মালচিং পদ্ধতিতে অসময়ে তরমুজ

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২ আগস্ট ২০২২, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
মালচিং পদ্ধতিতে অসময়ে তরমুজ

পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে অসময়ে তরমুজ উৎপাদনে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন উপকূলের কৃষকরা। সাধারণ পদ্ধতিতে বছরে একবার ফলন হলেও পরিবেশবান্ধব এ পদ্ধতিতে বছরজুড়েই চাষ করা যায় রসালো ফলটি।

অসময়ে চাষ হওয়ায় অধিক লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা আর বাজারে চাহিদাও বেশি। পদ্ম সেতু চালু হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে কৃষকের। ফলে দিন দিন মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে আগ্রহ বাড়ছে উপকূলীয় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার কৃষকদের।

চলতি মৌসুমে উপজেলার ৪ হেক্টর জমিতে হলুদ রংয়ের বারি-২ আর লাল রংয়ের গ্রীষ্মকালীন তরমুজের চাষাবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে ১৮ থেকে ২০ টন ফলন হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে মালচিং পদ্ধতিতে অসময়ের চাষে ভালো ফলন পেয়ে খুশি তরমুজচাষিরা।

মালচিং মেথড ভারত ও ইসরাইলে খুবই জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। প্রচলিত পদ্ধতিতে তরমুজের বীজ সরাসরি জমিতে লাগানো হয়। কিন্তু মালচিং মেথড অনুযায়ী মালচিং পেপারে মুড়িয়ে অঙ্কুরিত বীজ জমিতে রোপণ করা হয়।

এ পদ্ধতিতে প্রথমে মালচিং পলিথিন দিয়ে একটি বীজতলা নির্মাণ করা হয়। এরপর তরমুজের বীজ সেখানে স্থাপন করা হয়। এবার মালচিং পেপার ছিদ্র করে বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার পর, তা মাচায় প্রতিস্থাপন করা হয়। যেহেতু বীজগুলো পলিথিন দিয়ে মোড়ানো থাকে, তাই কোনও কীট-পতঙ্গ আক্রমণ করতে পারে না। ফলে কীটনাশক ব্যবহারেরও প্রয়োজন হয় না।

একই কারণে ক্ষতিকর সূর্যালোকও এর ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। সাধারণ পদ্ধতিতে অনেক সময় বৃষ্টি হলে বীজতলা বা ক্ষেত থেকে সার ধুয়ে যায়। মালচিং পেপার দিয়ে মোড়ানো থাকায় এখানে সেই সম্ভাবনাও নেই। সাধারণ পদ্ধতির চেয়ে নতুন এই পদ্ধতিতে গাছগুলো দেড়গুণ তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে বলে জানা যায়।

এই মৌসুমে দশমিনা সদরের কাটাখালী, লক্ষ্মীপুর ও রণগোপালী ইউনিয়নে পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজের চাষ হয়েছে।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।