শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার টাকা অনুদানের গুজব!

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৭ মার্চ ২০২১, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার টাকা অনুদানের গুজব!

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান দেয়া হবে-দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এমন গুজবে উদ্বিঘœ শিক্ষা মন্ত্রনালয় শতর্কতা জারি করেছে।

জানা গেছে, করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার টাকা সরকারি অনুদান দেয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং ইউটিউবে এমন ভুয়া তথ্য প্রচার করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই গুজবে বিশ্বাস করে গত শনিবার দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জড়ো হন। ফটোকপি ও অনলাইন সার্ভিসের দোকানগুলোতেও ভিড় লেগে যাওয়ার খবর আসে বিভিন্ন মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রত্যয়নপত্র নিতে দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় আসেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। রাজধানীতেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন চিত্র দেখা গেছে।

তবে বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নজরে আসার পরই রবিবার গুজবের বিষয়ে প্রতারণা এড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সতর্কতা জারি করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের সাক্ষরিতহ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদান প্রদানের সংশোধিত নীতিমালা ২০২০ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইনে (www.shed.gov.bd) আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। আজকে (রবিবার) আবেদনের শেষ দিন।

তবে কর্তৃপক্ষ আবেদনের সময় বাড়ানোর বিষয়ে চিন্তা করছে। আবেদন যাচাই-বাছাই করে সীমিত সংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনুদানে দেয়া হবে। এই বিষয়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

এর আগে বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ফজলুর রহমান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি সর্তকতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছিলো, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে সরকারের দেয়া বিশেষ অনুদান প্রদানের নামে অনলাইনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারক চক্র ভিন্ন ভিন্ন মোবাইল ফোন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র, বিকাশ নম্বর ও গোপন পিন ইত্যাদি চাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পরিচয় দিয়ে ফোনগুলো করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আরো বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ অনুদান বিষয়ে কাউকে ফোন দেয়া হয়নি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র, বিকাশ নম্বর ও গোপন পিন সংক্রান্ত কোনো তথ্যও চাওয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদান প্রদানের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে সেখানে টাকার পরিমাণ উল্লেখ ছিল না। তাছাড়া নীতিমালা ও শর্ত অনুসারে সবাই আবেদনের যোগ্যও না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়েছে সবাইকে অনুদান দেয়া হবে ১০ হাজার টাকা করে। সেই গুজবের রেশ ধরে শনিবার গাইবান্ধা সরকারি জাতীয় কলেজে প্রত্যয়নপত্র নিতে ভিড় করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী।

বৃত্তি পাচ্ছেন এইচএসসি পাস সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থী:

২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ জন্য দেশের সব শিক্ষা বোর্ড থেকে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। রবিবার উপ-পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম চৌধুরী সাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রাজস্ব খাতভুক্ত মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তির কোটা বণ্টনের জন্য ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার উত্তীর্ণ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের তথ্যাদি নমুনা ছক অনুসারে পাঠাতে বলা হয়েছে। এ তথ্য আগামী ১১ মার্চের মধ্যে সফট কপি ই-মেইলে এবং হার্ড কপি মাউশির মহাপরিচালক বরাবর পাঠাতে বলা হয়েছে।

মাউশির উপ-পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের রাজস্বখাত থেকে বৃত্তি প্রদান করা হবে। এ জন্য আমরা সব শিক্ষা বোর্ডে যোগ্য ও নিয়মিত শিক্ষার্থীদের তালিকা পাঠাতে বলেছি। সেখান থেকে ১০ হাজার ৫০০ জনকে নির্বাচন করা হবে। তার মধ্যে মেধা কোটায় এক হাজার ১২৫ জন ও সাধারণ কোটায় নয় হাজার ৩৭৫ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হবে। এ সংখ্যা ১০টি শিক্ষা বোর্ডে ভাগ করে দেয়া হবে। তারা যোগ্যদের মধ্যে এ বৃত্তি বণ্টন করবে।

তিনি আরো বলেন, এইচএসসি পর্যায়ে মেধা কোটায় মাসিক ৮২৫ টাকা, তার সঙ্গে এককালীন এক হাজার ৮০০ টাকা এবং সাধারণ কোটায় মাসিক ৩৭৫ টাকা ও এককালীন ৭৫০ টাকা করে প্রদান করা হবে। শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হলে সেই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হবে। তারপর এ অর্থ প্রদান করা হবে। বৃত্তি প্রদানে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ-৫ ধারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

আরও পড়ুন