মধ্য জুনে বাজারে আসছে হাঁড়িভাঙা

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২২ মে ২০২২, ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
মধ্য জুনে বাজারে আসছে হাঁড়িভাঙা

রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙা আম বাজারে আসা শুরু হবে মধ্য জুনে। গাছে থাকা আম নীরোগ রাখতে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানিরা। সুস্বাদু ও আঁশবিহীন হাঁড়িভাঙা আম কিনতে দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের আনাগোনায় বাগানগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সরকার নির্ধারিত সময়ের আগে হাঁড়িভাঙা আম বাজারজাত বন্ধে প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতনরা।

রংপুরের মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি আমবাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছে গাছে ঝুলছে প্রায় পরিপকস্ফ আম। তবে এবার আমের ফলন তুলনামূলক কম। এ বছর কয়েক দফায় ঝড়ের কবলে পড়েছে আমবাগানগুলো। এতে গুটি থেকে যেমন অনেক আম পড়েছে, আবার শিলাবৃষ্টিতেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাগানগুলো। টিকে থাকা আম বাজারজাতে তাই বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। পাশাপাশি আমের স্থানীয় হাট সংস্কার, হাটের কাছে কুরিয়ার সার্ভিসের শাখা খোলার জোর প্রস্তুতিও চলছে। স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা শুরু করেছেন আম পরিবহনের ক্যারেট সংগ্রহ ও বাঁশের খাঁচা তৈরির কাজ।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, হাঁড়িভাঙার জন্য প্রসিদ্ধ রংপুরের মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলা। জেলার সিংহভাগ আমের ফলন হয় এ দুই উপজেলায়। কম শ্রম ও পুঁজি বিনিয়োগে বেশি মুনাফার কারণে অনেকে ধানসহ অন্য ফসলের বদলে হাঁড়িভাঙা আম চাষে ঝুঁকছেন। চলতি বছর জেলায় ৩ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে রয়েছে হাঁড়িভাঙা। সুস্বাদু এ আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৪ হাজার টন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

এদিকে অপরিপকস্ফ আম বাজারজাত ঠেকাতে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কঠোর নজরদারি শুরু করেছেন। ২০ জুনের আগে হাঁড়িভাঙা আম বাজারজাত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। এ নিয়ে মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জে দফায় দফায় সভা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আম চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ইউএনও আবু সাঈদ জানিয়েছেন, কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করে আম পাকানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিঠাপুকুর আখিরাহাটের আম চাষি মোশাররফ হোসেন বলেন, ঘন ঘন বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে আমবাগান কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার ফলনও কম। বেশি বৃষ্টির কারণে মাছির উৎপাতও বেড়েছে। মাছি দমনে বাগানে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। গত বছর মৌসুমের শুরুতে হাঁড়িভাঙা মণপ্রতি ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার দাম বাড়বে। শুরুতে ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা দাম হতে পারে। পরে আরও দাম বাড়বে।

মিঠাপুকুরের পাইকারহাটের ইজারাদার আইয়ুব আলী জানান, এবার আমের যে ফলন, তাই হাট জমবে কিনা শঙ্কা রয়েছে। তবে চাষিরা যেন হাটে এসে স্বাচ্ছন্দ্যে আম বিক্রি করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, গত বছরের তুলনায় ফলন কম হলেও গাছে সন্তোষজনক আম রয়েছে। আগামী ২০ জুন থেকে হাঁড়িভাঙা আম বাজারজাত করা যাবে। এ নিয়ে বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলা প্রশাসনকে নিয়ে সভা করা হয়েছে। কারণ, আগাম আম বিক্রি করলে হাঁড়িভাঙার প্রকৃত স্বাদ পান না ভোক্তারা। আশা করছি, এ বছরও হাঁড়িভাঙা আমে ভালো লাভ হবে। কৃষকরা উপকৃত হবেন।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।