“আগে বিএনপি করতাম, এহন করিনা; বিএনপি দল খারাপ সোজা কথা” – বিএনপি ছেড়ে আসা এক প্রবীণ
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরেই জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান ও ক্ষমতার দখল নিয়ে কিংস পার্টি হিসেবে বিএনপির জন্ম। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাজারো সেনাসদস্য ও অফিসারের রক্ত লেগে আছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরশাসক জিয়ার হাতে। ফলে বিএনপিকে কিলার পার্টি বললেও ভুল হবে না। লাশ ফেলার মাধ্যমে যে দলের হাতে খড়ি সেই বিএনপির বর্তমান কান্ডারি জিয়া পুত্র তারেক রহমানও পিতার মত একই রাস্তা বেছে নিয়েছে। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ২০০১-২০০৫ পর্যন্ত সারাদেশে বোমা হামলা ও জঙ্গী উৎপাদনের মাস্টার মাইন্ড এই তারেক রহমান। সিরিজ বোমা হামলার পরেও তৎকালীন বিএনপি সরকার বাংলাদেশে জঙ্গী উপস্থিত নাকোচ করে দেয়, অথচ সেসময়ই জঙ্গী সংগঠন 'জেএমবি' কর্মী সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন-আরএসও ক্যাম্পে। ২০২৪ সালের আন্দোলনকে পূঁজি করে ইউনূস-তারেক গং লাশ ফেলে শেখ হাসিনা সরকার পতনের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে এবং ৭.৬২ বুলেটে অকাতরে প্রাণ হারায় শত শত ছাত্র-জনতা এবং বিএনপি-জামায়াতের জঙ্গী-সন্ত্রাসী ও জুলাই মবের আক্রমণে প্রাণ হারায় পুলিশ সদস্য আর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিএনপি আগ্রাসী-ভয়াভহ রুপ দেশের জনগণ আবারো দেখতে পাচ্ছে। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, টেন্ডারবাজি সহ জনগণকে জিম্মি করে হামলা এমনকি মাথা থেতলে হত্যার ঘটনাও ঘটিয়েছে বিএনপি কর্মীরা। বিগত ১৭ মাসে বিএনপির গ্রুপিং সন্ত্রাসের বলি হয়ে নিজ দলেরই কতজন নিহত হয়েছে তারই ইয়ত্তা নেই। এরকম পরিস্থিতিতে কিলার পার্টি বিএনপির রাজনীতি আত্মঘাতী। ২০০১ থেকে ২০০৬ পিরিয়ডে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দুর্নীতিতে বাংলাদেশকে পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে এবং সে দুর্নাম বিএনপি এখনো বয়ে বেড়ায়। তবুও লজ্জার মাথা খেয়ে এবারো বিএনপি মনোনীত ১৪ জন ঋণখেলাপি ও ব্যাংক লুটেরা প্রার্থী নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্বাচন করতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে বিএনপি মনোনিত এক আসলাম চৌধুরীরই ঋণ খেলাপির পরিমাণ ১৭০০ কোটি টাকা, বাকিরা তো আছেনই। এত বিপুল অর্থ ঋণ খেলাপি হয়েও এরা বৈধতা পেয়ে যায় ইসির কাছে, সুতরাং বলাই বাহুল্য ইউনূসের অধীনে এ নির্বাচন কতখানি পাতানো। যাইহোক, অবৈধ নির্বাচনের আগেই যেহেতু ৪৫ ঋণখেলাপীদের বৈধতা দেওয়া হয়ে গেছে তাহলে সামনের বাংলাদেশ কতটুকু দুর্নীতি মুক্ত হবে তার আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই, বিএনপির হাতে রক্ত ও গায়ে দুর্নীতির দুর্গন্ধের ফলেই তাদের নেতাকর্মীরা আজ দলত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন।
