হাওয়া ভবনের চাঁদাবাজির টাকা ফেরত চায়, চাঁদাবাজকে এসএসএফ প্রটোকল কেন? প্রশ্নের মুখে তারেক রহমান

২১ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , ডোনেট বাংলাদেশ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে “হাওয়া ভবন” কোনো নিরীহ ঠিকানা নয়। এটি ছিল এক অদৃশ্য ক্ষমতার কেন্দ্র, যেখানে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত, টেন্ডার, ফাইল আর বিনিয়োগ—সবকিছুর মূল্য নির্ধারিত হতো চাঁদার অঙ্কে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এক ভয়ংকর অধ্যায়ের নামই হলো হাওয়া ভবন। বিএনপির শাসনামলে হাওয়া ভবনকে ঘিরে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল, তা নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না। ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, বিদেশি বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী—প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে এই চাঁদা সংস্কৃতির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টেন্ডার পেতে হলে চাঁদা, ফাইল চালাতে হলে চাঁদা, এমনকি বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আনতেও দিতে হতো “হাওয়া ভবনের খরচ”। আর এই অদৃশ্য সাম্রাজ্যের নেতৃত্বে ছিলেন তারেক রহমান—এমন অভিযোগ বহুবার উঠে এসেছে। আজ সেই পুরনো ক্ষত নতুন করে সামনে এনেছেন মুফতি ইজাজান চৌধুরী। তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, হাওয়া ভবনের নামে তার কাছ থেকে এবং তার মতো শতাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে জোরপূর্বক আদায় করা চাঁদার টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বিস্ফোরক প্রশ্নটি হচ্ছে যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বাহিনী এসএসএফের প্রটোকল দেওয়া হয় কীভাবে? এটি কি আইনের শাসনের প্রতি রাষ্ট্রের শ্রদ্ধা, নাকি ক্ষমতাবানদের জন্য আলাদা মানদণ্ড? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমনে ক্ষোভ এখন আর চাপা নেই। মানুষ প্রশ্ন করছে—যে দেশে সাধারণ নাগরিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পেতে হিমশিম খায়, সে দেশে একজন বহুল আলোচিত অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি কীভাবে ভিআইপি মর্যাদা ও বিশেষ নিরাপত্তা পায়? গণতন্ত্র কেবল ভোটের বাক্সে সীমাবদ্ধ নয়। গণতন্ত্র মানে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং নৈতিক দায়িত্ব। যদি হাওয়া ভবনের চাঁদাবাজির অভিযোগ মিথ্যা হয়ে থাকে, তবে তা প্রমাণ করা হোক। আর যদি সত্যের বিন্দুমাত্র অস্তিত্ব থাকে, তবে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া ও দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা কেন এখনো হয়নি? ইতিহাস সাক্ষী ক্ষমতার ছায়া চিরস্থায়ী নয়। আজ যারা এসএসএফ প্রটোকলের আড়ালে হাঁটে, কাল তারাই জনরোষের সামনে দাঁড়াতে বাধ্য হয়। হাওয়া ভবনের চাঁদার টাকা কার, সেই প্রশ্ন আজ শুধু একজন ইজাজান চৌধুরীর নয় এটি গোটা জাতির প্রশ্ন। এই প্রশ্ন আর নীরবতা, সুবিধাবাদ কিংবা রাজনৈতিক ঢাল দিয়ে চাপা দেওয়া যাবে না।