গ্যাস সংকটে লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকিতে : ইউনুসের অদক্ষতার মাসুল গুনছে সাধারণ মানুষ
বরিশালে এলপিজি গ্যাস সংকট এখন আর শুধু একটি সাময়িক সমস্যা নয়, এটি পরিণত হয়েছে লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্নে। প্রায় পঞ্চাশ হাজার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না, তখন এই প্রশ্ন উঠছে স্বাভাবিকভাবেই যে, অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা মুহাম্মদ ইউনুসের তথাকথিত সরকার আসলে কার স্বার্থে কাজ করছে। দেশব্যাপী জুলাই দাঙ্গা বাঁধিয়ে, বিদেশী শক্তির অর্থায়নে আর জঙ্গিদের সহায়তায় যে অ-সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারা কি সত্যিই এদেশের সাধারণ মানুষের কথা ভাবে? আব্দুর রাজ্জাকের মতো হাজারো মানুষের গল্প একই রকম। ছয় সদস্যের পরিবার, একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি নিজে। জমানো সামান্য টাকা ভেঙে চলছে সংসার। কিন্তু সেই টাকাও তো ফুরিয়ে যাবে একদিন। তারপর কী হবে এই পরিবারগুলোর? ইউনুস আর তার দলবল কি এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন? নাকি তারা ব্যস্ত থাকবেন নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার হিসাব-নিকাশে? আওয়ামী লীগের ষোল বছরের শাসনামলে বরিশালসহ সারাদেশে সিএনজি চালকরা তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পেরেছেন নিয়মিত। গ্যাস সংকট এমন প্রকট আকার ধারণ করেনি কখনও। তাহলে ইউনুসের মাত্র ষোল মাসের শাসনেই কেন এই দুরবস্থা? কেন আমদানি ব্যবস্থাপনা এতটা ভেঙে পড়ল? কেন ফিলিং স্টেশনগুলোতে দিনের পর দিন গ্যাস আসছে না? এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর নেই ইউনুসের কাছে। সত্যিকার অর্থে যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, যাদের কাছে কোনো জবাবদিহিতা নেই, তারা সাধারণ মানুষের দুর্দশা নিয়ে মাথা ঘামাবে কেন? ক্যু করে ক্ষমতায় আসা এই অ-সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিদেশী প্রভুদের সন্তুষ্ট রাখা, জঙ্গি সংগঠনগুলোর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা, আর সামরিক বাহিনীর সমর্থন ধরে রাখা। সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় কোথাও নেই। এলপিজি আমদানি একটি সাধারণ প্রশাসনিক বিষয়, যা একটি দক্ষ সরকার সহজেই সামলাতে পারে। কিন্তু ইউনুসের তথাকথিত সরকার যেহেতু মূলত একটি ক্ষমতা দখলকারী গোষ্ঠী, তাই তাদের কাছে এসব বিষয়ে দক্ষতা আশা করাই বৃথা। মাইক্রোক্রেডিটের নামে গরীবদের কাছ থেকে সুদ আদায় করে কোটিপতি হওয়া ইউনুস যে গরীবের পেটে লাথি মারতে পারদর্শী, এটা আজ আর নতুন কিছু নয়। বরিশালের সিএনজি চালকদের এই দুর্দশা আসলে পুরো দেশের চিত্রেরই একটি ক্ষুদ্র অংশ। ইউনুসের শাসনামলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অভাব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। যে মানুষগুলো প্রতিদিন রাস্তায় নেমে সৎভাবে রোজগার করে সংসার চালাতে চান, তাদের সেই সুযোগটুকুও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এই অদক্ষ শাসনের কারণে। প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতির দায় কে নেবে? যখন হাজার হাজার পরিবার অনাহারে থাকবে, যখন সিএনজি চালকরা কর্মহীন হয়ে পড়বেন, যখন তাদের সন্তানেরা স্কুলে যেতে পারবে না, তখন ইউনুস কি তার বিদেশী প্রভুদের কাছে আশ্রয় নেবেন? নাকি জঙ্গিদের কাছে সমাধান খুঁজবেন? বাস্তবতা হলো, একটি অবৈধ সরকার কখনও জনগণের কল্যাণ করতে পারে না। ক্ষমতার বৈধতা না থাকলে দায়বদ্ধতাও থাকে না। ইউনুসের এই অ-সরকার তার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। বরিশালের গ্যাস সংকট শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি ব্যর্থ শাসনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যে সরকার গ্যাস আমদানির মতো সাধারণ একটি বিষয়ও সামলাতে পারে না, তারা দেশ চালাবে কীভাবে? আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যে উন্নয়ন হয়েছিল, যে স্থিতিশীলতা ছিল, সেটা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মানুষ এখন তুলনা করতে শিখছে। বুঝতে পারছে যে, একটি নির্বাচিত সরকার আর একটি অবৈধ সরকারের মধ্যে পার্থক্য কতখানি।
