শেষ সময়ে বাড়তে পারে সড়কে চাপ, বিলম্বের ভয় ট্রেনে – U.S. Bangla News




শেষ সময়ে বাড়তে পারে সড়কে চাপ, বিলম্বের ভয় ট্রেনে

ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স:-
আপডেটঃ ১৩ জুন, ২০২৪ | ৮:০৭
সড়কের অবস্থা ভালো হলেও শেষ সময়ে যাত্রীর ঢলে গত কয়েক বছরের মতো এবারের ঈদযাত্রায়ও ভোগান্তি হতে পারে। শহরমুখী কোরবানির পশুর গাড়ি, মহাসড়কের পাশে হাট এবং সম্ভাব্য বৃষ্টিতে বাড়তে পারে যানজট। ইঞ্জিন ও বগি সংকটে ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয়ে আরও অবনতি হতে পারে। গতকাল বুধবার ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই রাজধানীর কমলাপুর থেকে অধিকাংশ ট্রেন বিলম্বে যাত্রা করেছে। আগামী ১৭ জুন ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ছুটি শুরু হবে আগের দিন রোববার থেকে। তার আগের দুই দিন– শনি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। তবে অধিকাংশ কলকারখানা বন্ধ হবে শনিবার অফিস শেষে। সেদিন বিকেল থেকে পরদিন পর্যন্ত যাত্রীর ঢলে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক

বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, একসঙ্গে লাখ লাখ মানুষ সড়কে নামলে, কোন দেশে যানজট হবে না? তিনি বলেন, রোজার ঈদের মতোই আসন্ন ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে। সমস্যাগুলো আমলে নিয়ে সমাধানে কাজ হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) তথ্যানুযায়ী, মহাসড়কের ১৫৫ স্থান যানজটপ্রবণ। মহাসড়ক ও আশপাশে ২১৭টি স্থায়ী-অস্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এতে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তবে এবারও কোরবানি পশুর হাট মহাসড়ক থেকে দূরে রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। যাত্রীর ঢল এড়াতেও রয়েছে শিল্প-কারখানা ধাপে ধাপে ছুটির সুপারিশ। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হাদীউজ্জামান বলেছেন, প্রতিবছরই এসব নির্দেশনা থাকে। কিন্তু

কার্যকরের অভাবে দূর হয় না ভোগান্তি। সড়কে পুরোনো কারণেই শঙ্কা হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শাহাবুদ্দিন খান বলেছেন, রোজার চেয়ে কোরবানির ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করা কঠিন। ঈদুল ফিতরে ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় গাড়ি যায়। কিন্তু ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুবাহী গাড়ি শহরে আসে। আবার মহাসড়কের আশপাশে পশুর হাট ও হাটের গাড়ি রাস্তায় রাখায় যানজট বাড়ে। তিনি বলেন, যতদিন একসঙ্গে কলকারখানা ছুটি হয়ে যাত্রীর ঢল নামবে, ততদিন ভোগান্তি থাকবে। একই দিনে গাজীপুরের টঙ্গী, চন্দ্রা, ঢাকার সাভার, আশুলিয়ার সব প্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি দেওয়া হলে কিছুই করার থাকে না। তার পরও পুলিশ স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। গত ৮ এপ্রিল কাজ শেষে কলকারখানায় শুরু হয় ঈদুল ফিতরের ছুটি।

ওই দিন বিকেল থেকে টঙ্গী, চন্দ্রা এলাকায় ছিল তীব্র যানজট। উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। গত ৩০ মে ঈদ প্রস্তুতি সভায় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঈদযাত্রায় মহাসড়কে যানজটে এক দিনের কষ্ট মেনে নিতে বলেছেন। প্রবেশপথ ও বৃষ্টিতে ভয় চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার মহাসড়ক আগেই চার লেন হয়েছে। এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেনের কাজও প্রায় শেষ। এসব সড়কে যানজটের শঙ্কা কম। কাঁচপুরের পর চট্টগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কের অবস্থা ভালো এবং গত কয়েক বছর হয়নি যানজট। তবে মহাসড়ক উন্নয়নের সুফল মিলছে না ঢাকার প্রবেশপথে বিশৃঙ্খলার কারণে। দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ করা পদ্মা সেতু এবং ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে নামে পরিচিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু

শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কে যাওয়ার বিকল্প পথ না থাকায় এবারও রাজধানী ছাড়তে যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদে যানজটে পড়তে হবে। অপর প্রবেশপথ গাবতলীতে সড়কের পাশে বসে কোরবানির পশুর হাট। এখানে আসা পশুর গাড়ি সেতু থেকে ঢাকা ঢুকে ডানে মোড় নেয়। এ কারণে ঢাকা থেকে সাভারমুখী গাড়ি দীর্ঘ সিগন্যালে আটকা পড়ে। এখানে এবারও রয়েছে যানজটের শঙ্কা। ঢাকার আরেক প্রবেশপথ উত্তরার আবদুল্লাহপুরে ফ্লাইওভার থাকলেও নেমে যানজটে পড়তে হয় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী অংশে ব্যাটারি রিকশা থেকে শুরু করে বারোয়ারি যান চলায়। এসব গাড়ি সড়কে জটলা তৈরি করে। মহাসড়কের পাশে টঙ্গীর হাটেও আটকে যায় গাড়ির গতি। এ ছাড়া আগামীকাল শুক্রবার থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পরদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। বৃষ্টি

বাড়লে মহাসড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়; যানবাহনের গতি কমে দেখা দেয় যানজট। শঙ্কার কারণ সেতুও ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক দিয়ে সিরাজগঞ্জ হয়ে উত্তর-দক্ষিণের ২২ জেলার যান চলাচল করায় সারাবছরই চাপ থাকে। বঙ্গবন্ধু সেতু রক্ষণাবেক্ষণ দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার যান সেতু পারপার হয়, যা ঈদে বেড়ে ৫০ হাজারে দাঁড়ায়। পশুবাহী গাড়ির চাপ ও সেতুতে যান বিকলে গত বছর ঈদুল আজহার আগের চার দিনে সেতুতে ৫৭ বার টোল আদায় বন্ধ ছিল। সব মিলিয়ে ১৬ ঘণ্টার বেশি টোল আদায় বন্ধে গাড়ি প্রবেশ বন্ধ ছিল, যা মোট সময়ের ১৮ শতাংশ। এতে দীর্ঘ যানজট হয়েছিল উত্তরবঙ্গের পথে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু টোল প্লাজা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত

প্রায় ১৪ কিলোমিটার যানবাহন ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। তবে বিকেল থেকে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তিন সেতুর টোল প্লাজায়ও গাড়ির দীর্ঘ সারির কারণে গত কয়েক বছরের মতো এবারও যানজটের শঙ্কা রয়েছে। ভোগান্তির ভয় রেলেও ইঞ্জিন ও বগি সংকট এবং দুর্বল রেলপথের কারণে স্বাভাবিক শিডিউল মেনে ট্রেন চালাতে পারছে না রেলওয়ে। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাগামী ট্রেনে বিলম্ব হচ্ছে দুই-তিন ঘণ্টাও। রেল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিকল্প রেক (ট্রেনের বগির সমন্বয়) না থাকায় একটি ট্রেন বিলম্ব করলে, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন না আসা পর্যন্ত সঠিক সময়ে ফেরানো যাচ্ছে না। ঈদযাত্রায় ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে না। তবে ইঞ্জিন ও বগি সংকটে এবার পশ্চিমাঞ্চলের চারটি

মিটারগেজ ট্রেনে সাপ্তাহিক বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল ঈদযাত্রার প্রথম ট্রেন রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট বিলম্বে কমলাপুর ছাড়ে। দ্বিতীয় ট্রেন কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ৩৫ ও তৃতীয় ট্রেন সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ২ ঘণ্টা বিলম্বে কমলাপুর থেকে যাত্রা করে। রংপুর এক্সপ্রেস ৪০ মিনিট ও দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল এক ঘণ্টা বিলম্বে যাত্রা করে। জামালপুর এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরও প্ল্যাটফর্ম পায়নি। ফলে স্টেশনে হাজার হাজার যাত্রীর ভিড় জমে। গরমে ভোগান্তি পোহান তারা। আরও খারাপ অবস্থা মেইল এবং কমিউটার ট্রেনের। মোহনগঞ্জগামী মহুয়া কমিউটার সকাল সোয়া ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও, ১০টার দিকে প্ল্যাটফর্মে ছিল। ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার বলেন, ঢাকায় ফিরতে বিলম্ব

হওয়ায় ট্রেনগুলো দেরিতে যাত্রা করছে। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, একটিও বিকল্প ইঞ্জিন নেই। গত কয়েক বছরে আটটি বিকল হয়েছে দুর্ঘটনা ও সফটওয়্যারজনিত জটিলতায়। বিকল্প বগিও নেই। ফলে কোনো ট্রেন ফিরতে দেরি করলে, যাত্রা করতে হচ্ছে বিলম্বে। আগামী কয়েক দিনে যাত্রীর চাপ, সিগন্যাল, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে কোনো ট্রেন বিলম্ব করলে, ঈদযাত্রায় শিডিউল তছনছ হতে পারে। রেলের হিসাবে, যাত্রীবাহী বগি আছে ১ হাজার ৯৮০টি। গত ১৩ মে চলাচলের উপযোগী ছিল ১ হাজার ৫৯৮টি। ৭৪টি রেক দিয়ে সারাদেশে ৩২০টি যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হয়। রেলের ৩০৩ ইঞ্জিনের সচল ২৩৫টি। গত ১৫ বছরে ১০৯ ইঞ্জিন কেনা হলেও ১৮০টি মেয়াদোত্তীর্ণ। রেল মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী বলেছেন, ইঞ্জিন ও বগির সংকট মাথায় রেখে ঈদযাত্রার পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। গত সোমবার রাতে জয়দেবপুরে সিগন্যালের দুটি মোটর চুরি হয়েছে। এ কারণে জয়দেবপুর জংশনের স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল কাজ করছে না। কোনো কোনো ট্রেনে বিলম্ব হলেও ঈদযাত্রায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
কোটা আন্দোলনে রেসিডেন্সিয়াল কলেজ শিক্ষার্থী ফারহান নিহত বাইডেনকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ শুমার, পেলোসির সংঘাত ও সহিংসতা কাম্য নয়: চীনা রাষ্ট্রদূত শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক, আলোচনায় সমাধান মিলবে: আরেফিন সিদ্দিক স্বামী অন্য নারীর সঙ্গী, বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন দুবাইয়ের রাজকুমারী এবার কোটা আন্দোলন নিয়ে সরব মেহজাবীন, যা বললেন মাদারীপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে লেকের পানিতে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু ২১, ২৩ ও ২৫ জুলাইয়ের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পাশে দাঁড়ালেন কলকাতার নায়িকা সোহেল-নিরব-টুকুসহ বিএনপির ৫০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা ছাত্র আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জামায়াতের বিএনপির কার্যালয়ে ফের ঝুলছে তালা, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ আন্দোলনত শিক্ষার্থীরা মুক্তির সন্তান, স্বপ্নের বিপ্লব গড়ে তুলছে: রিজভী শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে আজ মাঠে নেমেছে বিএনপি-জামায়াত: কাদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ নিয়ে যা বললেন ওবায়দুল কাদের যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকের বাংলাদেশ গমন : ডা:মাসুদ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজ সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ দুবাইয়ের রাজকন্যা হয়েও যে কারণে স্বামীকে তালাক দিলেন শেখা মাহরা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বেআইনি শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে হানিফ ফ্লাইওভারে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত