হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে দেশবাসীকে নির্বাচন বয়কটের ডাক ১৬৭৫ জন বিশিষ্টজনের, সঙ্গে ১২ দাবি

বিবৃতিতে ওই নাগরিকেরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অবৈধ ও বেআইনি। সেই সঙ্গে তারা বারো দফা দাবি পেশ করেছেন।

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ডেস্ক নিউজ , ডোনেট বাংলাদেশ

বাংলাদেশের (Bangladesh) ১৬৭৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বয়কট (Bangladesh Election Boycott) করার ডাক ডাক দিয়েছেন। ‌ দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানরত এই নাগরিকদের মধ্যে আছেন চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, কবি- সাহিত্যিক, সাংবাদিক প্রমূখ। এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও তথাকথিত গণভোট নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদের সঙ্গে বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছি (Bangladesh politics)। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, বর্তমানে বাংলাদেশে কোনও গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ন্যূনতম রাজনৈতিক, আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক বা নিরাপত্তাগত পরিবেশ বিদ্যমান নেই। যা আয়োজ করা হচ্ছে, তা কোনও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়; বরং একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রহসন—যা দেশকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দেবে। প্রসঙ্গত বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আওয়ামী লিগকে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা তার দলকে ভোট বয়কটের নির্দেশ দিয়েছেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লিগের নেতারা ভোট বয়কটের আহ্বান জানিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন বিবৃতিতে ওই নাগরিকেরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অবৈধ ও বেআইনি। সেই সঙ্গে তারা বারো দফা দাবি পেশ করেছেন। ১. সরকারের আইনগত ও সাংবিধানিক বৈধতার অনুপস্থিতি একটি গুরুতর বিষয়। বর্তমান সরকার একটি অনির্বাচিত কর্তৃত্ব, যার কোনও গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই। এমন একটি সরকারের পক্ষে জাতীয় নির্বাচন বা গণভোট আয়োজন করার মতো কোনও নৈতিক বা সাংবিধানিক অধিকার নেই। ২. প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন কমিশন: নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া ছিল অস্বচ্ছ, বিশেষ পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রভাবিত। এতে রাজনৈতিক ঐকমত্য ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। ৩. গণভোট আয়োজনের বৈধতা: গণভোট আয়োজনের অধিকার কেবল একটি নির্বাচিত সরকারের । তাই বর্তমান কর্তৃপক্ষের এই বিষয়ে কোনও নৈতিক বা সাংবিধানিক বৈধতা নেই। ৪. নির্বাচনের ফলাফলের কোনও বৈধতা থাকবে না: এই প্রক্রিয়ায় গঠিত কোনও সরকারই আইনি বা রাজনৈতিক বৈধতা পাবে না। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনা যেমন দুরূহ হবে, তেমনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ৫. আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভাঙন: বর্তমানে দেশে মব সন্ত্রাস, রাজনৈতিক নিপীড়ন, ঢালাও গ্রেপ্তার, মতপ্রকাশ দমন ও বিচার ব্যবস্থার অবক্ষয় চলছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও নাগরিক স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে না। ৬. প্রধান রাজনৈতিক শক্তির অনুপস্থিতি: দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লিগ এবং অর্ধেকরও অধিক রাজনৈতিক দল ও প্রতীককে (যাদের জনসমর্থন মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের অধিক) পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে জনগণের প্রতিনিধিত্ব অসম্ভব! ৭. ভয়ের পরিবেশ ও রাজনৈতিক নিপীড়ন: সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, লেখক ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি চলছে নিয়মিত । ৮. মানবাধিকার লঙ্ঘন: গুম, হত্যা, হুমকি, ধর্মীয় নিপীড়ন, নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতা—সব মিলিয়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি চরমভাবে বিপর্যস্ত। ৯. নিরপেক্ষতার অভাব: বর্তমান সরকার নিজেদের নিরপেক্ষ দাবি করলেও বাস্তবে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে সমর্থন করছে। ১০. বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের কাছে রাজনীতিকরণ: রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় অকার্যকর রয়েছে। বর্তমানে কোনও আইনের প্রয়োগ নেই এবং বিচারালয়ের বিচার চলছে সরকারের ও বিশেষ শক্তির ইশারায়। ১১. জাতীয় স্থিতিশীলতার ঝুঁকি: এই নির্বাচন রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়াবে, সামাজিক বিভাজন তীব্র করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি করবে। ১২. আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষতি : বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সহযোগিতা হারাবে যা দেশের জন্য চরম ক্ষতির শামিল । ১৩. অর্থনৈতিক সংকট : বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে চরম খারাপ। এই নির্বাচন হয়ে গেলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিনিয়োগ কমাবে, বাণিজ্য ব্যাহত করবে এবং অর্থনীতিকে একেবারে দুর্বল করে দেবে। ১৪. জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট : এ ধরনের নির্বাচন জনগণের আস্থা ও সামাজিক সংহতি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে। ১৫. গণতন্ত্রের ন্যূনতম শর্ত অনুপস্থিত : মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সমতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—কোনোটিই কার্যকরভাবে নেই। এমতাবস্থায় ভোটের মাধ্যমে সঠিক জনমত আশা করা অসম্ভব। ওই নাগরিকদের দাবিগুলি হল: ১. নির্বাচন ও গণভোট অবিলম্বে স্থগিত এবং এই অবৈধ প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে হবে। ২. বর্তমান সরকার বিলুপ্ত করে অবৈধ কর্তৃত্ব ভেঙে দিতে হবে। ৩. সকল দলের অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে হবে। ৪. নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর মাঠ প্রশাসন সহ সকল স্তরে শুদ্ধিকরণ করতে হবে। ৫. সকল রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সব মামলা প্রত্যাহার ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেওয়া রায় বাতিল করতে হবে। ৬. জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ২৪ এর ৫ই আগষ্ট পরবর্তী সকল হত্যা, গুম ও সহিংসতার তদন্ত করতে হবে। ৭. ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিচার করতে হবে ৮. বিচার বিভাগকে দখলদার মুক্ত করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। ৯. ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ১০. সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। সকল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্ৰহনের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ১১.বন্ধ সকল শিল্প কলকারখানা চালু করতে হবে। ১২. কৃষকদের কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করতে হবে।