‘‌শুভেন্দু যেন ওর বাবাকে গিয়ে উপদেশগুলো দেন’‌

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৯ অক্টোবর ২০২১, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
‘‌শুভেন্দু যেন ওর বাবাকে গিয়ে উপদেশগুলো দেন’‌

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সবাইকে চমকে দিয়েছেন বিজেপির দুইবারের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। দুই বাংলার তুমুল জনপ্রিয় এ সংগীত শিল্পী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর বিপাকে পড়েছে বিজেপি শিবির।

আজ (মঙ্গলবার) লক্ষ্মীপুজোর দিন সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাবুল সুপ্রিয়। পদত্যাগপত্র জমা দিয়েই শুভেন্দু অধিকারীকে তুলোধনা করলেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‌আসানসোল আমার জন্য স্পেশাল জায়গা। আসানসোলের প্রতি আমার আলাদা দায়িত্ব আছে। শুভেন্দুর সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব ছিল, এখনও আছে। শুভেন্দু আমার সম্পর্কে কড়া ভাষায় কথা বলে, কারণ ওটা রাজনীতির স্বার্থে ওকে করতেই হবে। আমি নৈতিকভাবে ঠিক থাকতেই সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দিলাম। শুভেন্দুর বাবারও উচিত সেটাই করা। শুভেন্দু যেন ওর বাবাকে গিয়ে উপদেশগুলো দেন।’‌

এর আগে শুভেন্দুর বাবা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারী ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিয়েছেন। গত মার্চে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় বিজেপি আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সামনে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।

শিশির অধিকারী ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির সংসদ সদস্য। তিনি ২০০৯ সাল থেকে সাংসদ হিসেবে এই পদে রয়েছেন। মনমোহন সিং যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন।

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ পরই বাবুল সুপ্রিয় যাতে সংসদ সদস্যপদ ছাড়েন তা নিয়ে সরব হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে সময় পাচ্ছিলেন না বিজেপি থেকে আসা গায়ক–সাংসদ। প্রায় দু’‌মাস পর তাকে আজ সময় দিয়েছেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। মঙ্গলবার ওম বিড়লার বাসভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাবুল জানান, সংসদ সদস্য পদ ধরে রাখা অনৈতিক মনে হয়েছিল বলেই ইস্তফা দিয়েছেন। তারপর নিজেকে যেন অনেকটা মুক্ত বলে উপলব্ধি করছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বিজেপির টিকিটে আসানসোল থেকে পরপর দু’‌বারের সাংসদ হয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। কিন্তু সম্প্রতি তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখন থেকেই দলের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে যেতে শুরু করে। বারবার তিনি নানা টুইট করতে থাকেন। যা নিয়ে বিজেপির অস্বস্তি বাড়ছিল। তারপর ডেরেক ও’‌ব্রায়েনের হাত ধরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গাড়িতে করে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে আসেন।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।