চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির কর্মীদের বেদম পিটুনিতে জামায়াতের আমির আইসিইউতে, ভাই নিহত
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপির কর্মীদের সাথে সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ভাই, দলীয় কর্মী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহতাবস্থায় জামায়াতের আমিরকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান (৪৫)। তিনি জীবননগর শহরে ঢাকা জুয়েলার্সের মালিক ছিলেন। তিনি উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের ভাই। নির্বাচনের পরের দিন ১৩ই ফেব্রুয়ারি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসানকে মারধরের ঘটনার জেরে গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার হাসাদহ বাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন, বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান, তার ভাতিজা মাহফুজুর রহমান, জামায়াতের কর্মী খায়রুল ইসলাম, হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিন। তারা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশের দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ারুল কবীর বলেন, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে হাফিজুর রহমান হত্যার ঘটনার মামলায় তাদের আসামি করা হবে। স্থানীয়রা জানান, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, শনিবার রাতে জামায়াত নেতার ভাতিজা মাহফুজুর রহমান হাসাদহ বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান ও তার লোকজন ১৩ই ফেব্রুয়ারির ঘটনার জেরে তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমান লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে হাসাদহ বাজারে গেলে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ছয়জন আহত হন। আহত জামায়াত নেতা মফিজুর ও তার ভাই হাফিজুরকে মুমূর্ষু অবস্থায় যশোরের ৫০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাতেই ঢাকায় নেওয়ার পথে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে হাফিজুর রহমান মারা যান। মফিজুর ঢাকার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় গতকাল রাতে এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। জেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান জোয়াদ্দার বলেন, নিহত ব্যক্তির মরদেহ আজ রোববার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে আনা হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্তের পর নিজ এলাকায় লাশ দাফন করা হবে।
