শেরপুরে ১১ বছরের শিশু-কে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগঃ মরদেহ টয়লেট থেকে উদ্ধার, অভিযুক্ত পলাতক
নালিতাবাড়ী (শেরপুর), ৯ মে ২০২৬: শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায় ১১ বছরের কন্যাশিশু সানজিদা আক্তারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে প্রতিবেশীর টয়লেটে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত সানজিদা আক্তার নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাতা/রামচন্দ্রকুড়া এলাকার আমিনুল ইসলামের মেয়ে। মায়ের মৃত্যুর পর সে নানি চাঁন ভানুর কাছে লালিত-পালিত হচ্ছিল। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত পরশু বৃহস্পতিবার বিকেলে সানজিদা প্রতিবেশী চাঁন মিয়া পাগলার বাড়িতে খেলতে যায়। সন্ধ্যার পর বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা তাকে খুঁজতে থাকেন এবং মাইকিং করেন। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্দেহভাজন বিল্লাল হোসেনের মা তহুরুন নেছার ওপর চাপ প্রয়োগ করলে তিনি ছেলের মোবাইল নম্বর দেন। স্বজনরা ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে বিল্লাল হোসেন ফোনে সানজিদাকে হত্যা করে নিজেদের টয়লেটে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়রা টয়লেটে গিয়ে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিল্লালের বাবা চাঁন মিয়া (চান পাগলা), মা তহুরুন নেছা ও বোন রাবিয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে। নালিতাবাড়ী থানার ওসি আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হবে। অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন (চাঁন মিয়ার ছেলে) পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিশু সানজিদার পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
