বোয়ালখালীতে ইভিএম নিয়ে গেলেন যুবলীগ নেতা – U.S. Bangla News




বোয়ালখালীতে ইভিএম নিয়ে গেলেন যুবলীগ নেতা

ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স:-
আপডেটঃ ১৭ মার্চ, ২০২৩ | ৫:২২
প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, কেন্দ্রে হাতবোমা বিস্ফোরণ-গুলি, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বাইরে নেওয়াসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকারের শতাধিক পদে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে আটটি পৌরসভা, ১৬ উপজেলার ৪৬টি ইউপিতে সাধারণ নির্বাচন ও ৫১ উপজেলার ৫৬টি ইউপির বিভিন্ন পদে উপনির্বাচন এবং বরগুনার আমতলী উপজেলার চেয়ারম্যান পদে পুনর্নির্বাচন হয়। ইভিএমে ভোট নিয়ে বিড়ম্বনার অভিযোগ করেছেন ভোটাররা। কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতিও ছিল কম। এদিকে, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গতকাল ভোট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের (ইসি) সচিব মো. জাহাংগীর আলম বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, জেলা ও মাঠ পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।’ চট্টগ্রামের

বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ছিল ফাঁকা। চরণদ্বীপ রজভীয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের গোপন কক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ইলিয়াছ জাফরকে ইভিএম মেশিনের প্যানেল ইউনিট দখলে রাখতে দেখা যায়। অনেকে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন। অবশ্য ফলাফলে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজা ৩০ হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম স্বতন্ত্র শাহজাদা এসএম মিজানুর রহমান পেয়েছেন ২ হাজার ৯০৮ ভোট। রেজাউল করিম বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়নি।’ তবে মিজানুর রহমান বলেন, ‘বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি।’ বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা রমণী মোহন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ইভিএমের ব্যালট ইউনিট দুপুর ১২টার দিকে

বাইরে নিয়ে যান ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নির্মলেন্দু দে সুমন। পরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রতন চৌধুরী সেটি ফেরত দিতে এলে তাঁকে আটক করা হয় বলে জানান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সজল দাশ বলেন, ‘প্যানেলটি নষ্ট ছিল। ভোটারদের দেখানোর জন্য বুথে রাখা হয়েছিল। কীভাবে বাইরে গেছে, আমার জানা নেই।’ এ ছাড়া দরবার দীঘিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটাররা আঙুলের ছাপ দিলেও গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দিতে পারেননি। কেন্দ্রটি দিনভর যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন দখলে রাখেন। একইভাবে মসজিদবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন খোকন এবং জ্যৈষ্ঠপুরা ইসলামিয়া হামিদিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র দখলে রাখেন ইউনিয়ন

ছাত্রলীগ সভাপতি ইউনুছ আজম খোকন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। সিলেট সদর উপজেলার বিমানবন্দর এলাকার খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রে গুলিবর্ষণ করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আধাঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। অন্যান্য কেন্দ্রেও উত্তেজনা, বিশৃঙ্খলা এবং ইভিএমে ভোট গ্রহণে ধীরগতি দেখা গেছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কনকাপৈত ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে ফল ঘোষণার পর পরাজিত প্রার্থীদের অনুসারীরা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আতাউর রহমানকে অবরুদ্ধ করে। এ সময় সেখানে পেট্রোল বোমা ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৪৫ রাউন্ড

শটগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়। লক্ষ্মীপুরের রামগতির চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইভিএমে ধীরগতির কারণে বিড়ম্বনায় পড়েন অনেকে। আঙুলের ছাপ না মেলায় অনেকে ভোট না দিয়ে ফিরে যান। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার কাজী হেকমত আলী জানান, এখানে ইভিএম পদ্ধতি নতুন হওয়ায় কিছু জটিলতা হয়েছে। এদিকে, ফরিদপুর সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ৭, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ২ ও বিএনপি সমর্থিত দু’জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিতরা হলেন– চরমাধবদিয়া ইউনিয়নে তুহিনুর রহমান খোকন মণ্ডল, ইশান গোপালপুর ইউনিয়নে শহিদুল ইসলাম মজনু, কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে বাশারুল আলম বাদশা, কৈজুরী ইউনিয়নে সিদ্দিক ফকির, গেরদা ইউনিয়নে এমআর হক, আলিয়াবাদ ইউনিয়নে ওমর ফারুক ডাবলু, নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে মোফাজ্জেল হোসেন,

ডিক্রীরচর ইউনিয়নে মেহেদী হাসান মিন্টু ফকির (বিদ্রোহী), মাচ্চর ইউনিয়নে জাহিদ মুন্সী (বিদ্রোহী), অম্বিকাপুর ইউনিয়নে নুরুল আলম (বিএনপি) ও কানাইপুর ইউনিয়নে শাহ আলতাফ (বিএনপি)। নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বাকলজোড়া ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউসুফ তালুকদার সাগর নৌকার প্রার্থী শফিকুল ইসলামকে, নরসিংদী সদরের মহিষাশুড়া ইউপিতে হাতপাখার প্রার্থী মুফতি কাওছার আহমাদ ভূইয়া নৌকার প্রার্থী এনামুল হককে এবং নূরালাপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ হোসেন নৌকার প্রার্থী মো. জাকারিয়াকে পরাজিত করেছেন। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পৌরসভায় নৌকার প্রার্থী নূরে আলম সিদ্দিকী ফের বিজয়ী হয়েছেন। গাজীপুর সদরের মির্জাপুর ইউপিতে মোশাররফ হোসেন দুলাল, পিরুজালীতে জালাল উদ্দিন ও ভাওয়ালগড়ে সালাহউদ্দিন সরকার বিজয়ী হয়েছেন। তিনজনই নৌকার প্রার্থী।
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
উপজেলা ভোট: প্রথম ধাপে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ১৮৯১ জন ঈদের ছুটি শেষে স্বস্তিতে ফিরছে মানুষ ঈদের আগে মেয়েকে নিয়ে দেশ ছেড়েছেন জাপানি মা ‘শেখ হাসিনা স্বর্ণযুগ উপভোগ করছেন’ ওমানে আবহাওয়াজনিত দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত সিডনিতে আবারও ছুরি হামলা মালয়েশিয়া প্রবাসীর লাশ নিচ্ছে না পরিবার নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ভরদুপুরে প্রকাশ্যে ইউপি সদস্যকে গুলি করে-গলা কেটে হত্যা ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, আ.লীগ নেতা বড় মনিকে দল থেকে অব্যাহতি মন্ত্রীরা ভাঁওতাবাজির মাধ্যমে মানসিক আশ্রয় খুঁজছেন: রিজভী মুক্তিপণের বিষয়টি সিনেমা মনে হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী যে কথা বার বার বলছে ইরান ওমরাহ ভিসার মেয়াদ জানাল সৌদি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের ব্যারিস্টার রফিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি, হাসপাতালে ভর্তি যে কারণে পাকিস্তানে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট দ্বাদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ২ মে আইপিএলে ফর্মে থাকায় ছুটি বাড়ল মোস্তাফিজের যৌনকর্মীদের নিয়ে ‘নীলপদ্ম’, প্রিমিয়ার হচ্ছে নিউইয়র্কে