নিউইয়র্কে ৪০তম ফোবানা কনভেনশন উপলক্ষে মিট দ‍্যা প্রেস অনুষ্ঠিত

২ এপ্রিল, ২০২৬ | ২:৫১ অপরাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , ডোনেট বাংলাদেশ

“চেতনায় ৭১, হৃদয়ে বাংলাদেশ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের গর্বের ফেডারেশন অব বাংলাদেশি এসোসিয়েশন্স ইন নর্থ আমেরিকা- ফোবানার ৪০তম কনভেনশন এবার অনুষ্ঠিত হবে নিউইর্য়কে। এ উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় জ‍্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্টের হলরুমে মিট দ‍্যা প্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ফোবানা সেন্ট্রাল কমিটি এবং ৪০তম কনভেনশনের আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আগামি ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর লেবার ডে উইকেন্ডে নিউইয়র্কের এস্টোরিয়ার ইভাঞ্জেল ক্রিস্টিয়ান সেন্টারে এবারের কনভেশন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়। কনভেনশনের আয়োজক সংগঠন এনআরবি এসোসিয়েশনের আয়োজনে মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন কনভেনশনের হোস্ট কমিটির কনভেনর নুরুল আমিন বাবু। লিখিত বক্তব্য রাখেন হোস্ট কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি মনজুর কাদের। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর ফোবানা সেন্ট্রাল কমিটির চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি দেওয়ান মনিরুজ্জামান, এডভাইজার অভিনেত্রী লুৎফুন নাহার লতা।স্বাগত বক্তব্যে নুরুল আমিন বাবু বলেন- বাঙালীর সবচে বড় অর্জন হচ্ছে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ। সেই মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে সবাইকে একত্রিত করে আমরা যদি কিছু করতে পারি তাহলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বুঝবে, গর্ব করবে। আমরা সবাই মিলে এবারের ফোবানাকে সফল করতে চাই। আমি হিন্দু না মুসলিম সেটা জানতে চাইনা, আমি জাতে বাঙালী। আমার প্রচেষ্টা হবে যেনো আমার পরবর্তী প্রজন্ম যেনো আমাকে ভুলে না যায়।লিখিত বক্তব্যে মনজুর কাদের বলেন- এবারের কনভেশন আয়োজনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলা সংস্কৃতির বিকাশ, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে আমাদের শিকড়ের সংযোগ স্থাপন, বাংলাদেশের মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা এবং প্রবাসীদের মধ্য পারস্পরিক সহযোগিত বৃদ্ধি করা। ফোবানা সেন্ট্রাল কমিটি এবং হোস্ট কমিটির কো-কনভেনর, কো-অর্ডিনেটর, এডভাইজর, সাব-কমিটির কনভেনর, কো-কনভেনরসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুব্রত তালুকদার. ফোবানা হোস্ট কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল হামিদ,সেমিনার কমিটির চেয়ারম্যান ফকির ইলিয়াস,আপ্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যান আলী খবির চান,সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন,হোস্ট কমিটির কো কনভেনার পিনাকী তালুকদার,শিবলু ছাদেক শিবলী। মিডিয়া কো কমিটির প্রধান আসলাম খান, প্রমুখ। অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে না পেরে মুঠোফোনে শুভেচ্ছা জানান কনভেনশনের চীফ পেট্রন শফিক আলম। প্রশ্নোত্তর পর্বে ফোবানার সেন্ট্রাল কমিটির চেয়ারম্যান বলেন- ফোবানার বিভক্তি মূলত আদর্শভিত্তিক বিভক্তি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করি, বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, ৭২'র সংবিধান এবং অসম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ এই চার মূলনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি। সাংবাদিক সালাহ উদ্দীনের প্রশ্নের সাথে একাত্মতা পোষণ করে জাকারিয়া চৌধুরী বলেন- আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির পোস্টারে ব্যাবহার করা উচিৎ নয়। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনক। তিনি বলেন, ফোবানা একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। এটি একইসাথে একটি মানবিক সংগঠনও। ফোবানা উত্তর আমেরিকা এবং বাংলাদেশে প্রবাসী এবং দেশের মানুষের পাশে থাকতে চায়। ইতোমধ্যে মেধাবীদের মাঝে বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করছে ফোবানা। কানাডার মন্ট্রিয়াল থেকে আগত দেওয়ান মনিরুজ্জামান বলেন- আমদের লক্ষ্য হচ্ছে ৪০তম ফোবানাকে সফল করা। সবচে বড় লক্ষ্য হচ্ছে- রাজনীতি নয়, ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা। আমরা ইতিহাসকে আমাদের নতুন প্রজন্মের মাঝে বলিষ্টভাবে রোপন করতে চাই। আমাদের ইতিহাস রয়েছে আমরা সবাইকে সেটা জানাতে চাই। আমাদের ইতিহাসে বারবার ছোবল মারা হয়েছে, তাই আমরা সঠিক ইতিহাস জানাতে চাই। লুৎফুন নাহার লতা বলেন- বাংলার মাটি যেই সন্তানকে জন্ম দিয়েছে সেই সন্তান পৃথিবীর যেই প্রান্তেই যাবে তিনি একজন এম্বাসেডার, বাংলার এম্বাসেডার। বাংলাদেশ এবং বাঙালীর হাজার বছরের সভ্যতা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাংস্কৃতি রয়েছে প্রতিটি বিষয়কে জাজ্বল্যমান রাখতে হবে সূর্য্যের মতো। বক্তারা বলেন- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয় প্রতিষ্ঠাসহ নানান উদ্যােগে বাংলাদেশর পক্ষে কাজ করেছে ফোবানা। ৪০তম কনভেশনে তিন দিনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য বক্তারা উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসীদের আহবান জানান।