২৬ লাশ উদ্ধার ॥ মাদারীপুরে পদ্মায় বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটের সংঘর্ষ

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৪ মে ২০২১, ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ
২৬ লাশ উদ্ধার ॥ মাদারীপুরে পদ্মায় বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটের সংঘর্ষ

সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে পদ্মা নদীতে শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ঘাটের অদূরে নোঙর করে রাখা একটি বাল্কহেডের (বালু টানা কার্গো) সঙ্গে স্পিডবোটের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস অভিযানে নামে। তারা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। জীবিত ৫ জনকে উদ্ধার করে শিবচর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সকালেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান, শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মিরাজুল হোসেনসহ জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

কাঁঠালবাড়ি নৌপুলিশসহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোরে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে যাত্রীবাহী একটি স্পিডবোট যাত্রী বোঝাই করে শিবচরের বাংলাবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়। ভোর প্রায় ৬টার দিকে স্পিডবোটটি শিবচর কাঁঠালবাড়ি (পুরাতন ফেরিঘাট) ঘাটের কাছে আসলে পদ্মা নদীতে কাঁঠালবাড়ি ঘাটের অদূরে নোঙর করে রাখা একটি বাল্কহেডের (বালু টানা কার্গো) সঙ্গে স্পিডবোটের সংঘর্ষ হয়। দ্রুতগতির স্পিডবোটটি বাল্কহেডের পেছনে সজোরে ধাক্কা লেগে উল্টে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে যাত্রীরা ছিটকে বাল্বহেডের স্টিলের গায়ে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়। এতে অধিকাংশ যাত্রীর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়। কয়েকজন যাত্রী আঘাত পেয়েও ভেসে থাকে। খবর পেয়ে নৌপুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস নৌপুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযানে নামে। দুপুরের আগেই তারা ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে বলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান। আহতদের একজন স্পিডবোটের চালক শাহ আলম। পুলিশ তাকে হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করেছে। নিহতদের লাশগুলো উদ্ধার করে কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের দোতারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রাখা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হতাহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের আহাজারীতে পদ্মা পাড়ের বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে প্রশাসন। বাকিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তবে দুর্ঘটনা কবলিত স্পিডবোটে কতজন যাত্রী ছিল তার সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলেও একটি সূত্র জানায় ওই বোটে চালকসহ ৩২ জন ছিল।

৩ শিশুসহ ২৬ নিহতের নাম ॥ নিহতরা হলেন খুলনার তেরখাদা উপজেলার বারুখালির মনির মিয়া (৩৮), হেনা বেগম (৩৬), সুমী আক্তার (৫) ও রুমি আক্তার (৩), ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙা গ্রামের বাবা আরজু শেখ (৫০) ও ছেলে ইয়ামিন সরদার (২), মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার সাগর ব্যাপারী (৪০), কুমিল্লার দাউদকান্দির কাউসার আহম্মেদ (৪০), রুহুল আমিন (৩৫), তিতাসের জিয়াউর রহমান (৩৫), মাদারীপুরের রাজৈরের তাহের মীর (৪২) ও শিবচরের হালান মোল্লা (৩৮), শাহাদাত হোসেন মোল্লা (২৯), বরিশালের তেদুরিয়ার আনোয়ার চৌকিদার (৫০), মাদারীপুরের রায়েরকান্দির মাওলানা আব্দুল আহাদ (৩০), চাঁদপুরের উত্তর মতলবের মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৪৫), নড়াইলের লোহাগড়ার রাজাপুরের জুবায়ের মোল্লা (৩৫), মুন্সীগঞ্জের সদরের সাগর শেখ (৪১), বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের সায়দুল হোসেন (২৭), রিয়াজ হোসেন (৩৩), ঢাকার পিরেরবাগ খোরশেদ আলম (৪৫), ঝালকাঠির নলছিটির এসএম নাসির উদ্দীন (৪৫), বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩৫), পিরোজপুরের মোঃ বাপ্পি (২৮), জনি অধিকারী (২৬)। অপর নিহত যাত্রী বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের মনির হোসেন জমাদ্দারের (৩৫) নাম নিশ্চিত হলেও পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন সেরনিয়াবাত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬ সদস্যের একটি এবং নৌমন্ত্রণালয়ের ৩ সদস্যের আরও একটিসহ দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে ও আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হতাহতের স্বজনেরা ছুটে আসেন। তাদের আহাজারীতে পদ্মা পাড়ের বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।

এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মাদারীপুরের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মোঃ আজহারুল ইসলামকে প্রধান করে ৬ সদস্যের একটি এবং নৌমন্ত্রণালয়ের ৩ জনের একটিসহ দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দুপুরে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েকজনকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে ও আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।’

উল্লেখ্য, লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকার পাশপাশি নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে এরই মধ্যে সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে কিছু অসাধু স্পিডবোট চালক সিন্ডিকেট গড়ে অবৈধভাবে প্রথম থেকেই যাত্রী পারাপার করে আসছে।

স্পিডবোটটি চলছিল লুকিয়ে- বিআইডব্লিউটিএ ॥ যে স্পিডবোটটি দুর্ঘটনায় পড়ে ২৬ জন নিহত হয়েছে, লকডাউনের মধ্যে সেটি লুকিয়ে চলছিল বলে দাবি করেছে নৌচলাচল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ। সোমবার এ নৌ-দুর্ঘটনার পর বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক এই দাবি করেন। লকডাউনের মধ্যে তা কীভাবে হলো- এই প্রশ্নে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান বলেন, শিমুলিয়া ঘাট তো তালা মারা। ওই ঘাট দিয়ে কোন নৌযান চলাচল করছে না। লঞ্চগুলোও ঘাটে নোঙর করা। গোলাম সাদিক বলেন, স্পিডবোটটির চালক চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ‘গোপনে’ যাত্রী তুলে পারাপার করছিল। স্পিডবোটটি অবৈধ কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবৈধ নয়। এটির চলাচলের অনুমতি ছিল। জরুরী প্রয়োজনে মানুষকে পারাপার হতে হলে ফেরি ব্যবহারের অনুরোধ জানান কমডোর গোলাম সাদেক। এ নৌ-দুর্ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিআইডব্লিউটিএ। পদ্মা পারাপারে থাকা স্পিডবোটগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান।

মায়ের মরদেহ দেখতে গিয়ে স্বামী-সন্তানের লাশ নিয়ে ফিরলেন আদুরী বেগম ॥ জেলার মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দোতরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বসে কাঁদছিলেন ৩৫ বছর বয়সী আদুরী বেগম। তাকে সান্ত¡না দেয়ার কেউ নেই। স্বজন হারানোর কান্না থামছেই না। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে স্পিডবোট দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তিনি। দুর্ঘটনায় তার স্বামী আরজু মিয়া (৪০) ও দেড় বছর বয়সী ছেলে ইয়ামিন প্রাণ হারিয়েছে। আদুরীর বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার মাইগ্রো গ্রামে। স্বামী সন্তান নিয়ে থাকতেন ঢাকার হাসনাবাদে। রবিবার রাতে আদুরীর মা মনোয়ারা বেগম মারা যান গ্রামের বাড়িতে। মায়ের লাশ দেখতে স্বামী-সন্তান নিয়ে গ্রামে যাচ্ছিলেন তিনি। সোমবার সকাল ৬টার দিকে ৩২ যাত্রী নিয়ে স্পিডবোট শিমুলিয়া ঘাট থেকে শিবচরের বাংলাবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাংলাবাজার ঘাটে নোঙর করা বালুবোঝাই বাল্কহেডে ধাক্কা খায় স্পিডবোটটি। ঘটনাস্থলেই ২৬ যাত্রী প্রাণ হারান। স্থানীয় লোকজন পাঁচ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। উদ্ধারকারীরা লাশ উদ্ধার করে কাঁঠালবাড়ির ইয়াছিন মাদবরকান্দি গ্রামের দোতরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখেন। মৃত ২৬ জনের মধ্যে আছেন আদুরীর স্বামী ও ছেলে। আর জীবিত উদ্ধার হন আদুরী। সকাল ১০টার দিকে আদুরী স্বামী-সন্তানের খোঁজে ছুটে যান নদীর পাড়ে। সেখানে কাউকে না পেয়ে যান দোতরা স্কুলের মাঠে। স্বামী-সন্তান নেই জেনে তার কান্না আর থামছিল না। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে যান আদুরীর দুই চাচা ও ফুফু। তারা লাশের সারি থেকে আদুরীর স্বামী আরজু মিয়া ও ছেলে ইয়ামিনকে শনাক্ত করেন।

আদুরীর চাচা বলেন, ‘মায়ের লাশ দেখতে যাচ্ছিল মেয়েটি। এখন স্বামী-সন্তানের লাশ নিয়ে তাকে ফিরতে হচ্ছে। আমরা কী বলে সান্ত¡না দেব ওকে? বাড়িতে একটি কবর খুঁড়ে এসেছি। ফোনে আরও কবর প্রস্তুত করতে বলেছি। বিধাতা কেন এমন করল!’

আদুরী কান্না করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘লকডাউনের কারণে ঢাকায় আটকা পড়েছিলাম। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে গ্রামে যাচ্ছিলাম। দেড় বছরের ছেলে আমার কোলে ছিল। স্পিডবোটটি অতিরিক্ত গাদাগাদি করে ছাড়ে। চলছিল অতিরিক্ত গতিতে। আমি এক হাতে ছেলেকে ও আরেক হাতে স্বামীকে ধরেছিলাম। হঠাৎ সজোরে ধাক্কা লাগে। আমরা সবাই ছিটকে পড়ি। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি হাসপাতালে। সঙ্গে সঙ্গে নদীর পাড়ে গিয়ে শুনি, আমার সব শেষ।

মায়ের লাশ দাফন করতে আসার পথে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু ॥ স্টাফ রিপোর্টার খুলনা অফিস জানায়, মায়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি আসার পথে শিমুলিয়া নৌরুটে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে লাশ হয়ে ফিরল খুলনার তেরখাদা উপজেলার পারোখালী গ্রামের একই পরিবারের চার জন। সোমবার সন্ধ্যায় তাদের মরদেহ নিয়ে আসা হয় তেরখাদা থানায়। রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানসহ মনির শিকদারের মরদেহ থানায় ছিল বলে স্থানীয়রা জানায়। এদিকে মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।

সোমবার সকালে শিবচর বাংলাবাজার শিমুলিয়া নৌরুটে বালুবোঝাই বাল্কহেড ও স্পিডবোটের সংঘর্ষে ২৬ জন মারা যায়। এর মধ্যে খুলনার তেরখাদা উজেলার তেরখাদা ইউনিয়নের পারোখালী এলাকার মশিকদার, তার স্ত্রী হেনা বেগম, শিশু কন্যা সুও রুমি মারা যায়। নিহত মনিরের ৮ থেকে ১০ বছরের শিশু কন্যা মিম বেঁচে যায়। সে তার মা বাবাও দুই বোনকে শনাক্ত করে বলে পুলিশ জানায়। তেরখাদা থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রশাসনের সহায়তায় নিহতদের মরদেহ সন্ধ্যায় আনা হয়েছে। মনির শিকদারের মা রবিবার সন্ধ্যায় মারা গেলে তার লাশ দাফন করার জন্য স্ত্রী, তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে মনির শিকদার তেরখাদার বাড়িতে আসছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, মরদেহগুলো সন্ধ্যায় তেরখাদা থানায় আনা হয়। এর পর সেখানে শোকার্ত মানুষের ভিড় জমে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।