জেএমবিএফ: “শাহ আলীর মাজার- বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, সুপরিকল্পিত” ৫ আগস্টের পর শতাধিক মাজার আক্রান্ত

১৯ মে, ২০২৬ | ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , ডোনেট বাংলাদেশ

ঢাকার মিরপুরে হজরত শাহ আলী বাগদাদী (র.)-এর মাজারে গত ১৪ই মে বৃহস্পতিবার রাতে পরিচালিত জামায়াত-শিবিরের সহিংস হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্সভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ)। সংগঠনটি এই হামলাকে বাংলাদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং শতাব্দীপ্রাচীন সুফি ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে গুরুতর আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জেএমবিএফ জানিয়েছে, সাপ্তাহিক ওরস অনুষ্ঠান চলাকালে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে শান্তিপূর্ণ ভক্তদের ওপর সমন্বিত হামলা চালায়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে আহত হন। সংগঠনটি জানায়, মাজারের বাইরে পুলিশের গাড়ি থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আক্রান্ত বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় হস্তক্ষেপ করেনি। জেএমবিএফের প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি ও বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট শাহানুর ইসলাম বলেন, “এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশজুড়ে মাজার, সুফি প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও ভাঙচুরের যে উদ্বেগজনক ও পরিকল্পিত ধারা চলছে, এটি তারই অংশ।” তিনি আরও বলেন, “এই সময়ের মধ্যে একশরও বেশি মাজারে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী ধর্মীয় বহুত্ববাদ, সহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে হুমকিতে ফেলছে। দুঃখজনকভাবে, এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধীকেই বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।” সংগঠনটি এই হামলাগুলো ঘিরে যে ক্রমবর্ধমান বিচারহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জেএমবিএফের মতে, কর্তৃপক্ষের এই সহিংসতা প্রতিরোধ বা অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থতা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে আরও সাহসী করে তুলছে এবং আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকারকে দুর্বল করছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে জেএমবিএফ। এগুলো হলো — শাহ আলী বাগদাদীর মাজারে হামলার ঘটনায় অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করা সহিংসতার জন্য দায়ী সকল ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনা সারা দেশের সকল মাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ধর্মীয় চরমপন্থা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদার প্রতি বাংলাদেশের সাংবিধানিক অঙ্গীকার সমুন্নত রাখা জেএমবিএফ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মানবাধিকার সংগঠন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষের সংগঠনগুলোকে বাংলাদেশের ক্রমক্ষয়িষ্ণু পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এবং দুর্বল ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর ওপর চলমান নির্যাতন ও ভয়ভীতির বিরুদ্ধে সরব হতে আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বহুত্ববাদ, সহিষ্ণুতা ও সহাবস্থানের নীতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সহিংসতা ও ভয়ের মাধ্যমে এই দেশের সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া উচিত নয়। বিবৃতিটিতে স্বাক্ষর করেছেন জেএমবিএফের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীর। প্যারিসের ১৮০ বুলেভার্ড হাউসমান, ৭৫০০৮ ঠিকানায় সিএনবি প্রাঙ্গণ থেকে এই বিবৃতি জারি করা হয়েছে।