সম্মেলন হলেও অধিকাংশ কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি – U.S. Bangla News




সম্মেলন হলেও অধিকাংশ কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি

ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স:-
আপডেটঃ ২২ জানুয়ারি, ২০২৩ | ৮:৩৯
আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ প্রায় সব জেলা শাখার সম্মেলন শেষেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি বেশির ভাগ কমিটিই। ২১তম জাতীয় সম্মেলনে পর সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা মেয়াদোত্তীর্ণ ৪৫টির মধ্যে অন্তত ৪০টি জেলা সম্মেলন করেছেন। কিন্তু কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়েছে হাতেগোনা কয়েকটির। একই অবস্থা উপজেলা, থানা ও পৌর আওয়ামী লীগেও। ফলে এসব শাখা চলছে মূলত দুই নেতায়। এদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে এবার জাতীয় সম্মেলনে ৪৫ দিনের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছে আওয়ামী লীগ। দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বলছেন, তারা বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন। দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ শেষ হবে। অন্যদিকে ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার ৩৩টির সম্মেলন হয়েছিল ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগে। ২০১৯ সাল বা তার

আগে হওয়া তিন বছর মেয়াদি এসব জেলা শাখাও বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে আমরা প্রায় সব মেয়াদোত্তীর্ণ জেলার সম্মেলন করেছি। যেগুলোর সম্মেলন হয়নি সেগুলোও দ্রুত করব। যাদের সম্মেলন হয়েছে কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি, সেগুলো নিয়েও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাজ করছেন। এগুলোও শিগগিরই হয়ে যাবে। দেশের আট বিভাগে আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। অন্যদিকে সারা দেশে আওয়ামী লীগের উপজেলা, থানা ও পৌর কমিটির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৬০০ মতো। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৭০টি, চট্টগ্রামে ১২৯, রাজশাহীতে ৮২, খুলনায় ৭৪, রংপুরে ৬৬, বরিশালে ৫৩, সিলেটে ৪৯ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৯টির মতো কমিটি

রয়েছে। আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনে দলের গঠনতন্ত্রে নতুন সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধনী হলো-জেলা ও উপজেলায় সভাপতি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ৪৫ দিনের মধ্যে হতে হবে। বেঁধে দেওয়া সময়ে না হলে সুস্পষ্ট কারণ দর্শাতে হবে। যদি তা না হয় তবে ওই কমিটি বাতিল হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২১তম জাতীয় সম্মেলনের পরে আওয়ামী লীগের ৪৫টি জেলা মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা প্রায় ৪০টির মতো জেলার সম্মেলন শেষ করেন। এর পরও মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, বরিশালসহ কিছু জেলার সম্মেলন বাকি আছে। তবে ৭৮ সাংগঠনিক জেলার বাকি ৩৩টি জেলার বেশরি ভাগেরই সম্মেলন হয়েছিল আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগে ২০১৯ সালে। তিন বছর মেয়াদি

এই জেলার কমিটিগুলোর প্রায় সব মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সামনে এই সম্মেলনগুলোও করতে হবে। ঢাকা বিভাগ : ঢাকা বিভাগে আওয়ামী লীগের ১৭টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এর মধ্যে চারটা মহানগর ও বাকি ১৩টা জেলা শাখা। ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর রাজবাড়ী, ২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নরসিংদী, ১৯ মে গাজীপুর জেলা ও মহানগর, ১১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ, ২৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা, ২৯ অক্টোবর ঢাকা জেলা, ৬ নভেম্বর টাঙ্গাইল জেলা, ১ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ জেলা, ১২ মে ফরিদপুর জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়েছে। এছাড়া ২১তম জাতীয় সম্মেনের আগে ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ

আওয়ামী লীগ, ২০১৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ, ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা, ২০১৪ সালের ২১ জুন মুন্সীগঞ্জ জেলা, ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই জেলা কমিটিগুলো বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ। রাজশাহী বিভাগ : রাজশাহী বিভাগে আওয়ামী লীগের আটটি জেলা ও একটি মহানগর রয়েছে। ইতোমধ্যে এর সবগুলোর সম্মেলন শেষ। এই বিভাগে ৮২টি উপজেলার সমমর্যাদার কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ছাড়া বাকি জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গ হয়ে গেছে। বাকি পাবনা ও সিরাজগঞ্জের কমিটির খসড়াও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। শিগগিরই এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন। চট্টগ্রাম বিভাগ :

চট্টগ্রাম বিভাগে আওয়ামী লীগের ১৫টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি জেলা এবং দুটি মহানগর। এই বিভাগে ১২৯ উপজেলা সমমর্যাদার শাখা কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ২১তম জাতীয় সম্মেলন পরে মেয়াদোত্তীর্ণ ১০টির মধ্যে আটটির সম্মেলন হয়েছে। সম্মেলনের পর জেলাগুলোর বেশির ভাগেরই কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এছাড়া ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগে সম্মেলন হওয়া জেলা কমিটিগুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগ : ময়মনসিংহ বিভাগে আওয়ামী লীগের চারটি জেলা এবং একটি মহানগর কমিটি রয়েছে। ২২তম জাতীয় সম্মেলনের আগে সবগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ নভেম্বর জামালপুর, ২৯ নভেম্বর নেত্রকোনা, ৩ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর এবং ৮ ডিসেম্বর শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে। তবে

এখন পর্যন্ত একটি জেলাতেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। ২৬ জানুয়ারি দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সব কেন্দ্রীয় নেতা, সব জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দলীয় সব সংসদ-সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সদর পৌরসভার মেয়রদের এক সভা ডাকা হয়েছে। এই সভায় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। সিলেট বিভাগ : সিলেট বিভাগে আওয়ামী লীগের পাঁচটি সাংগঠনিক জেলা কমিটি রয়েছে। সেগুলো হলো-সিলেট জেলা, সিলেট মহানগর, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। হবিগঞ্জের

সম্মেলন হয় ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর। ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর হয় মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। আর সুনামগঞ্জের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে ২০১৬ সালে। ফলে বর্তমানে সবই মেয়াদোত্তীর্ণ। বরিশাল বিভাগ : বরিশাল বিভাগে আওয়ামী লীগের সাতটি সাংগঠনিক জেলা কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ১১ জুন ভোলা, ১৬ নভেম্বর বরগুনা, ২৭ নভেম্বর পিরোজপুর, জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর পটুয়াখালী, ৮ ডিসেম্বর বরিশাল মহানগর, ১২ ডিসেম্বর ঝালকাঠি জেলা এবং ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই জেলা বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ। অন্যদিকে ২২তম জাতীয় সম্মেলনের আগে হওয়া তিন জেলা কমিটিও এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি।

এই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন জানান, সম্মেলন হওয়া তিন জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের কাজ প্রায় শেষের দিকে। রংপুর বিভাগ : রংপুর বিভাগে আওয়ামী লীগের আটটি জেলা এবং একটি মহানগর রয়েছে। ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগে ছয়টির সম্মেলন হয়েছিল। সেগুলো হলো-রংপুর জেলা, রংপুর মহানগর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলা। আগের বর্তমান কমিটির সময়ে পঞ্চগড়, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই কমিটিগুলো এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এছাড়া আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনের পর গত ১ জানুয়ারি রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে এই বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীকে। তিনি জানান, কমিটি পূর্ণাঙ্গসহ অন্যান্য সার্বিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে। খুলনা বিভাগ : খুলনা বিভাগে আওয়ামী লীগের ১১টি সাংগঠনিক জেলা কমিটি রয়েছে। আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনের আগে সবগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি জেলার কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। বাকি চারটি- মাগুরা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক।
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
তীব্র তাপপ্রবাহ, আরও ৭ দিন স্কুল বন্ধের দাবি চেন্নাইয়ের নির্বিষ বোলিংয়ে বিশাল জয় লখনৌর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ভোট বর্জনে লিফলেট বিতরণ করবে বিএনপি নানা ‘যুক্তি-অজুহাত’ মাঠ ছাড়তে নারাজ এমপি-মন্ত্রীর স্বজনরা পাহাড়ের বুক চিরে অর্ধশত ইটভাটা সুফল নেই সাড়ে তিনশ কোটির ইবিএ প্রকল্পে বিজেপি ২০০ আসনও পাবে না, সমীক্ষা ভুয়া: মমতা কারাগারে কেজরিওয়ালের ‘মিষ্টি খাবার’ নিয়ে প্রশ্ন ইডির, হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পার্টির ভারতে লোকসভা নির্বাচনে প্রথম ধাপে ভোট পড়েছে ৬০ শতাংশ বিপর্যস্ত ব্যাংক খাত, ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়েছে ওমরাহ থেকে ফেরার সময় নির্ধারণ করে দিল সৌদি আরব সিন্ডিকেটের ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী কারণ ছাড়াই বেড়েছে বেশিরভাগ ভোগ্যপণ্যের দাম ইসরাইল-ইরানের দ্বন্দ্বের শুরু কবে থেকে? পরস্পরকে নিয়ে ভুল হিসাব-নিকাশ করেছে ইরান ও ইসরাইল ফ্রান্সে ইরানের কনস্যুলেটে আতঙ্ক, আটক এক ইরানের অস্ত্র সুবিধার কেন্দ্র ইসফাহান পার্কে ডেকে সাবেক প্রেমিকাকে খুন, মুহূর্তেই হত্যার ‘বদলা’ নিলেন মা ‘বজ্রমেঘ’ তৈরি হলেই বৃষ্টির সম্ভাবনা শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্ব বর্তমান বিশ্বে বিরল: পররাষ্ট্রমন্ত্রী