লকডাউনের প্রথম দিনে নিত্যপণ্যের বেচাবিক্রি বেড়েছে

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৫ এপ্রিল ২০২১, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
লকডাউনের প্রথম দিনে নিত্যপণ্যের বেচাবিক্রি বেড়েছে

ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় লকডাউনের প্রথম দিনে কাঁচা বাজারগুলোতে আগের চেয়ে নিত্যপণ্যের বেচাবিক্রি বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকাল ৮ টায় নগরীর কাঁচাবাজারগুলো চালু হয়ে বেলা ৪ টা পর্যন্ত চলে বিকিকিনি। তবে গত দুদিনের মতো সোমবারও ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ, সবজি ও মাছ-মাংসসহ অতিপ্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য কিনতে ভোক্তারা ভিড় করেন বাজারগুলোতে। পেঁয়াজ ও সবজির দাম কিছুটা বাড়লেও বেশিরভাগ ভোগ্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে পণ্য সরবরাহ পরিস্থিতি ভাল।

এছাড়া ভোজ্যতেলের দাম কমাতে আমদানিতে কর ছাড় চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, দেশে নিত্যপণ্যের কোন সঙ্কট নেই। রোজা সামনে রেখে আমদানি ও মজুদ পরিস্থিতি অনেক ভাল। তবে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে গেছে। কর ছাড়ে ভোজ্যতেলের দাম কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

সোমবার রাজধানীর কাওরান বাজার, ফকিরাপুল বাজার, যাত্রাবাড়ী বাজার, মুগদাবড় বাজার, খিলগাঁও সিটি কর্পোরেশন মার্কেট এবং গোঁড়ান বাজার ঘুরে দেখা যায় কাঁচা বাজারে সব ধররের পণ্যসামগ্রীর বেচাবিক্রি বেড়েছে। এর পাশাপাশি

সরকারী বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। সুপারশপগুলোতেও চলেছে বেচাকেনা। ক্রেতারা কাঁচা বাজারের পাশাপাশি টিসিবি থেকেও চাহিদা মতো পণ্যসামগ্রী কিনেছেন।

তবে লকডাউনের মধ্যেও অনেকে স্বাস্থবিধি মানছে না। মুখে মাস্ক ছাড়া বাজারে ঢুকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতা। আবার অনেক বিক্রেতা মাস্ক ব্যবহার করছে না। স্যানিটাইজারের ব্যবহার নেই বললেই চলে। ফার্মেসিগুলো যথারীতি চালু ছিল এবং ওষুধ বেচাবিক্রিও ভাল হয়েছে।

খাবারের হোটেলগুলোতে বসে খাবার গ্রহণের বিষয়টির উপর বিধিনিষেধ থাকলেও অনেকে রেস্তোরাঁয় বসে খাবার খেয়েছে। যদিও হোটেলগুলোর সামনে সাদা কাগজে লিখে রাখা হয়েছে শুধু পার্সেল অর্ডার নেয়া হয়। বাজারের পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল।

তবে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ায় অনেক অসাধু ব্যবসায়ী এর সুযোগ নিয়েছেন। সবজি, পেঁয়াজ, লেবু, ভোজ্যতেল, মাছ-মাংসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। ফকিরাপুল বাজার থেকে নিত্যপণ্য কেনাকাটা করছিলেন এজিবি কলোনীর বাসিন্দা আব্দুর রহমান। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, খুব সকাল সকাল বাজার করতে এসে দেখছি কোন পণ্যের সঙ্কট নেই।

তবে সবজি, পেঁয়াজসহ দু’একটি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ-মাংস ও মুরগি। তবে অন্যান্য পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মুদিপণ্যের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহে কোন ঘাটতি দেখা যায়নি। এ কারণে ভোক্তারা আগের দামেই বেশিরভাগ ভোগ্যপণ্য কিনতে পারছেন। খিলগাঁও গোড়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. মোস্তাফিজুর রহমান টিটু বলেন, বেলা ৪ টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হবে। তবে লকডাউন সামনে রেখে দোকানে আগেভাগে সব ধরনের পণ্য এনে রাখা হয়েছিল। এছাড়া পাইকারি মার্কেট চালু আছে। এতে করে কোন পণ্যের সঙ্কট তৈরি হয়নি।

জানা গেছে, আগের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ-মাংস। রাজধানীর কারওয়ান বাজাওে সোমবার সকালে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হয় ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায়। ডিম পাড়া লাল ও সাদা লেয়ার মুরগি ২০০ থেকে ২৩০ টাকা এবং দেশি মুরগির প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়। বেশ কিছু দিন ধরেই নাগালের বাইরে সব মুরগি দাম। সরকারের লকডাউনের ঘোষণা আসার পর তা আরও চড়া হয়েছে। গত দুই দিনে

দাম কিছুটা কমলেও স্থিতিশীল নেই।

কোনো দোকানে বেশি দাম, আবার কোনোটায় সহনীয়। একই অবস্থা মাছের বাজারেও। কারওয়ান বাজার মসজিদের উল্টো দিকের দোকানের মুরগি ব্যবসায়ী রাশেদ বলেন, দোকানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা এবং সোনালি মুরগির কেজি ৩১০ টাকা। তবে তার পাশের দোকনেই ব্রয়ালার মুরগি ১৫০ টাকা এবং সোনালি ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভোজ্যতেল নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে আলোচনা ॥ ভোজ্যতেলের দাম কমানোর বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে আলোচনা করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, মন্ত্রিসভায় অনির্ধারিত আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির উপস্থিতিতে রোজার সময় দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মজুত পর্যাপ্ত থাকলেও তেলের দাম নিয়ে চিন্তিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

রোজার মধ্যে ভোজ্য তেলের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে রাখতে আমদানিতে কর ছাড় চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর বিবেচনা করবে।

তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় অনির্ধারিত আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির উপস্থিতিতে রোজার সময় দ্রব্যমূল্যে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মজুত পর্যাপ্ত থাকলেও তেলের দাম নিয়ে চিন্তিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সচিব বলেন, ‘উনাদের (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের) পুরো প্রস্তুতি আছে, সবকিছুই আছে। তেলের দামটা ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে বেশি দেখে উনারা একটা প্রস্তাব করেছেন যে ট্যাক্সটা যদি একটু কমানো যায়, তাহলে তারা মার্কেটে কম দামে দিতে পারবে।’ উল্লেখ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে ভোজ্যতেলের উপর আরোপিত ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব দিলেও তা কার্যকর করা হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।