শ্রীলঙ্কার কাছে সিরিজ হার বাংলাদেশের

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৪ মে ২০২১, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
শ্রীলঙ্কার কাছে সিরিজ হার বাংলাদেশের

প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার আগেই ফলাফলটা বোঝা যাচ্ছিল। শ্রীলঙ্কার দেয়া ৪৩৭ রানের জয়ের লক্ষ্যে চতুর্থদিন শেষে ৫ উইকেটে ১৭৭ রান করা বাংলাদেশ দল যে আরেকটি পরাজয়বরণ করতে চলেছে তা বোঝাই যাচ্ছিল। চরম অনিশ্চয়তায় ভরা ক্রিকেটে নাটকীয় কিছু ঘটেনি। ২০৯ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। মুমিনুল হকদের দ্বিতীয় ইনিংস থেমেছে ২২৭ রানে। পঞ্চম ও শেষদিনে মাত্র দেড় ঘণ্টার মঞ্চায়ন পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, নায়ক প্রাভিন জয়াবিক্রমা। তার ঘূর্ণি দাপটে আর ৫০ রান যোগ করতেই বাকি সব ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরে যান। ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে অভিষেকেই বেশকিছু রেকর্ডের জন্ম দিয়ে জয়াবিক্রমা হয়েছেন ম্যাচসেরা। একই ভেন্যুতে প্রথম টেস্ট ড্রয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে হেরে সিরিজ ১-০ ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। এ ম্যাচে পরাজয়ের পেছনে প্রথম ইনিংস শেষে ২৪২ রানের বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থাকাটাকেই দায়ী করেছেন অধিনায়ক মুমিনুল।

১৪ রানে অপরাজিত লিটন দাস ও ৪ রানে ক্রিজে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে অনেক আশার বীজ বপন করেছেন অনেকে। আশান্বিত হওয়ার কারণ ২০০৮ সালের একটি ইতিহাস। মিরপুরে শ্রীলঙ্কা ৫২১ রানের টার্গেট দিয়েছিল বাংলাদেশকে। পরে মোহাম্মদ আশরাফুল ও সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ইনিংসে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ ১৮০ রানেই ৫ উইকেট হারানোর পর। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ৪১৩ রানে দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। এবার লিটন-মিরাজ সেই লড়াইও করতে পারেননি। পঞ্চমদিনের মাত্র তৃতীয় ওভারেই জয়াবিক্রমার ফাঁদে পড়ে মাঠ ছাড়তে হয় লিটনকে। ব্যক্তিগত ১৭ রানে তিনি বিদায় নেয়ার পর মিরাজ একপ্রান্তে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছেন। তাইজুল ইসলাম ৩০ বল ও তাসকিন আহমেদ ৩৩ বল খেলে তাকে বেশ সঙ্গও দিয়েছেন। তবে এই লড়াইটা তেমন জমেনি। জয়াবিক্রমা ও রমেশ মেন্ডিস ভয়ানক ঘূর্ণিতে যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছেন আর বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের কোণঠাসা করে রেখেছেন তাতে স্পষ্ট হয়েই যায় এমন অসহায় লড়াই বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না। তাইজুল ২ ও তাসকিন ৭ রানে সাজঘরে ফিরে যাওয়ার পর তা সত্য হয়েছে। মিরাজও দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৮৬ বলে ৩৯ রান করে জয়াবিক্রমার শিকার হন। রাহীকেও সাজঘরে ফিরিয়ে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন এ তরুণ এবং দলের ২০৯ রানে জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচে ১৭৮ রানে ১১ উইকেট নিয়ে সেরা খেলোয়াড় হন জয়াবিক্রমা। পঞ্চমদিন মাত্র ৯৫ মিনিট টিকতে পেরেছে বাংলাদেশ দল, রান করেছে মাত্র ৫০। রমেশও ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে নিয়েছেন ১০৩ রানে ৪ উইকেট।

অভিষেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে এর আগে সেরা বোলিং ছিল আকিলা ধনঞ্জয়ার। তিনি ৪৪ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০১৮ সালে। আর বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আলফ্রেড ভ্যালেন্টাইন ১৯৫০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার টেস্টে ২০৪ রানে ১১ উইকেট নিয়ে সেরা ছিলেন। নতুন টেস্ট ইতিহাস গড়েছেন তারচেয়ে ভাল বোলিং বিশ্লেষণ নিয়ে জয়াবিক্রমা। তার কাছেই দুই ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা নাজেহাল হয়েছেন। ফলে ২০৯ রানের পরাজয়ে সিরিজ হারতে হয়েছে ১-০ ব্যবধানে। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এ নিয়ে ৭ ম্যাচের ৬ টিতেই হারল বাংলাদেশ। একমাত্র সাফল্য ছিল এ সিরিজেই পাল্লেকেলেতে হওয়া প্রথম টেস্টে ড্র করা। ভারতের কাছে ২-০, পাকিস্তানের কাছে ১-০ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুমিনুলও সমান পরাজয় দেখেছেন দলের হয়ে। তবে অধিনায়ক হওয়ার পর একটি টেস্ট তিনি জিতেছেন জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে। সেটি চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ ছিল না। এবার নিয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে ৯টি সিরিজ হারল বাংলাদেশ দল। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি মাত্র সিরিজ ড্র করতে পেরেছে বাংলাদেশ। এবারও পরাজয় সঙ্গী হলো।

এমন অভিজ্ঞতার পর মুমিনুল অবশ্য দাবি করেছেন প্রথম ইনিংস শেষেই এ ম্যাচে হেরে গেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার ৭ উইকেটে ৪৯৩ রানের জবাবে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ২৫১ রানে। ২৪২ রানে পিছিয়ে থাকার যে চাপ সেটাই কাটিয়ে ওঠা কঠিন ছিল। সেখানে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে লঙ্কানরা আরও চাপিয়ে দেয় ৯ উইকেটে ১৯৪ রান। এ বিষয়ে ম্যাচ শেষে মুমিনুল বলেন, ‘দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে যখন কেবল আড়াই শ’ রান করলাম আমরা, তখনই ম্যাচ অর্ধেক হেরে গিয়েছিলাম। প্রথম ইনিংসে আমাদের আরও ভাল ব্যাটিং করতে হতো। আমার মনে হয় এই টেস্ট ম্যাচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল টস। দেখুন প্রথম ২ দিনে কিন্তু উইকেটে বোলারদের জন্য কোন সুবিধা ছিল না। আমার মনে হয়েছে এই ম্যাচটার ৫০ শতাংশ ফলাফল টসের সময়ই নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল।’

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।