ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে সারাদেশে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৭ এপ্রিল ২০২১, ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে সারাদেশে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীতে টানা তৃতীয় দিনের মতো কয়েকটি স্থানে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। বিক্ষোভ মিছিলে ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেক নারী উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ কর্মসূচীর সংবাদ পাঠিয়েছেন আমাদের স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতারা। ব্যবসায়ীদের দাবি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে না পারলে তাদের না খেয়ে মরতে হবে। সামনে রমজান এবং ঈদ। বছরের এই সময় তারা সারা বছরের সঞ্চয় করে থাকেন। এই সময় মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে না পারলে সারা বছরেও তা পূরণ করা সম্ভব হবে না। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দোকানপাট খুলতে চান। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।

রাজধানীতে বিক্ষোভ ॥ তৃতীয়দিনের মতো মঙ্গলবার সকাল থেকে মার্কেট ও শপিংমল খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন ঢাকার নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনীচক, নূর ম্যানশন, হোসেনিয়া মার্কেট, ইসমাইল ম্যানসন, ধানম-ি হকার্স মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, ইস্টার্ন প্লাজা শপিংমল, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা। এ সময় চাঁদনী চক মার্কেটের সামনের রাস্তায় তারা অবস্থান নেয়। নিউমার্কেটে কয়েক শতাধিক দোকান মালিক, ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা মিলে বিক্ষোভ করে এবং বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নিউমার্কেট এলাকার চাঁদনী চক শপিং কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। আবুল হোসেন, বুলবুলসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না টিকলে দেশও টিকবে না। আমরা নির্দিষ্ট একটা সময় মার্কেট খোলা রাখতে চাই। রমজানে দোকান খোলা না থাকলে কী হবে, জানি না। গত বছরের ক্ষতিই পুষিয়ে উঠতে পারিনি। কথা বলতে বলতে অনেক ব্যবসায়ী কেঁদে ফেলেন। এই চাঁদনী চক মার্কেটের সামনের রাস্তায় ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে হবে’ প্ল্যাকার্ড হাতে বিমর্ষ বদনে বসেছিলেন আরফিন নামে এক তরুণী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। প্রখর সূর্যতাপে ওই তরুণী বসে ব্যবসায়ীদের মাঝে স্লোগান দিচ্ছিলেন। চাঁদনী চক মার্কেটের সামনে একাত্মতা প্রকাশ করেন নিউমার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, নূর ম্যানশন, হোসেনিয়া মার্কেট, ধানম-ি হকার্স মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটের কর্মচারীরা।

নারায়ণগঞ্জের লালকুঠি এলাকা থেকে এসে এই বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেন দিলশাদ আফরিন নামে এক তরুণী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। তিনি জানান, গতবছর করোনা মহামারীর কারণে তিনি ব্যবসায়িকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হন। ওই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিলেন। শুধু তিনি একা নন। তার সঙ্গে স্বপ্ন দেখছেন ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত আরও শত শত নারী উদ্যোক্তা। আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে তারা কেউ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আবার কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। গতবার লকডাউনে যে ক্ষতি হয়েছিল এবার তা পুষিয়ে নেয়ার আশা দেখছিলেন তারা। নতুন করে লকডাউন শুরু হওয়ায় তাদের সে স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল। এই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। আফরিন জানান, তিনি ইসলামপুর ও গাউছিয়া থেকে থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন পোশাকের অর্ডার নিয়ে সেগুলোতে বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ যেমন- কারচুপির কাজ, স্টোন বসানোর কাজ করে দেন। প্রতিবছর রোজা শুরুর আগে নিজ খরচে পোশাকে এসব কাজ করে ব্যবসায়ীদের দেন তিনি। ২৫ রোজার পর দোকান মালিকরা তাকে টাকার হিসাব বুঝিয়ে দেন। লকডাউনের কারণে যদি মার্কেট বন্ধ থাকে তাহলে ব্যবসায়ীরা টাকা দেবে কোথা থেকে? আর তারা টাকা দিতে না পারলে আমি কারিগরসহ অন্যদের বিল পরিশোধ করব কোথা থেকে? কয়েকদিন ধরে আমার রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। লকডাউনের কারণে আর্থিক ক্ষতি যেমন এনজিও থেকে কিস্তির ঋণ, কারিগরের বেতনসহ নানা ঋণের বোঝা নিয়ে মরণ ছাড়া উপায় থাকবে না।

আফরিন জানান, বগুড়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকায় তার অধীনে দেড় শতাধিক কর্মচারী কাজ করেন। কেবল রাজধানীর ইসলামপুরে তিনি ২৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের পোশাকের কাজ করেছেন। এখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে কেউ তাকে টাকা দেবেন না। আমার মতো হাজারো নারী উদ্যোক্তা ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। উদ্যোক্তা হয়েছে। অনেক নারী উদ্যোক্তাই এখন খেয়ে না খেয়ে আছে। এখন সবারই না খেয়ে মরতে হবে।

চাঁদনী চক বিজনেস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, গত বছরের সাধারণ ছুটি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ধাক্কা জানুয়ারি মাস থেকে একটু একটু করে সামলে উঠছেন তারা। তিনি জানান, আমাদের কাপড়টা পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে যাবে। তারপর কাস্টমাররা কিনবেন, তারপর টেইলরের কাছে বানাতে দেবে। আমাদের পিক আওয়ার এখন। থ্রিপিস এবং অন্যান্য জামা ১০ থেকে ১৫ রোজার পর আর বিক্রি হয় না। কারণ টেইলরের কাজ থাকে পরে। টেইলর যদি অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দেন, তখন তাঁদের কাপড়ও কেউ কিনবে না। আমরা যে বিনিয়োগ করেছি, সেই টাকা কাপড় প্রস্তুতকারী, ব্যাংকের ঋণ, দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, পারিবারিক খরচ এগুলোর পেছনে খরচ করা হয়। সব মিলিয়ে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত। এমনকি আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রীয় প্রণোদনাও পাই না। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইস্টার্ন প্লাজার সামনে মানববন্ধন করেছে ইস্টার্ন প্লাজা দোকান মালিক, ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা।

মার্কেট খোলার দাবিতে দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর মোড়ে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে ওই এলাকার বিভিন্ন সড়কে মিছিল করেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় প্রায় আধা ঘণ্টা মিরপুর ১ ও এর আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে ঘিরে রাখে। মিরপুর ১ নম্বর এলাকায় কো-অপারেটিভ মার্কেটের কয়েক ব্যবসায়ী জানান, সরকার বিধিনিষেধ দিলেও অফিস-আদালত, বইমেলা, শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে অনেক কিছুই খোলা রেখেছে। তারাও তাদের দোকান সীমিত আকারে খুলতে চান। এই দাবি নিয়ে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করছেন। তারা সেখান থেকে মিছিল নিয়ে সনি সিনেমা হলের সামনের মোড় হয়ে আবার ১ নম্বর মোড়ে ক্যাপিটাল টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এসে জড়ো হন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর চালানোর চেষ্টা চালায়। তবে কয়েকজনের বাধায় তারা গাড়ি ভাংচুর করতে পারেননি।

অপরদিকে সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল এলাকায় মার্কেট খোলার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন সেখানকার ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা। এ সময় বিভিন্ন মার্কেটের দুই শতাধিক ব্যবসায়ী এতে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে নিজ দায়িত্বে রাস্তা থেকে সরে যান ব্যবসায়ীরা। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে করেছে কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। এ সময় অবিলম্বে দোকান খোলার অনুমতি না দিলে, নিজেরাই নিজেদের মতো করে দোকান খোলা রাখবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। পরে একটি মিছিল নারায়ণগঞ্জ শররের দুই নম্বর রেলগেট ঘুরে প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।

নিউমার্কেট এলাকায় লকডাউনের প্রতিবাদে ও মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভকালে গাড়ির ভাংচুরের ঘটনায় দুইটি মামলা হয়েছে। রবিবার রাতে নিউমার্কেট থানায় অজ্ঞাতনামা তিন হাজার ৬০০ জনকে আসামি করে মামলা দুটি দায়ের করা হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ॥ সিলেট থেকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান, লকডাউনের নিয়ম ভেঙ্গে বিক্ষোভ করেছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে তারা মঙ্গলবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সোমবার থেকে সিলেটসহ সারাদেশে শুরু হয়েছে এক সপ্তাহের লকডাউন। এ সময়ে সবধরনের সভা-সমাবেশ ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর জিন্দাবাজারে ‘সিলেটের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীবৃন্দ’র ব্যানারে মিছিল বের করেন ব্যবসায়ীরা। মিছিল নিয়ে কোর্ট পয়েন্টে গিয়ে প্রায় আধাঘণ্টা মানববন্ধন করেন। এরপর ব্যবসায়ীরা মিছিল নিয়ে জিন্দাবাজার পয়েন্টে এসে সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। করোনার কারণে লকডাউন থাকায় গেল বছরও ঈদে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করা থেকে বঞ্চিত হন।

বরিশাল ॥ বরিশাল থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে দুপুরে নগরীর গীর্জা মহল্লার ব্যবসায়ী ও মোবাইল মার্কেটের কয়েক শ’ ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী রাস্তায় অবস্থান করে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে মিছিল নিয়ে সদর রোড অতিক্রমকালে পুলিশ এসে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে আন্দোলন থেকে ঘরে ফেরার অনুরোধ জানায়। এরপর তারা আন্দোলন স্থগিত করেন। সিরাজগঞ্জ ॥ সিরাজগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, লকডাউনের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সকালে সিরাজগঞ্জ শহর ব্যবসায়ী সমিতি ও দোকান কর্মচারী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলার দাবিতে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। শহর ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসুচীতে বক্তব্য দেন শহর ব্যবসায়ী সমিতি’র সভাপতি গোলাম মোস্তফা তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রবিন, ফরিয়াপট্টি ব্যবসায়ী সমিতি’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম খান, রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী সমিতি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম, শহর ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক জুলকার নাঈমসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। বক্তরা জীবিকার স্বার্থে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা দাবি জানান। পরে ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে এস, এস, রোড থেকে শুরু হয়ে মুজিব সড়ক, বাজার স্টেশন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হয়ে নিউমার্কেট গিয়ে এ শেষ হয়।

টাঙ্গাইল ॥ টাঙ্গাইল থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, লকডাউনে টাঙ্গাইল ও মির্জাপুরে মার্কেট ও শপিংমল খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের সমবায় সুপার মার্কেটের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে শহরের বিভিন্ন মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন।

বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের ব্যবসা ভাল যাচ্ছে না। ঈদ ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ইতোমধ্যে দোকানগুলোতে পোশাক সংগ্রহ করা হয়েছে। এই অবস্থায় লকডাউনের কারণে দোকান খোলা রাখতে না পারলে আমাদের পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। দোকান খোলা রাখতে সরকার ঘোষিত যে কোন স্বাস্থ্য বিধি মেনে আমরা ব্যবসা পরিচালনা করতে চাই। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম ও টাঙ্গাইল চেম্বারের সভাপতি খান আহমেদ শুভ সেখানে উপস্থিত হয়ে ব্যবসায়ীদের এভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন না করার অনুরোধ জানান। যে কোন বিষয়ে কথা বলতে চাইলে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন। পরে ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেন।

গাইবান্ধা ॥ গাইবান্ধা থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, লকডাউন মানি না মানবো এই স্লোগানে গাইবান্ধার বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা মঙ্গলবার সকালে জেলা শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। শহরের নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ীরা সমবেত হয়। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সদর থানা পুলিশ খবর পেয়ে মিছিলটি বাধা প্রদান করে। এ সময় পুলিশের বাধায় ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল প্রত্যাহার করে সরে পড়ে। বিক্ষোভ মিছিলে বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে ব্যবসায়ীরা সাংবাদিকদের জানান, যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা সবই খোলা রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরাও আসন্ন রমজান ও ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে যথারীতি স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে তারা ব্যবসা অব্যাহত রাখতে চান।

সাভার ॥ সাভার থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, বিপণি বিতান খোলার দাবিতে সাভার ও ধামরাইয়ে পৃথক স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার সকালে সাভার মডেল থানাধীন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড ও ধামরাই বাজারে এ বিক্ষোভ কর্মসূচী করে বিভিন্ন দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা। ব্যবসায়ীরা বলনে, সরকার দোকান খোলার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিলে আমরা উপকৃত হব। কলাপাড়া ॥ কলাপাড়া থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলার দাবিতে কলাপাড়া পৌরশহরের ব্যবসায়ীরা মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বন্দর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ সিকদার। ব্যবসায়ীরা জানান, করোনার প্রথম দফায় লকডাউনে তারা নিস্ব হয়ে গেছেন। এখন দ্বিতীয় দফায় লকডাউনে দোকানাপাট বন্ধ রাখায় জীবন-জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ু

সাতক্ষীরা ॥ স্টাফ রিপোর্টার সাতক্ষীরা থেকে জানান, পূর্ব ঘোষিত লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে সাতক্ষীরায় দোকান খোলা রাখা, শ্রমিকদের বেতন বোনাস ঠিকমতো পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে বস্ত্র ব্যবসায়ী কর্মচারী শ্রমিকরা। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বড়বাজার সংলগ্ন ফাল্গুনি বস্ত্রালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে তারা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গতবারের লকডাউনে তাদের মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে। কোন প্রকার সাহায্য তারা পায়নি। তারা সকাল ৮ থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা করার অনুমতি পান সে জন্য সরকারের কাছে দাবি রাখেন ।

এদিকে, আইন অমান্য করে দোকান খোলা রাখার অপরাধে শহরের ফাল্গুনি বস্ত্রালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সময় শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়েন সাতক্ষীরা সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান। পরে সেখানে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হাতিয়া ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা হাতিয়া থেকে জানান, লকডাউন প্রত্যাহারের দাবিতে রাস্তায় টায়ারে আগুন দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে রেখেছিল ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার বিকেলে নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার উপজেলা সদর ওচখালীতে এই অবরোধের ঘটনা ঘটে। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের এই অবরোধ অব্যাহত ছিল। এই সময় হাতিয়া থানা পুলিশ ছিল অনেকটা নির্বাক।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।