ভিক্ষুক হামিদার চোখে নতুন দিনের স্বপ্ন – U.S. Bangla News




ভিক্ষুক হামিদার চোখে নতুন দিনের স্বপ্ন

ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স:-
আপডেটঃ ২২ মার্চ, ২০২৩ | ৭:০৭
চার দশক আগে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তখন থেকেই ভিক্ষা করে জীবন কাটছে হামিদা বেগমের। খেয়ে না-খেয়ে দুই সন্তানকে বড় করেছেন। মেয়ে ফরিদা বেগমকে বিয়ে দেওয়ার পর শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। ছেলে সুমন মিয়া কুলির কাজ করে সংসার চালানোর ভার নিলেও অভাব-অনটন কাটেনি। তাই হামিদা বেগমকে শেষ বয়সেও ভিক্ষা করে চলতে হচ্ছে। তবে তাঁর জীবন এখন অনেকটা বদলে যাওয়ার পথে। চোখে নতুন দিনের স্বপ্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে আজই দুই শতক জমিসহ একটি সেমি পাকা ঘর পাচ্ছেন তিনি। এতে ছেলে, ছেলের স্ত্রী এবং তিন নাতিকে নিয়ে নিশ্চিন্তে বাকি জীবন কাটাতে পারবেন। ঘরসংলগ্ন জায়গায় চাষাবাদ করে কিংবা হাঁস-মুরগি

পালন করে বেঁচে থাকার অবলম্বন খুঁজে নেওয়ার সুযোগও মিলেছে। শুধু হামিদা বেগমই নন, আরও দুই ভিক্ষুক বিধবা নূর খাতুন ও আমেনা বেগম, গৃহপরিচারিকা ফিরোজা খাতুনসহ ১৪২ গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের ঠাঁই মিলেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে। আট একর খাসজমিতে গড়ে তোলা ঘরগুলোতে ঠাঁই পাওয়া অসহায়দের মাঝে এখন আনন্দ আর উৎসবের ছোঁয়া। মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর চতুর্থ পর্যায়ে এই ১৪২টি পরিবারসহ দেশের মোট ৩৯ হাজার ৩৬৫টি পরিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর পাচ্ছে। একই সঙ্গে সারাদেশের আরও সাতটি জেলার সব উপজেলাসহ মোট ১৫৯টি উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন হিসেবে ঘোষণা দেবেন শেখ হাসিনা। চতুর্থ পর্যায়ের ঘর হন্তান্তর উপলক্ষে সর্বত্র

সাজ সাজ রব। কাঁদতে কাঁদতে হামিদা বেগম বলছিলেন, ‘তিন মাসের ছেলে আর পাঁচ বছরের মেয়েকে রেখে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই অন্যের করুণায় বেঁচে থাকতে হয়েছে। রেলস্টেশনে কিংবা মাদ্রাসা আর হাসপাতালের বারান্দায় রাত কেটেছে। কত মানুষের লাথি-গুঁতা খেয়েছি, ঠেলা-ধাক্কা খেয়েছি। এখন আমার মা শেখ হাসিনা স্থান দিয়েছেন, ঘর দিয়েছেন। মায়ের জন্য দোয়া করি, তিনি যেন আরও অনেক অনেক বছর বেঁচে থেকে এমনিভাবেই মানুষের সেবা করে যেতে পারেন।’ আজ বুধবার বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে তিনটি উপজেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের হাতে দুই শতক জমিসহ ঘরের দলিলপত্র হস্তান্তর করবেন। এ উপলক্ষে শ্রীপুরের নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প, সিলেটের

গোয়াইনঘাট উপজেলার নওয়াগাঁও প্রকল্প এবং বরিশালের বানারীপাড়ার উত্তরপাড় প্রকল্পের আয়োজনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ মুজিব বর্ষে ‘দেশের একটি মানুষও গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না’– প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণার বাস্তবায়নে শুরু হয়েছিল আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের যাত্রা। এ জন্য সারাদেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা করে তাদের জমিসহ ঘর উপহার দেওয়া হচ্ছে। আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় প্রথম পর্যায়ে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি ৬৩ হাজার ৯৯৯টি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০ জুন ৫৩ হাজার ৩৩০টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। তৃতীয় পর্যায়ে নির্মাণ করা একক ঘরের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৬৭৪। এর মধ্যে

প্রথম ধাপে ৩২ হাজার ৯০৪টি ঘর হস্তান্তর হয়েছে গত বছরের ২৬ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় ধাপে ২১ জুলাই দুই শতাংশ জমির মালিকানাসহ আরও ২৬ হাজার ২২৯টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। আজ বুধবার চতুর্থ পর্যায়ে হস্তান্তর হচ্ছে দুই শতাংশ জমির মালিকানাসহ ৩৯ হাজার ৩৬৫টি ঘর। চার পর্যায়ে মোট একক গৃহের সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজার ৮২৭। চতুর্থ পর্যায়ে নির্মাণাধীন ঘরের সংখ্যা ২২ হাজার ৬। নির্মাণকাজ শেষ হলে এসব ঘর তুলে দেওয়া হবে ভূমিহীন ও দুস্থ পরিবারগুলোর হাতে। চতুর্থ পর্যায়ের ঘরগুলোর মধ্যে চরাঞ্চলে বিশেষ নকশার ঘরের সংখ্যা ১ হাজার ৩৭৩ এবং পার্বত্যাঞ্চলে মাচাং ঘর ৬৩৪টি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র বলছে, ১৯৯৭ সাল থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের

আওতায় ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯৭টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ঘর নির্মাণ করে ১৯৯৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পুনর্বাসন করা হয়েছে ৭ লাখ ৭১ লাখ ৩০১ পরিবারকে। পাঁচজন করে এক পরিবার হিসেবে পুনর্বাসিত হয়েছেন ৩৮ লাখ ৫৬ হাজার ৫০৫ জন। আজ ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হবে মাদারীপুর, গাজীপুর, নরসিংদী, রাজশাহী, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং চুয়াডাঙ্গা– এই সাত জেলার সব উপজেলাসহ মোট ১৫৯টি উপজেলাকে। এর আগে পঞ্চগড় ও মাগুরা জেলার সব উপজেলাসহ মোট ৫২টি উপজেলাকে ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে জানা গেল, গৃহহীন-ভূমিহীনদের শুধু ঘরই দেওয়া হচ্ছে না; থাকছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা, খাবার পানির জন্য কল ও ডিপ টিউবওয়েল।

আশ্রয় পাওয়া লোকজন ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর সুযোগও পাচ্ছেন। সুবিধাভোগীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে অন্যান্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে। সুবিধাভোগীদের জন্য তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে স্কুল, মসজিদ, খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার, পুকুর ইত্যাদি। এখানে একটি কবরস্থানও রয়েছে। গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ সাংবাদিকদের বলেন, গৃহহীনদের ঘর তৈরি করে দেওয়া সারা পৃথিবীতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান বলেন, এমন একটি মহৎ প্রকল্পে যুক্ত থেকে নিজেদের গৌরবান্বিত মনে করছি।
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
উপজেলা ভোট: প্রথম ধাপে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ১৮৯১ জন ঈদের ছুটি শেষে স্বস্তিতে ফিরছে মানুষ ঈদের আগে মেয়েকে নিয়ে দেশ ছেড়েছেন জাপানি মা ‘শেখ হাসিনা স্বর্ণযুগ উপভোগ করছেন’ ওমানে আবহাওয়াজনিত দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত সিডনিতে আবারও ছুরি হামলা মালয়েশিয়া প্রবাসীর লাশ নিচ্ছে না পরিবার নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ভরদুপুরে প্রকাশ্যে ইউপি সদস্যকে গুলি করে-গলা কেটে হত্যা ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, আ.লীগ নেতা বড় মনিকে দল থেকে অব্যাহতি মন্ত্রীরা ভাঁওতাবাজির মাধ্যমে মানসিক আশ্রয় খুঁজছেন: রিজভী মুক্তিপণের বিষয়টি সিনেমা মনে হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী যে কথা বার বার বলছে ইরান ওমরাহ ভিসার মেয়াদ জানাল সৌদি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের ব্যারিস্টার রফিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি, হাসপাতালে ভর্তি যে কারণে পাকিস্তানে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট দ্বাদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ২ মে আইপিএলে ফর্মে থাকায় ছুটি বাড়ল মোস্তাফিজের যৌনকর্মীদের নিয়ে ‘নীলপদ্ম’, প্রিমিয়ার হচ্ছে নিউইয়র্কে