মোল্যা (২০), লিয়াকত খান (২১), নাহিদ হাসান (২২), সাব্বির সরদার (২৪) ও আতাহার সরদার (২৬) নামে ছয় তরুণকে আটক করা হয়। স্বজনরা জানান, আটককৃতদের অধিকাংশই সাধারণ পেশার শ্রমিক। পরদিন শনিবার সকালে জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হায়েত হোসেন বাদী হয়ে ওই ৬ জনসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে আটক হওয়া তরুণদের মধ্যে তুলন মাদবরের এক আত্মীয় ছিলেন। সন্ধ্যায় তুলন তার আরেক আত্মীয় জয় শেখকে সঙ্গে নিয়ে জাজিরা থানায় ওই আত্মীয়ের খোঁজখবর নিতে যায়। কিন্তু পুলিশ থানা থেকেই তুলন ও জয় শেখকে আটক করে এবং শনিবারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। লাউখোলা আইজদ্দিন সরদার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম জানান, তুলন তাদের বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে এবং তার এখনো কয়েকটি ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি। এই পরিস্থিতিতে তাকে আটক করায় তার শিক্ষাজীবনের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেল। তুলনের বাবা চুন্নু মাদবর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের না জানিয়ে এক আত্মীয়ের খোঁজ নিতে থানায় গিয়েছিল আমার ছেলে। পুলিশকে তার পরীক্ষার সব কাগজপত্র দেখানোর পরও তারা তা আমলে নেয়নি। এখন ওর পরীক্ষা চলছে, কীভাবে কী হবে কিছুই বুঝতে পারছি না।” এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহাম্মদ জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের প্রস্তুতির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেয়। তদন্তে আরও দুজনের নাম আসায় তাদের থানার আশপাশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কেউ এসএসসি পরীক্ষার্থী আছে কি না, তা তার জানা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
