ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল হাম সংক্রামনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, সতর্ক করলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

২৪ মে, ২০২৬ | ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , ডোনেট বাংলাদেশ

আসন্ন ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে সারাদেশে ব্যাপক কর্মস্থল থেকে গ্রামের বাড়িতে ফেরার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। শিশু সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে এই যাত্রায় হাম (মিজেলস) সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছর হামের প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ঈদের সময় লক্ষাধিক মানুষ একসঙ্গে যাতায়াত করলে এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মিলিত হলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২০২০ সালের দুই ঈদে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার লকডাউন দিয়ে সফল হয়েছিল। কিন্তু হামের ক্ষেত্রে এমন কঠোর ব্যবস্থা বাস্তবায়ন কঠিন বলে মনে করছেন তারা। শিশুদের জন্য বিশেষ ঝুঁকি সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো নবজাতক ও ছোট শিশুদের অবস্থা। হাম-রুবেলা ভ্যাক্সিনে অন্তর্বর্তী সরকারের খামখেয়েলিপনায় হাম ইতিমধ্যে মহামারি রুপ ধারন করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা শিশু সংখ্যা ৫০০ বলা হলেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে এই সংখ্যাটা ১৫০০ থেকে ৩০০০ পর্যন্ত পৌছে গেছে। এমন অবস্থায় হামে আক্রান্ত ৫০ হাজারের উপর অধিক শিশুর মাধ্যমে ঈদ যাত্রায় বিভিন্ন এলাকায় সুস্থ শিশুদের মাঝেও হাম ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুষ্টিহীনতার কারনে এমনিতেই অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে, ফলে হাম আক্রান্ত হলে তাদের জটিলতা বেড়ে যাওয়ার এবং মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, পুষ্টিহীনতাজনিত কারণে শিশু মৃত্যুর হার ইতোমধ্যে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মেহেদী হাসান বলেন, “হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে ৯০ শতাংশের বেশি অরক্ষিত শিশু আক্রান্ত হতে পারে। ঈদের সময় ভ্রমণ এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে একত্রিত হওয়া এই সংক্রমণকে মহামারী আকারে ছড়িয়ে দিতে পারে।” সতর্কতামূলক ব্যবস্থা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ঈদে ভ্রমণকারীদের প্রতি নিম্নলিখিত সতর্কতা মেনে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন: হামের টিকা (MR vaccine) না নেওয়া শিশুদের অবশ্যই দ্রুত টিকা দিন। ভ্রমণের সময় শিশুদের ভিড় এড়িয়ে চলুন এবং মাস্ক ব্যবহার করুন। জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে লাল দানা দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। পুষ্টিকর খাবার দিয়ে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করুন। ঈদের সময় বেশি ভিড়ের জায়গায় শিশুদের নিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জনসাধারণের সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের আনন্দ যেন শিশুদের জীবনের জন্য হুমকি না হয়ে দাঁড়ায়—এই আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।