ব্যাটিং অবহেলায় সিরিজ হার বাংলাদেশের

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
ব্যাটিং অবহেলায় সিরিজ হার বাংলাদেশের

যে কাজটি এর আগে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে কখনই করতে পারেনি বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধেও তা করতে পারল না। ২১৫ রানের বেশি টার্গেট নিয়ে কখনই টেস্ট জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুড়ে দেয়া ২৩১ রানের টার্গেট অতিক্রম করতে পারল না। চতুর্থদিনেই খেলা শেষ হলো। দিনটিতে দুই সেশনে ২১৩ রান করতেই অলআউট হয়। ১৭ রানে হেরে গেল দ্বিতীয় টেস্ট। প্রথম টেস্ট ৩ উইকেটে হারায় ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারের সঙ্গে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ।

ভালবাসা দিবসে হৃদয় জয় করতে পারতেন বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা। কিন্তু পারলেন না তারা। তৃতীয়দিন শেষবেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে আশার বেলুন ওড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ। তবে বিপদ পুরোপুরি তখনও কাটেনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ৪০৯ রান করার পর বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৯৬ রানে অলআউট হয়। দ্বিতীয় ইনিংসের তৃতীয়দিন শেষে ৪১ রান করায় বাংলাদেশের চেয়ে ১৫৪ রানে এগিয়ে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচের আসল চিত্র যে চতুর্থদিনই মিলবে তা আগে থেকেই বোঝা যায়। যেভাবে উইকেটে বল তৃতীয়দিনই ঘুরতে থাকে তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্রুতই অলআউট করার আশা দেখা দেয়। কিন্তু তা যদি কোন কারণে না করতে পারে বাংলাদেশ। সেই ভাবনাও কুরিয়ে মারে। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বোলাররা তাইজুল (৪/৩৬), নাঈম (৩/৩৪), রাহী (২/৩২) মিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্রুতই অলআউট করে দেখান। ১১৭ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বাংলাদেশের সামনে ২৩১ রানের টার্গেট পড়ে। জিততে ১০ উইকেট হাতে। সঙ্গে চতুর্থদিনের দুই সেশন ও পঞ্চমদিনের তিন সেশনও থাকে। বাংলাদেশ চতুর্থদিনের দুই সেশনেই কুপোকাত হয়ে যায়। ম্যাচসেরা রাকিম কর্নওয়াল (৪/১০৫), ওয়ারিকান (৩/৪৭) ও ব্রেথওয়েট (৩/২৫) মিলে এমনই দুর্দান্ত বোলিং করেন ২১৩ রানেই অল আউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। দিন শেষ হওয়ার আগেই গুটিয়ে যায়। নিজেদের মাটিতে ২০১২ সালে সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারের সঙ্গে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৮ বছর পর নিজেদের মাটিতে আবার টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ। এবারও সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধেই।

তামিম ইকবাল ৫০ রান করে আউট হওয়ার আগেই সৌম্য সরকার সাজঘরে ফেরেন। এরপর ব্যর্থতার মধ্যেই আটকে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তও আউট হয়ে যান। মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম যেভাবে খেলছিলেন মনে হচ্ছিল অনেকদূর যাবেন। কিন্তু ৭৮ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর দলকে ১০১ রানে নিয়ে যেতেই মুশফিক ক্যাচ আউট হয়ে যান। দল বিপদে পড়ে যায়। সেই বিপদ আরও বাড়ে যখন দলের ১১৫ রানে গিয়ে মোহাম্মদ মিঠুনও অহেতুক ক্যাচ আউট হয়ে যান। মুমিনুল অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনভাবেই নিজেকে আউট হওয়া থেকে বাঁচাতে পারেননি।

দলের ১৪৭ রানে গিয়ে মুমিনুল আউট হতেই ৬ উইকেটের পতন ঘটে। আর ৬ রান যোগ হতেই লিটন অহেতুক আউট হয়ে গেলেন। তাইজুল ইসলাম আসেন আর সাজঘরে ফিরেন। ম্যাচ হারের ধাঁধায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। শেষ মুহূর্তে নাঈম বলে ব্যাট লাগানোর কোন চেষ্টাই না করে এতটাই জঘন্য আউট হলেন যা দেখতেও খারাপ লেগেছে। বাংলাদেশের হার যেন তখনই সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত মিরাজ (৩১) একা আর কত চেষ্টা করবেন। জিততে যখন ১৮ রান লাগে তখন নিজে ক্যাচ আউট হয়ে যান। উইকেটে অনেকক্ষণ ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন। উৎসব চলতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটারদের মধ্যে। তা দেখতে থাকেন হতাশ মিরাজ। সাজঘরে মাথায় হাত রেখে হতাশায় নুয়ে পড়া মুখগুলোও টিভিতে দেখা যেতে থাকে।

তৃতীয়দিন শেষে ৮ রানে উইকেটে থাকেন সিরিজসেরা হওয়া এনক্রুমাহ বোনার। তার সঙ্গে ২ রানে উইকেটে থাকা জোমেল ওয়ারিকানের পর যদি কাইল মেয়ার্স, জার্মেইন ব্ল্যাকউড, জসুয়া দা সিলভা, আলজারি জোসেফ, রাকিম কর্নওয়ালদের মধ্যে একজন বড় ইনিংস খেলে দেন। একটি বড় জুটি যদি হয়ে যায়। তাহলেই তো বিপদ কাঁধে ভর করতে পারে। এমন ভাবনাই হয়। কিন্তু চতুর্থদিনের শুরুটা এত দুর্দান্ত হয়ে যায় যে শেষ পর্যন্ত মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের জয়ের আশা তৈরি হয়। চতুর্থদিন প্রথম সেশনেই ৩ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আবু জায়েদ রাহীর পেস আক্রমণের সঙ্গে তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণি বলে পরাস্ত হন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা। চতুর্থদিনের শুরুতেই ওয়ারিকান ও মেয়ার্সকে আউট করে দেন রাহী। বাংলাদেশের স্বপ্ন জেগে যেতে থাকে। এরপর যখন ব্ল্যাকউডকে সাজঘরে ফেরান তাইজুল তখন আশা বড় হতে থাকে।

দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই আশা পুরোপুরি তৈরি হয়ে যায়। টপাটপ উইকেট পড়তে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। হাতে থাকা বাকি চার উইকেট মুহূর্তেই পড়ে যায়। তাইজুল টানা দুই উইকেট নেয়ার পর নাঈম হাসান ঘূর্ণি জাদু দেখিয়ে আরও দুটি উইকেট শিকার করে। সিলভাকে আউট করার পর জোসেফকেও সাজঘরের পথ দেখান তাইজুল।

এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করা বোনারকে ও রাকিম কর্নওয়ালকে আউট করেন নাঈম। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১৭ রানেই গুটিয়ে যায়। তৃতীয়দিনের ৪১ রানের সঙ্গে আর ৭৬ রান যোগ করতেই অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এত কম রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুটিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ জয়ের আশাও তৈরি করে। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় জয়ের দেখা আর মিলেনি। হারই হয়েছে নিয়তি। আর এই হারে হোয়াইটওয়াশও হলো বাংলাদেশ।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।