‘সঠিক পদ্ধতি’র খোঁজে বিসিবি সভাপতি

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১২ এপ্রিল ২০২১, ৮:১০ পূর্বাহ্ণ
‘সঠিক পদ্ধতি’র খোঁজে বিসিবি সভাপতি

মাঠে নেমে কী করতে হবে, একসময় সে নির্দেশনা দিয়ে পাঠানো হতো ক্রিকেটারদের। মাঝখানে কিছুদিন তা দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে টেস্ট সিরিজে ভরাডুবির পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসানের তাৎক্ষণিক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় দলে তাঁর হস্তক্ষেপের স্বীকারোক্তিও ছিল। ব্যর্থতায় তাই পুরনো সে রীতি ফিরিয়ে আনেন কি না, ছিল সেই শঙ্কাও। তবে গতকাল কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিউজিল্যান্ডগামী দলের ক্রিকেটারদের সদলবলে করোনার টিকাদানের দিন সেখানে উপস্থিত নাজমুলের বক্তব্যে ‘স্টান্স বদল’-এর ইঙ্গিত।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের সমস্যা সমাধানে ‘সঠিক পদ্ধতি’র খোঁজ দিতে চেয়েছেন এই ক্রিকেট প্রশাসক। সেটি কী? শুনে নেওয়া যাক তাঁর নিজের মুখ থেকেই, ‘‘একটি জিনিস আমি আপনাদের বলতে পারি, সমস্যা কোথায়, এটি যে আমরা কেউ বুঝি না বা জানি না, তা নয়। কিন্তু যে পদ্ধতি দিয়ে যাচ্ছি এখন, আমার মনে হয় সেটিই সঠিক পদ্ধতি। ‘এটা করবা না, ওটা করবা না’—বলার চেয়ে ওদের একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে এনে যা করা হচ্ছে, তা আরো ভালো। আগে তা-ই করতাম, সোজা বলে দিতাম, ‘এটা করো, ওটা করো।’ এখন এটা করি না।’’

দলের সমস্যা সমাধানে ‘সঠিক পদ্ধতি’র খোঁজ দিতে চেয়েছেন এই ক্রিকেট প্রশাসক। সেটি কী? শুনে নেওয়া যাক তাঁর নিজের মুখ থেকেই, ‘‘একটি জিনিস আমি আপনাদের বলতে পারি, সমস্যা কোথায়, এটি যে আমরা কেউ বুঝি না বা জানি না, তা নয়। কিন্তু যে পদ্ধতি দিয়ে যাচ্ছি এখন, আমার মনে হয় সেটিই সঠিক পদ্ধতি। ‘এটা করবা না, ওটা করবা না’—বলার চেয়ে ওদের একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে এনে যা করা হচ্ছে, তা আরো ভালো। আগে তা-ই করতাম, সোজা বলে দিতাম, ‘এটা করো, ওটা করো।’ এখন এটা করি না।’’

এখন বরং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দলের ব্যর্থতায় জড়িয়ে থাকা নানা ঝামেলার জট খোলার চেষ্টাই করছেন বলে দাবি নাজমুলের, ‘আমি আপনাদের কেবল একটি কথাই বলতে পারি। এই সমস্যার সমাধান কোনো কঠিন ব্যাপার নয়। কিন্তু সবাই সমস্যাটায় একমত হলেই সমাধানের জন্য কাজ করা যাবে। জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। এই প্রক্রিয়াটিই হচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে।’

এই সুযোগে বিসিবি সভাপতি এও জানিয়ে রাখতে ভুললেন না যে দলের কৌশল নির্ধারণের ভুল লক্ষ্য করে আসছেন আরো আগে থেকেই, ‘পরিকল্পনা ও কৌশল নিয়ে কিছু ইস্যু আছে। এটি আগে থেকেই মনে করতাম যে প্রতিটি ভুল। প্রথমবার যখন আফগানিস্তানের সঙ্গে হয়েছে, তখন সবাই ধরে নিয়েছিল ওটা একটি দুর্ঘটনা। হঠাৎই হয়ে গেছে। কিন্তু এবার দুটো ম্যাচ খেলার পর সবাই বুঝতে পারছে, দেয়ার ইজ সামথিং রং।’

ভুলের উেস যেতে দফায় দফায় বৈঠকও করছেন তিনি। গত পরশু নিজের বাসায় ডেকেছিলেন বাংলাদেশ দলের পাঁচ সাবেক অধিনায়ককে। যাঁদের মধ্যে তিনজন বিসিবি পরিচালক ও দুজন নির্বাচক। একই দিন রাতে বসেছিলেন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল, টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ ও মুশফিকুর রহিমের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গেও। গত রাতে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের সদস্যদের সঙ্গেও বসার কথা ছিল নাজমুলের।

রাসেল ডমিঙ্গোদেরও একই প্রশ্নপত্র পাওয়ার কথা, যা দেওয়া হয়েছিল তামিমদেরও, ‘যে খেলা দেখেছি আফগানিস্তানের সঙ্গে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টে, এই খেলা বাংলাদেশ দলের খেলা মনে হয় না। কারণ এরাই যখন ওয়ানডে খেলছে, টি-টোয়েন্টি খেলছে, তখন পুরোপুরি আলাদা। তখন ওরা ভালো খেলছে। তাহলে টেস্টে সমস্যা কোথায়? ওদের সঙ্গে বসার পেছনে কারণ ছিল, প্রত্যেকের কাছ থেকে শুনতে চাচ্ছি, সমস্যাটি কোথায় ছিল বলে ওরা মনে করে।’

তাতে সমস্যা চিহ্নিতও নাকি করা গিয়েছে, ‘তবে আমি খুশি যে ওরা যা বলছে এবং আমাদের ধারণা যেটি ছিল যে সমস্যা কোথায়, বেশির ভাগই মিলে যাচ্ছে। ৯০ শতাংশই মিলে যাচ্ছে।’ খালেদ মাহমুদ এখন আর জাতীয় দলের ম্যানেজার নন বলে দল ও বোর্ডের মধ্যে যে ‘কমিউনিকেশন গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে, তাও জোর দিয়ে বলতে শোনা গেছে নাজমুলকে। প্রথম পরিবর্তনের ঝাপটা এই পদের ওপর দিয়ে গেলেও তাই বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।