যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৩, আহত ১০
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে শিশুসহ অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ এবং আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিসিক শিল্পাঞ্চলের পাশে চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধরা হলেন— রাকিব (২৩), রফিক (৪০) ও মাদ্রাসাছাত্র ইমরান হোসেন (১৩)। গুরুতর আহত অবস্থায় ইমরানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার পরিবার জানিয়েছে, বুকের নিচে গুলিবিদ্ধ হয়ে সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সারজিল আহমেদ অভি গ্রুপ এবং ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান গ্রুপ একটি গার্মেন্টস কারখানার ঝুট দখলকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় পথচারীসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও আহত হন। গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে খানপুর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। এলাকাবাসী জানান, চাঁদনী হাউজিংয়ে বেষ্ট ষ্টেল কম্পোজিট কারখানার ঝুট জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি গ্রুপের অভি তার দলবল নিয়ে নামাতেন। কয়েকদিন যাবত ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ, এনায়েতনগর ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খোকা মিয়া, ফতুল্লা থানা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ দলবল নিয়ে বেষ্ট ষ্টেল কম্পোজিটে ঝুট নামাতে বাধা দিয়ে আসছে। এতে উভয় পক্ষই দেশি বিদেশি অস্ত্র মজুত করে সকাল থেকে গার্মেন্টসের দুই পাশে অবস্থান নেয়। এলাকাবাসীর দাবী এতো আগ্নেয়াস্ত্র কখনো ফতুল্লায় প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাদের মুখোমুখি বন্ধুক যুদ্ধ এলাকাবাসী আতংকিত করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি কারখানার ঝুট সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। গুলিবিদ্ধ রাকিবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি দাবি করেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যবসায়িক বিরোধের ফল। এতে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি জানান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান জানান, সংঘর্ষে অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
