সুনামগঞ্জ ও সিলেটের সব সড়ক তছনছ

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২১ জুন ২০২২, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ
সুনামগঞ্জ ও সিলেটের সব সড়ক তছনছ

বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১১ হাজার ৬৭০ কিলোমিটার রাস্তা একেবারে তছনছ হয়ে গেছে। অনেক স্থানে রাস্তা কেটে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার লেশমাত্র নেই। পানির তোড়ে ছোট, দুর্বল ও পুরোনো কালভার্ট-ব্রিজ উপড়ে গেছে। যেসব স্থানে পানি কমতে শুরু করেছে, সেখানে পানির নিচ থেকে বেরিয়ে আসছে এবড়োখেবড়ো রাস্তা।
সংশ্নিষ্টরা বলছেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ নেই। ভাঙা রাস্তাঘাটের কারণে সুনামগঞ্জ ও সিলেটের মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি হবে। এসব রাস্তা পুনর্নির্মাণ ও মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করতে ব্যয় হবে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। সময়ও লাগবে বেশ।
সিলেট বিভাগের দায়িত্ব থেকে সম্প্রতি প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত হওয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী গোপাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এলজিইডির রাস্তাগুলো মেরামত করতে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা। আর নতুন করে তৈরি করতে খরচ হয় ৭০ থেকে ৮০ লাখ। কিন্তু বন্যার যে ভয়াবহতার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে অনেক স্থানেই নতুন করে রাস্তা তৈরি করতে হবে।

১৯৯৮ সালে মাদারীপুরে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার চিত্র তুলে ধরে গোপাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ওই বন্যায় মাদারীপুরের প্রায় ৯০ শতাংশ রাস্তা পানির নিচে চলে গিয়েছিল। সেসব রাস্তা অনেকটাই নতুন করে তৈরি করতে হয়েছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জের চিত্রও ঠিক একই রকম হতে পারে।
এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ দুটি জেলার প্রধান সড়ক ছাড়া বাকি সব রাস্তাই এলজিইডির আওতায় তৈরি। সুনামগঞ্জ জেলায় এলজিইডির রাস্তা আছে ৪ হাজার ১৬০ কিলোমিটার। সিলেট জেলায় আছে ৭ হাজার ৫১০ কিলোমিটার। এই ১১ হাজার ৬৭০ কিলোমিটার রাস্তার প্রায় পুরোটাই পানির নিচে তলিয়ে আছে।
এলজিইডি মনে করছে, বন্যায় রাস্তা যে মাত্রায় তছনছ ও কোথাও কোথাও উধাও হয়ে গেছে, তাতে মেরামত ও পুনর্নির্মাণবাবদ প্রতি কিলোমিটারে গড়ে ২৫ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। এ হিসাবে এসব রাস্তা আবার ব্যবহার উপযোগী করতে হলে ২ হাজার ৯১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করতে হবে এলজিইডিকে। যেটা খুব দ্রুতই সম্ভব হবে না।
সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আবদাদ বলেন, সিলেট-সুনামগঞ্জের সড়কগুলোর ভয়াবহ নাজুক অবস্থার খবর পাওয়া যাচ্ছে। দুই জেলারই এলজিইডির কার্যালয় পানির নিচে ডুবে গেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস করতে পারছেন না। তাঁদের ঘর থেকেও বের হওয়ার উপায় নেই। এর মধ্যেও তাঁরা রাস্তাঘাটের খোঁজখবর রাখছেন; মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। পানি বেরিয়ে যাওয়ার জন্য যেসব স্থানে রাস্তা কেটে দেওয়া প্রয়োজন, সেটা দেখভাল করছেন।

এলজিইডির সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, এখানে রাস্তার ক্ষয়ক্ষতির অবস্থা অবর্ণনীয়। এসব রাস্তার কোনো স্থানই অক্ষত থাকবে বলে মনে হয় না। কারণ, এসব রাস্তা বিটুমিনের তৈরি। বিটুমিনের প্রধান শত্রু পানি। তিন দিন পানির নিচে থাকলে বিটুমিন কার্যকরিতা হারায়। বিটুমিন-সুড়কি খুলে যায়। পানির চাপে সেসব আর রাস্তায় থাকে না। কাজেই রাস্তা অক্ষত থাকার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না।

এলজিইডির তিন ধরনের রাস্তার মধ্যে রয়েছে গ্রামের সঙ্গে গ্রামের যোগাযোগের জন্য গ্রামীণ সড়ক। এসব সড়কের মধ্যে কিছু কাঁচা রাস্তাও রয়েছে। ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়নে যাতায়াতের জন্য ইউনিয়ন সড়ক। এগুলো কাঁচা-পাকা সড়ক। এ ছাড়া উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য উপজেলা সড়ক। এসব সড়ক পাকা। কাঁচা সড়কগুলোতে সহসাই কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। পাকা সড়কগুলোর কোথাও কোথাও কেটে দেওয়া হয়েছে। বানের তোড়ে অনেক স্থান ভেঙে গেছে। এগুলোও ব্যবহার উপযোগী করতে সময় লাগবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান বলেন, পানি নেমে যাওয়ার পরপরই তথ্য সংগ্রহ করে বন্যাকবলিত এলাকায় সড়ক সংস্কারের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু হবে।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।