সুষ্ঠুভাবে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৩ এপ্রিল ২০২১, ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সুষ্ঠুভাবে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

রাজধানীসহ সারাদেশে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের (২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলে বেলা ১১টা পর্যন্ত। রাজধানীসহ সারাদেশের ১৯টি কেন্দ্রের ৫৫টি ভেন্যুতে একযোগে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে (১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্র) এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবার মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৮৭৪ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম আহসান হাবিব সাংবাদিকদের জানান, করোনা পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তাদের নির্দেশনা অনুসারে পরীক্ষার্থী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ ও মাস্ক পরিধান করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তিনি নিজেও ঢাকা কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সুন্দর ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা গ্রহণ করতে দেখেছেন বলে জানান। কবে নাগাদ ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে, জানতে চাইলে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ না বললেও দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

বিগত বছরগুলোতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হতো। কিন্তু এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সময় একটু বেশিই লাগতে পারে। তবে দ্রুত ফল প্রকাশের প্রচেষ্টা থাকবে বলে জানান ডাঃ এ কে এম আহসান হাবিব।

নির্ভরযোগ্য দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্র বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের একটি দল পরীক্ষা করবে। সার্বিক ফল তৈরির দায়িত্ব তাদেরকেই দেয়া হয়েছে। গত বছর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেটের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে ফল তৈরির দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু এবারই প্রথম বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে ফল তৈরি হচ্ছে। তবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ একাধিক বিশেষজ্ঞ ফল তৈরির সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মুখে মাস্ক ছিল। তবে ছিল না সামাজিক দূরত্ব। মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা শুরুর আগে ও পরে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী-অভিভাবকদের প্রচন্ড ভিড় দেখা গেছে। করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের মধ্যে শুক্রবার অনুষ্ঠিত মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার পাঁচটি কেন্দ্রে এ চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীসহ দেশের ১৯টি পরীক্ষাকেন্দ্রের ৫৫টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সরকারী ও বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর ক্যানটিন-সংলগ্ন প্রধান গেটটি বন্ধ রেখে শুধু পকেট গেট খোলা রাখা হয়। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সরু পকেট গেট দিয়ে ঠেলাঠেলি করে বের হতে দেখা গেছে। কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বললেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। কোন ধরনের স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেয়নি। প্রধান গেটটি খোলা থাকলেও বের হওয়ার সময় এতটা গাদাগাদি হতো না।

রাজধানীর বকশীবাজারে বেগম বদরুন্নেসা সরকারী মহিলা কলেজ কেন্দ্রের বাইরেও প্রচন্ড ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অভিভাবকদের। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীদের হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজ করাতে দেখা যায়নি। শুধু তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে শিক্ষকদের হাতে এক বোতল করে স্যানিটাইজার দেয়া ছিল। লম্বা বেঞ্চের দুই প্রান্তে দুজন করে পরীক্ষার্থীকে বসানো হয়েছিল।

পলাশীর উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরেও পরীক্ষা শুরুর আগে-পরে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রচন্ড ভিড় ছিল। চট্টগ্রামের ৭টি ভেন্যুতে পরীক্ষা দিয়েছেন ১০ হাজার ৯০৫ জন। চট্টগ্রাম কলেজ ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ভেন্যুতে গিয়ে দেখা যায়, প্রচন্ড ভিড় করে কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করছেন অভিভাবকরা।

সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়ার জন্য আবেদন করেছেন। এই হিসাবে এ বছর আসনপ্রতি ২৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। ৪৭টি সরকারী মেডিক্যাল কলেজে আসনসংখ্যা ৪ হাজার ৩৫০টি। এ ছাড়া ৭০টি বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজে আসনসংখ্যা ৬ হাজার ৩৪০টি।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য টিম গঠন করা হয়েছে। পরিদর্শক টিম পরীক্ষার দিন কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা গত বছর অনুষ্ঠিত হয়নি। সংক্রমণ কমলে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সময়সূচী জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর। ২১ মার্চ ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে রিট আবেদন করেন রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা তৈমুর খান নামের এক ব্যক্তি। ২৪ মার্চ রিটটি হাইকোর্টে খারিজ করে দেয়া হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

আরও পড়ুন