যুক্তরাষ্ট্র জাসদের উদ্যোগে কর্নেল তাহের হত্যা দিবস পালন

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৬ জুলাই ২০২২, ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র জাসদের  উদ্যোগে কর্নেল তাহের হত্যা দিবস পালন


যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের উদ্যোগে নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন পার্টি হলে কর্নেল তাহের হত্যা দিবস পালন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায অনুষ্ঠিত।
যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সভাপতি দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী সভাপতিত্বে এবং যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম জিকুর পরিচলনায় সভায সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিদ চৌধুরী ও লোকমান হেকিম।
সভায বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সিনিয়ার সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম,সহ সভাপতি শাহনুর কোরাশী,সৈয়দ মোশাররফ হোসেন সাহান,যুগ্ন সাধারন সম্পাদক শাহ মহিউদ্দীন সবুজ, শওকত ওসমান লস্কর, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির গিয়াস মজুমদার,ডক্টর রফিক আহমেদ প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘কর্নেল তাহেরকে বিচারের নামে প্রহসন য করে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে সে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সকলের বিচার করতে হবে। এবং কর্নেল তাহেরের নামে যে কোনো একটি বিশ^বিদ্যালয় কলেজ বা রাস্তা অথাৎ যে কোনো একটি সরকারি স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে।’

কর্ণেল তাহেরের পুরো নাম আবু তাহের। ১৯৭৬ সালের সামরিক সরকার এ দিন ভোর চারটায় তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে তারই প্রিয় স্বাধীন স্বদেশে।

কর্নেল তাহের ১৯৩৮ সালের ১৪ নভেম্বর আসামের বদরপুরে নানার বাসায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম ফতেহাবাদ স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন।

১৯৫৭ সালে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ১৯৫৯ সালে একই কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন। ১৯৬০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন।
১৯৬০ সালে তাহের পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কর্নেল তাহের ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে কাশ্মীর ও শিয়ালকোট সেক্টরে অংশগ্রহণ করেন। এ যুদ্ধে বীরত্বের জন্য খেতাব প্রাপ্ত হন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যার প্রতিবাদে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ত্যাগ করেন।

২৫ জুলাই মেজর জিয়াউদ্দিন, মেজর মঞ্জুর, ক্যাপ্টেন পাটোয়ারি এবং মঞ্জুরের পরিবার সদস্যদের নিয়ে ভারতের সীমান্ত ঘাঁটি দেবীগড় পৌঁছান। এখান থেকে তিনি ২৭ জুলাই দিল্লী পৌঁছান। এরপর আগস্টের প্রথম সপ্তাহে মুজিবনগরে যান। সেনাপ্রধান কর্তৃক নিয়োজিত হয়ে বিভিন্ন সেক্টরের যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি তার মতামত প্রদান করেন। ১১ নম্বর সেক্টর গঠন করে কর্নেল তাহেরকে সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে তিনি অসংখ্য যুদ্ধ পরিচালনা করেন। কর্নেল তাহের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত হন।

১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর নিজের জন্মদিনে কামালপুর সম্মুখ যুদ্ধে তিনি আহত হন। বাম পা হাঁটুর উপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। ভারতে চিকিৎসা শেষে ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল নিয়োগ করা হয়। ১৯৭২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তিনি সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করেন। এছরের অক্টোবর মাসে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। বছরের শেষ দিকে কর্নেল তাহের জাসদে যোগ দেন।

১৯৭৫ সালের ২৩ নভেম্বর কর্নেল তাহেরকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক অবস্থায় কারাগারের অভ্যন্তরে তাহেরসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচার হয়। বিচারে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের এই নায়ককে।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।