স্বাধিকার আন্দোলনের অগ্নিঝরা মার্চঃ ৫ মার্চ ১৯৭১- টঙ্গীতে শ্রমিক হত্যাকাণ্ড ও বিক্ষোভ

৭ মার্চ, ২০২৬ | ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , ডোনেট বাংলাদেশ

একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চের এইদিনে হরতাল পালনকালে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে টঙ্গী শিল্প এলাকায় ৪ জন শ্রমিক শহীদ হন এবং ২৫ জন শ্রমিক আহত হন। ফলে সমগ্র টঙ্গী শিল্প এলাকা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে, বিক্ষুব্ধ জনতা কংক্রিট ব্রিজের পার্শ্ববর্তী কাঠের ব্রিজটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়, বড় বড় গাছ ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে তারা রাস্তা বন্ধ করে দেয়। শ্রমিক হতাহতের সংবাদে ঢাকায় জনসাধারণের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ছাত্রলীগের উদ্যোগে এক বিরাট ছাত্র জনতা টঙ্গীতে নিহত শ্রমিকদের লাশ নিয়ে রাজধানীতে মিছিল করে। চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে শহীদদের জন্য বিক্ষুব্ধ মিছিল, গণজমায়েত ও পূর্ণ হরতাল পালিত হয়। সন্ধ্যায় সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়, আজ ঢাকায় সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে হরতালের পর ব্যাংক খোলা থাকে। মসজিদে মসজিদে জুম্মার নামাজের পর শহীদানের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদ সভা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এইদিনে পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জেড এ ভুট্টো রাওয়ালপিন্ডির প্রেসিডেন্ট ভবনে ইয়াহিয়ার সাথে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় আলোচনা করেন। অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আসগর খান বিকেলে করাচি থেকে ঢাকায় পৌঁছান। তিনি রাতে বঙ্গবন্ধুর সাথে ধানমন্ডিস্থ বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন। রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদেশি বেতারে প্রচারিত ‘শেখ মুজিব ভুট্টোর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগ-বাঁটোয়ারা করতে রাজি আছেন’-সংক্রান্ত সংবাদকে ‘অসদুদ্দেশ্যমূলক’ ও ‘কল্পনার ফানুস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, সিলেটসহ বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানে মিলিটারির বুলেটে নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষ, শ্রমিক, কৃষক ও ছাত্রদের হত্যা করা হচ্ছে। নির্বিচারে নিরস্ত্র মানুষকে এভাবে হত্যা করা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ছাড়া আর কিছুই নয়। এইদিনে লেখক ও শিল্পীরা ঢাকার তোপখানা রোডে পাকিস্তান লেখক সংঘের অফিস থেকে মিছিলে শামিল হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে সভা ও বাংলার স্বাধীনতার লক্ষ্যে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের পরিচালক ও সভাপতি ছিলেন ড. আহমদ শরীফ।

বাংলাদেশি সংস্কৃতি
 
[রেফারেন্স: নুরুজ্জামান মানিক,মুক্তিযুদ্ধের প্রতিদিন মার্চ-ডিসেম্বর ১৯৭১; রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী,৭১এর দশমাস; নাজিমুদ্দিন মানিক,একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলনের দিনগুলো; আহমদ শরীফ ,স্বনির্বাচিত প্রবন্ধ; আতিউর রহমান,অসহযোগের দিনগুলি: মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুুতিপর্ব]