আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পর এবার বিএনপি সরকারের ৩ দিনের ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’!
দেশের ইন্টারনেট সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিসিএল)। বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল (SEA-ME-WE-5) মেরামতের কারণে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত মোট ৩ দিন ৮ ঘণ্টা সারা দেশে ইন্টারনেট ধীরগতি বা বিঘ্নিত হতে পারে। তবে সাধারণ গ্রাহক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মেরামতের সময়কাল নিয়ে গভীর রহস্য দানা বাঁধছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার ঠিক পরপরই এমন ‘রক্ষণাবেক্ষণ’ কর্মসূচিকে সরকারের বিরোধী পক্ষ ও সাধারণ নাগরিকরা দেখছেন এক কৌশলী ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’ হিসেবে। ছাত্র-জনতার কথিত অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশে ইন্টারনেট সেবা সচল রাখতে হবে। তথাকথিত ‘শাটডাউন’ বা গতিরোধের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেই সরকার। কিন্তু বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাবমেরিন ক্যাবল মেরামতের নামে দীর্ঘ ৩ দিন ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত করার এই সিদ্ধান্তকে সেই নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পর দেশজুড়ে যে প্রতিক্রিয়া বা আন্দোলনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, তা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেই কি এই কৌশল? বিএসসিসিএলের বিজ্ঞপ্তিতে ‘শাট ফল্ট’ মেরামতের কথা বলা হলেও, ৩ দিন ৮ ঘণ্টা দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হওয়া বর্তমান ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতের জন্য এক বড় বিপর্যয়। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে আধুনিক বিশ্বে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, সেখানে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই কেন এই দীর্ঘমেয়াদী মেরামতের ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বলছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথা বলে ক্ষমতায় এসে সরকার এখন তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের পথে হাঁটছে। একদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মাঠছাড়া করা, অন্যদিকে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে মানুষের কণ্ঠরোধ করার এই প্রক্রিয়া সরকারের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিএসসিসিএল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, রাজনৈতিক উত্তাপের এই সময়ে ইন্টারনেটের এই ‘ধীরগতি’ আসলে সরকারের ‘দ্রুতগতিতে’ ক্ষমতা কুক্ষিগত করার কৌশলী অংশ কি না—তা নিয়ে জনমনে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
