মাদারীপুরে চুরির অপবাদে ব্যবসায়ীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১ অক্টোবর ২০২২, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
মাদারীপুরে চুরির অপবাদে ব্যবসায়ীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

মাদারীপুরের রাজৈরে কথিত চুরির অভিযোগ এনে দোকান থেকে তুলে নিয়ে দুইদিন আটকে রেখে ফল ব্যবসায়ী রবিউল শেখকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ গুরুতর অবস্থায় শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে রবিউলকে উদ্ধারের পর রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নির্মম এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার (১ অক্টোবর) মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি সুষ্ঠু বিচার দাবী করেছেন স্বজনরা। এরইমধ্যে প্রধান অভিযুক্ত সুমন শেখকে গ্রেফতার করেছে রাজৈর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত সুমন রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের মৃত ফজলু শেখের ছেলে।

সরেজমিনে হাসপাতালে দেখা যায়, মধ্যযুগীয় কায়দায় তার উপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। প্রচন্ড ব্যথার যন্ত্রনায় হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন ফল ব্যবসায়ী রবিউল শেখ। ভুলতে পারছেন না নির্মম নির্যাতনের কথা। ভুক্তভোগী রবিউল শেখ (৩০) রাজৈর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ঘোষালকান্দি এলাকার মৃত খোকন শেখের ছেলে ও সে টেকেরহাট বন্দর এলাকায় ‘মায়ের দোয়া ফল ভান্ডার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছেন।

ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, কথিত চুরির অভিযোগ এনে গত বুধবার রাতে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় রবিউল শেখকে। পরে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার হরিশ্চর এলাকার একটি ঘরে আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দার উলঙ্গ করে পাশবিক নির্যাতন চালায় ৪-৫ জন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশকে খবর দেয়। শুক্রবার রাতে রবিউলকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবীতে শনিবার টেকেরহাট বাসস্ট্যান্ডে মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত সুমন শেখ জানায়, আমার মামার গ্যারেজ থেকে ইজিবাইক চুরি হয়। সন্দেহ ভাজন হিসেব রবিউলকে অন্যান্য লোকের সঙ্গে আমিও জিজ্ঞাসাবাদ করি। এ সময় আমার গ্রামের সম্মান রক্ষার্থে অন্যান্যদের সঙ্গে আমিও কলার ডগা দিয়ে দুটি বারি দেই।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. হামিদা আক্তার বলেন, রবিউলের উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তার অবস্থা স্থীতিশীল। রবিউলের শরীরে মারধর ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

মাদারীপুরের রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, এরইমধ্যে প্রধান অভিযুক্ত সুমন শেখকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।

এদিকে, মা-বাবা হারা এতিম রবিউলের চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সংসারে স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে রবিউলের।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।