ইরান নতি স্বীকার নয়, যুদ্ধই বেছে নেবে!

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , ডোনেট বাংলাদেশ

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক শক্তি সাজিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসন। সাগরে বড় সব রণতরী আর ঘাঁটিতে থরে থরে যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরান আলোচনা চলমান রাখলেও যুদ্ধপ্রস্তুতি বাদ দিচ্ছে না। তাদের গর্বের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে হুমকি দিচ্ছেন নেতারাও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি ও চরম উত্তেজনার মাঝেও নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অস্ত্রভান্ডার নিয়ে নতিস্বীকার করতে নারাজ ইরান, যা রীতিমতো বিস্মিত করেছে মার্কিন কর্মকর্তাদের। এমন প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার ঝুঁকি নিয়ে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার সতর্কবার্তা প্রত্যাখ্যান করেছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট। প্রত্যুত্তরে ট্রাম্প বলেছেন—ওয়াশিংটন যে কোনো যুদ্ধে তেহরানকে ‘সহজে’ পরাজিত করবে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের আশঙ্কায় অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছে। কোনো কোনো দেশ দূতাবাস কর্মকর্তাদের সংখ্যাও কমাচ্ছে। গতকাল খবর প্রকাশিত হয়েছে, লেবাননে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ইরানে সরকারি নিপীড়নের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ফের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। গত সোমবার তৃতীয় রাতের মতো বিক্ষোভে নামে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। এর কয়েক সপ্তাহ আগে দেশটিতে ভয়াবহ বিক্ষোভ হয়েছিল। তাতে ব্যাপক দমন-নিপীড়ন চালায় তেহরান সরকার। তাতে হাজারো মানুষ নিহত হন। এমন পরিস্থিতিতে আগামীকাল জেনেভায় বৈঠকে বলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সংঘাত এড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে এ বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে যুদ্ধ এড়ানোর একটি পথ হিসেবে বেসামরিক উদ্দেশ্যে সীমিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে ইরান যেন কোনোভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে না পারে। সেই সঙ্গে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কমানো এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের দাবিও রয়েছে ওয়াশিংটনের। বিপরীতে তেহরানের অবস্থান হলো, পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ কাজের জন্য এবং ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আত্মরক্ষার অধিকার। নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর কাছে তাদের আদর্শগত ভিত্তি ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দেওয়ার অর্থ হলো নিজেদের অস্তিত্ব বিলীন করা। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, ইরান এখন এতটাই দুর্বল যে, তারা সব দাবি মেনে নেবে। ট্রাম্পের প্রধান আলোচক স্টিভ উইটকফ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইরানের এই ‘অপ্রত্যাশিত’ অনড় মনোভাবে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক পরিচালক আলী ওয়ায়েজ বলেন, ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেওয়া মানে হলো, যমদূতের হাতে নিজেকে সঁপে দেওয়া। তারা বিশ্বাস করে, একবার নতিস্বীকার করলে চাপ কমবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্র তাদের টুঁটি চেপে ধরতে আরও উৎসাহিত হবে। যদি সংঘাত শুরু হয়, তবে তা কতদূর গড়াবে, তা নিয়ে রয়েছে নানা সমীকরণ। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ফারজিন নাদিমি মনে করেন, ইরান সম্ভবত গত জুনের মতোই সীমিত হামলা হজম করে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় পাল্টা আঘাতের চেষ্টা করবে। কিন্তু ট্রাম্প যদি আরও বড় লক্ষ্য নিয়ে আগান, তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীকে শুরুতেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে হবে। মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকি। অন্যদিকে, ইরান ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কৌশল অনুসরণ করতে পারে।