রাষ্ট্রীয় স্থায়িত্ব ও রাষ্ট্রের প্রতি সেনাবাহিনীর আনুগত্য: ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা – ইউ এস বাংলা নিউজ




আফফান উর রহমান হাবীব
আপডেটঃ ৩০ জুলাই, ২০২৬

রাষ্ট্রীয় স্থায়িত্ব ও রাষ্ট্রের প্রতি সেনাবাহিনীর আনুগত্য: ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

আফফান উর রহমান হাবীব
আপডেটঃ ৩০ জুলাই, ২০২৬ |
রাজনীতিতে ক্ষমতার রদবদল বা সরকার পতনের মতো ঘটনা ঘটাতে চাইলে শুধু রাজপথের আন্দোলনই যথেষ্ট নয়—তার পেছনে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা এবং সংবিধানের প্রতি তাদের আনুগত্য কতটুকু, সেটাই আসল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। সম্প্রতি ভারতের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের অনেকেই অনেক রকম সমীকরণ মিলিয়েছিলেন, সরকার পতনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আবেগ আর মাঠের রাজনীতি এক জিনিস, আর একটি রাষ্ট্রের ভিত বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। ভারতে চাইলেই হুট করে কোনো অসাংবিধানিক উপায়ে সরকার পতন ঘটানো যায় না। এর মূল কারণ দেশটির সেনাবাহিনী। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে সে দেশের সেনাবাহিনী পুরোপুরি পেশাদার,

দেশপ্রেমিক এবং সংবিধানের প্রতি শতভাগ অনুগত থেকেছে। কোনো রাজনৈতিক চক্রান্ত বা বিদেশি প্রভুদের ক্রীড়নক হিসেবে তারা কখনোই ব্যবহৃত হয়নি। এ কথাটি আন্দোলনের শুরুতে যখন অনেকে অনুধাবন করতে পারেননি বা মানতে চাননি, তখন হয়তো আবেগবশত সমালোচনা গালিগালাজ পর্যন্ত গড়িয়েছে। কিন্তু দিনশেষে বাস্তবতা বদলায়নি; আন্দোলন থমকে গেছে ঠিকই, কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিজের জায়গায় অটল রয়েছে। সেনাবাহিনীর অরাজনৈতিক অবস্থান এবং পেশাদারিত্ব কীভাবে একটি দেশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরাশক্তি ও স্থিতিশীল করে তোলে, তা বুঝতে হলে ১৯৪৭ সালের একই সময়ে স্বাধীন হওয়া উপমহাদেশের অন্যান্য দেশগুলোর দিকে তাকানো যাক। স্বাধীনতার পর থেকেই পাকিস্তানে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ এক নিয়মিত ব্যাধিতে পরিণত হয়। দেশের ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি চলে যায় ব্যারাকে। ফলাফল? গত

পৌনে এক শতাব্দীতে পাকিস্তানের কোনো নির্বাচিত সরকারই তাদের পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেশটিকে ক্রমাগত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ধসে পড়ার দিকে ঠেলে দিয়েছে। একই চিত্র আমরা দেখেছি বাংলাদেশের ইতিহাসেও। স্বাধীনতার পর থেকে একাধিকবার রাজনীতিতে সেনা-হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য। এর পরবর্তী কয়েক মাসে বহু বীর মুক্তিযোদ্ধা সেনাকর্মকর্তাকে জীবন দিতে হয়। দেশে জারি হয় সামরিক শাসন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও সেনাসদস্যদের হাতেই প্রাণ হারান এবং দেশে একটানা দীর্ঘ এক দশক সামরিক শাসন চলে। ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র ফিরে এলেও ২০০৬ সালের প্রেক্ষাপটে সেনাসমর্থিত ‘ওয়ান-ইলেভেন’

সরকার আসে। এমনকি ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহেও সামরিক বাহিনীর ভূমিকা এবং ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশই চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করে দিয়েছে—যেখানে দেশের সংবিধান এবং শপথের তোয়াক্কা না করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ঠিক বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে ভারত। স্বাধীনতা-পরবর্তী ৭৫ বছরেরও বেশি সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী একবারের জন্যও তাদের দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেনি। জরুরি অবস্থা থেকে শুরু করে বহু সামাজিক-রাজনৈতিক সংকট পার হলেও সেনাপ্রধানরা সবসময় বেসামরিক শাসন ব্যবস্থার অধীনেই কাজ করেছেন। রাজনীতিবিদরা ভুল করতে পারেন, সরকার বদলাতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র এবং সংবিধানের সুরক্ষা নিশ্চিত করাটাই যে সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব—এই বিশ্বাস ভারতীয় সেনাবাহিনী রক্ষা করে চলেছে। একটি দেশের স্থিতিশীলতা কোনো অলৌকিক ঘটনায় আসে না, আসে প্রতিষ্ঠানের

শক্তির ওপর ভিত্তি করে। ভারতের মতো বিশাল ও বৈচিত্র্যময় দেশ যে গণতান্ত্রিক কাঠামো ধরে রাখতে পেরেছে, তার অন্যতম স্তম্ভই হলো সেনাবাহিনীর রাজনীতিবিমুখতা। যারা ক্ষমতার পরিবর্তন বা আন্দোলনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব বুঝতে চান, তাদের ভূ-রাজনীতি এবং দেশের সামরিক বাহিনীর ঐতিহাসিক কাঠামোর এই বাস্তব সত্যটি অনুধাবন করতেই হবে। কারণ, প্রাতিষ্ঠানিক পেশাদারিত্বের যে শক্ত দেয়াল ভারত গড়ে তুলেছে, তা রাজনৈতিক উত্তেজনার হাওয়ায় ভেঙে ফেলা সম্ভব নয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিটিভির মহাপরিচালক হলেন কাজী জেসিন, ছাড়তে হবে অন্য পেশা ভারত থেকে মরিচ আমদানির পরে ৫০০ টাকার কেজি নামলো একশ’তে কেন শেখ হাসিনা মামলা আইনিভাবে ভঙ্গুর এবং তাঁর প্রত্যাবর্তনে কি কি সম্ভাব্য আইনি এভিনিউ খোলা আছে? “নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি সত্ত্বেও অনড় অবস্থান” – সিএনএন ও এপি রয়টার্স এক্সক্লুসিভ: শেখ হাসিনার মিত্র বাংলাদেশি ক্রিকেট তারকা সাকিব বলেছেন তিনি নিরাপত্তা পেলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসায় আগুন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ডিপ্লোমেটিক বিভাগের ডিসি-কে সদরদপ্তরে স্থানান্তর প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে বিএনপি-জামাতপন্থীদের যশোর প্রেসক্লাব দখল, নির্বাচিত কমিটিকে ‘মবের মাধ্যমে’ উচ্ছেদ ঋণ নিচ্ছেন না উদ্যোক্তারা, ব্যাংকেও নেই টাকা, তাহলে আমানতের এতো টাকা গেল কোথায়? ফের পিছিয়ে গেল রূপপুরের উৎপাদনের যাত্রা: আগস্টে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে না পরমাণু বিদ্যুৎ বিনা আমন্ত্রণেই বিদেশে যাবার পথে দিল্লি থেকে ঘুরে যেতে চেয়েছিলেন ড. ইউনূস ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি পেল বাংলাদেশ, উল্টো সর্বোচ্চ ঋণ পরিশোধের চাপ উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল পৌনে ৩ কোটি টাকার সড়ক, বাঁশ-বালুর বস্তায় ঠেকা! আওয়ামী লীগ আমাদের শত্রু নয়, মিত্র, আমরা একসঙ্গে যুদ্ধ করেছি: এমপি নাছির চৌধুরী ‘আপনারা দেখেননি, আমরা কীভাবে থানা জ্বালিয়ে পিটিয়ে পুলিশ মেরেছি’: প্রকাশ্যে এনসিপি নেতার স্বীকারোক্তি রিয়ালের সঙ্গে আরও ছয় বছরের চুক্তি বাড়ালেন ভিনিসিউস প্রকল্প ব্যয় ১৬৫ কোটি থেকে ঠেকলো ৩২৬ কোটিতে, ২০০ কোটির অপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়ের তোড়জোড় ইআবা নেতা ফয়জুল করিম: ‘জুলাইতে রাজপথে ছিলাম আমরা, বিএনপি-জামায়াত ছিল না’ নাশকতা সন্দেহ: বাসভবনে আগুন, পাকিস্তানি হাইকমিশনার সস্ত্রীক আইসিইউতে ‘শেখ হাসিনা থেকে ১০ লাখ টাকা পাওয়া’ আহসান জুলাই যোদ্ধা নন- দাবি বিএনপি নেতার, জামায়াত নেতার ভাষ্য, ‘সারজিসও ছাত্রলীগ করত’ রিয়াল মাদ্রিদ নাকি বার্সেলোনা: কোথায় যাবেন রদ্রি?